গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রামমন্দিরে হওয়া অনুদান চুরির দায় কোনও ভাবেই তাদের নয় বলে আজ দাবি করলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) নেতৃত্ব। মন্দিরের সর্বেসর্বা হিসেবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা চম্পত রাইয়ের যাবতীয় কাজকর্মের দায় সংগঠনের নয় বলে দাবি করেছে ভিএইচপি। অনুদান কেলেঙ্কারি সামনে আসার পরে আজ কংগ্রেস নেতারা রামমন্দিরে দর্শন করে প্রতিবাদের পরিকল্পনা নিলেও তাঁদের গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
রামমন্দিরের চুরি কাণ্ডে ইতিমধ্যেই আট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্দেহের আবর্তে রয়েছেন রামমন্দির জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রের সাধারণ সম্পাদক তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর সহ-সভাপতি চম্পত রাই। চুরি কাণ্ডে চম্পতের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হল, চুরির বিষয়ে জেনেও নীরব ছিলেন। কোনও ব্যবস্থা নেননি। এমনকি ওই চুরি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত রামশঙ্কর যাদব (টিন্নু) চম্পত রাইয়ের গাড়ির চালক ছিলেন।
সূত্রের মতে, চম্পতের গ্রেফতারির আশঙ্কা থাকাতেই তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছে ভিএইচপি। আজ সংগঠনের সভাপতি (আন্তর্জাতিক) অলোক কুমার সাফ জানিয়েছেন, মন্দির চালানোর দায় তাঁদের নয়। তাঁদের লক্ষ্য ছিল রাম জন্মভূমিতে মন্দির নির্মাণ। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের ভূমিকা শেষ। মন্দিরের কাজের দায় আরএসএস বা সরকারের উপরে চাপানো অনুচিত।’’ চম্পতের কারণে চুরির দায় যাতে সংগঠনের উপরে এসে না
পড়ে সেই লক্ষ্যে এক দিকে মন্দিরের যাবতীয় ভালমন্দের দায়িত্ব রামমন্দিরের অছি পরিষদের কোর্টে ঠেলে দিয়েছেন অলোক কুমার। তেমনই কৌশলগত দূরত্ব রচনা করেছেন চম্পতের সঙ্গেও। আজ অলোক বলেন, ‘‘রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চম্পত রাই যে সব পদক্ষেপ করেছেন তা থেকে আমি নিজেকে
দূরে রাখছি।’’
বিরোধীদের মতে, অনুদান চুরির বিষয়টি সামনে আসা ও চম্পতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কারণেই নিজেদের বদনাম এড়াতে এ ভাবে গোটা বিষয়টির সঙ্গে দূরত্ব রচনা করতে চাইছে ভিএইচপি।
রামমন্দিরের অনুদান চুরি কাণ্ড সামনে আসা সত্ত্বেও কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নীরব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। আজ প্রতিবাদ জানাতে রামমন্দিরে যাওয়ার কথা ছিল উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের। ওই রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই দাবি করেন, তিনি ও দলের নেতারা যাতে রামমন্দিরে যেতে না পারেন সে জন্য তাঁদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়। অজয়ের কটাক্ষ, ‘‘এরা মন্দিরের চুরি আটকাতে পারে না, কিন্তু ভক্তদের মন্দিরে যাওয়া আটকাতে পারে!’’ দলের রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ বলেন, ‘‘প্রধান অভিযুক্ত আরএসএস-বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ’’ পাল্টা আক্রমণে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘‘এই কংগ্রেস তো এক সময়ে রামের অস্তিত্ব মানত না। এখন সেই রামকে নিয়েই রাজনীতি করছে কংগ্রেস।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে