Zohran Mamdani on Umar Khalid

‘তোমার কথা মনে পড়ছে’, নিউ ইয়র্কের মেয়র পদে শপথ নিয়ে ভারতের জেলে বন্দি উমর খালিদকে লিখলেন মামদানি

প্রাক্তন ছাত্রনেতা ২০২০ সাল থেকে জেলে বন্দি। বুধবার নিউ ইয়র্কের মেয়র পদে শপথ নেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মামদানি। তার পরেই তাঁর হাতে লেখা চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে। চিঠিতে মামদানির স্বাক্ষর রয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৪
Share:

(বাঁ দিকে) দিল্লির প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ। নিউ ইয়র্কের মেয়র ভারতীয় বংশোদ্ভূত জ়োহরান মামদানি (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ভারতের জেলে গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি প্রাক্তন ছাত্রনেতার উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জ়োহরান মামদানি। হাতে লেখা চিঠিতে তাঁর কথা স্মরণ করলেন। জানালেন, তিনি এবং অন্য অনেকে ওই ছাত্রনেতাকে মনে রেখেছেন। এখনও তাঁর কথা মনে পড়ে।

Advertisement

দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী উমর খালিদ ২০২০ সাল থেকে জেলে। বৃহস্পতিবার (ভারতীয় সময়) নিউ ইয়র্কের মেয়র পদে আনুষ্ঠানিক ভাবে শপথ নিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মামদানি। তার পরেই উমরকে লেখা তাঁর সংক্ষিপ্ত চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে। মামদানি লিখেছেন, ‘‘প্রিয় উমর, তিক্ততা নিয়ে তোমার কথাগুলো আমার প্রায়ই মনে পড়ে। তুমি বলতে, তিক্ততা যেন কখনও নিজের সত্তাকে গ্রাস করে না-ফেলে, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে ভাল লেগেছে। আমরা সকলে তোমার কথা ভাবছি।’’

জানা গিয়েছে, ডিসেম্বরে আমেরিকায় গিয়ে মামদানির সঙ্গে দেখা করেছিলেন উমরের বাবা-মা। নিউ ইয়র্কের মেয়রের চিঠিটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন উমরের প্রেমিকা বনজ্যোৎস্না লাহিড়ি। সঙ্গে লিখেছেন, ‘‘কারাগার যখন বিচ্ছিন্ন করে রাখার চেষ্টা করে, তখন শব্দ ঘুরে বেড়ায়।’’

Advertisement

উমর-সহ দিল্লি হিংসায় বন্দিদের জামিনের আবেদন জানিয়ে আট জন মার্কিন আইনপ্রণেতা আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় খোয়াত্রাকে চিঠি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন মেনে উমরের ন্যায্য বিচারের অনুরোধ করেছেন তাঁরা। জানিয়েছেন, উমর-সহ দিল্লি হিংসায় অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিচার-পূর্ব দীর্ঘস্থায়ী আটক নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। ভারতীয় আইন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখেই উমরদের জামিন চেয়েছেন তাঁরা।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির শেষপর্বে দিল্লিতে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন গোষ্ঠীহিংসার ঘটনা ঘটেছিল। তাতে ৫৩ জন নিহত হয়েছিলেন। উমর ছাড়াও ওই মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন শারজিল ইমাম, মিরান হায়দার, গুলফিশা ফাতিমা এবং শিফা উর রহমান। দিল্লি পুলিশ দাবি করে, হিংসার ঘটনায় ‘অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী’ উমর। দিল্লি হাই কোর্ট গত ২ সেপ্টেম্বর উমরদের জামিনের আর্জি নাকচ করার পরে তাঁরা শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। উমরদের সেই সাধারণ জামিনের মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। গত ১০ ডিসেম্বর এই সংক্রান্ত রায় স্থগিত রেখেছে শীর্ষ আদালত। এর মাঝে ডিসেম্বরে দিদির বিয়ে উপলক্ষে দু’সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী জামিনে জেল থেকে বেরিয়েছিলেন উমর। ২৯ ডিসেম্বর সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উমর আবার জেলে ফিরে গিয়েছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement