Yogi Adityanath

সরকারি জমিতে নির্মাণ, সম্ভলে ধর্মীয় কাঠামো ভাঙল সরকার

রাজ্যের রাজস্ব বিভাগের দাবি, জমিটি তাদের। সেই সরকারি জমির উপর মসজিদটি তৈরি হয়েছিল বলেই তা ভাঙা হচ্ছে। পাল্টা মসজিদ কমিটির সদস্যেরা বিষয়টি নিয়ে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৯:৫৪
Share:

যোগী আদিত্যনাথ। —ফাইল চিত্র।

আগামী বছরের শুরুতে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যে ফের মেরুকরণের লক্ষ্যে মন্দির-মসজিদ রাজনীতির ঢেউ তুলতে মরিয়া যোগী আদিত্যনাথের সরকার। গত কাল সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ তুলে সম্ভলের গুন্নৌর তহসিলের ‘খেরে ওয়ালে বাবা চমন শাহ বাবা দরগা শরিফ’ ভাঙার পরে শনিবার সম্ভলের মুস্তাফা কাদরি মসজিদ ভাঙার কাজ শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন।

রাজ্যের রাজস্ব বিভাগের দাবি, জমিটি তাদের। সেই সরকারি জমির উপর মসজিদটি তৈরি হয়েছিল বলেই তা ভাঙা হচ্ছে। পাল্টা মসজিদ কমিটির সদস্যেরা বিষয়টি নিয়ে আইনের
দ্বারস্থ হয়েছেন।

শনিবার বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও রাজস্ব দফতরের কর্মীর উপস্থিতিতে চারটি বুলডোজ়ার নামিয়ে প্রায় ১২০ বর্গমিটার জমির উপর গড়ে ওঠা মসজিদটি ভাঙার কাজ শুরু করে সরকার। গত জানুয়ারিতে একটি রাজস্ব সমীক্ষার পরে প্রশাসন দাবি করে, যে জমিতে মসজিদটি রয়েছে, তা সরকারি সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠে, রাজস্ব নথিতে জমিটি সরকারি বলে উল্লেখ থাকলেও সেটিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল।

রাজস্ব কর্তৃপক্ষের দাবি, ওয়াকফ বোর্ডে সম্পত্তি নিবন্ধনের সময় জমির সরকারি মালিকানার নথি গোপন রাখা হয়েছিল। তদন্তের পরে এই অভিযোগে মসজিদ কমিটির সাত সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল তহসিলদারের আদালত ওই নির্মাণকে অবৈধ দখল বলে উল্লেখ করে উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। মসজিদ কমিটি জেলাশাসকের আদালতে আবেদন জানালেও তা খারিজ হয়ে যায়। এর পরেই উত্তরপ্রদেশ রাজস্ব বিধির ৬৭ ধারায় মসজিদটি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার।

তহসিলদার ধীরেন্দ্র কুমার ও নায়েব তহসিলদার দীপক জুরেলের নেতৃত্বে রাজস্ব ও পুলিশ আধিকারিকদের একটি দল ভাঙার অভিযান চালায়। গোটা প্রক্রিয়ার তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক অঙ্কিত খাণ্ডেলওয়াল এবং পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই। শুক্রবার সম্ভলেরই গুন্নৌর তহসিলের ‘খেরে ওয়ালে বাবা চমন শাহ বাবা দরগা শরিফ’ও রাজস্ব আদালতের রায়ের পরে ভাঙা হয়েছে। ওই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলাশাসক অঙ্কিত খাণ্ডেলওয়ালের দাবি, সরকারি জমিতে ধর্মীয় কাঠামো নির্মাণের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা আজিজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘মামলাটি ছিল সরকারি জমি দখল সংক্রান্ত। তহসিলদারের আদালত নির্মাণটিকে অবৈধ বলে রায় দেয়। পরে বিষয়টি জেলাশাসকের আদালতে গেলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রমাণ পেশ করতে বলা হলেও তারা কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি।’’

রাজস্ব দফতরের কর্মকর্তাদের দাবি, কাঠামোটি যেখানে ছিল, সেই প্রায় ২৪ বর্গমিটার সরকারি জমি আজিজের দখলে ছিল। পুলিশ সুপার জানান, এটি ধর্মীয় স্থাপনা হলেও সরকারি জমি উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ প্রকল্পের আওতায় সরকারি জমি দখলমুক্ত করার নির্দেশ রয়েছে। সেই অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত জেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।

তবে দরগার তত্ত্বাবধায়ক তথা অভিযুক্ত আজিজ প্রশাসনের দাবি উড়িয়ে পাল্টা বলেছেন, ওই স্থানটি প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বছরের পুরনো এবং এক সুফি সাধকের স্মৃতি বিজড়িত ধর্মীয় স্থান।

এরই মধ্যে সম্ভলের শের খান সারাই এলাকায় সরকারি জমিতে ১৯৭৮ সালের সম্ভল দাঙ্গায় ঘরছাড়া কয়েকটি পরিবারের হাতে পুনর্বাসন কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে জমি তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করল সরকার। উদ্ধার হওয়া তিন বিঘা জমিতে ওই কর্মসূচির প্রথম সুবিধাভোগী হয়েছে ৪৮ বছর আগে ওই দাঙ্গায় নিহত ব্যবসায়ী রামশরণ রাস্তোগির পরিবার। শনিবার উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী জেপিএস রাঠোর যখন ১০০ মিটার জমির মালিকানার শংসাপত্র তুলে দেন, তখন রামশরণের ভাই কপিল বলেন, “আমরা কোনও দিন ভাবিনি আবার সম্ভলে ফিরতে পারব। বহু বছর ধরে আমরা শুধু আমাদের বাড়ি, দোকান এবং দাদার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সেই সব গল্পই শুনেছি। আজ মনে হচ্ছে, আমরা নিজের শহরে
ফিরে আসছি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন