অন্দরের কাঁটাই বড় চ্যালেঞ্জ, লিখলেন মোদী

ক্ষমতায় বসার একশো ঘণ্টার মধ্যে শুরু হওয়া সমালোচনার ঝড় তাঁকে মধুচন্দ্রিমার সুখ দেয়নি। কিন্তু বাইরের সে সব কাঁটার চেয়ে সরকারের ভিতরের কাঁটা দূর করাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে জানালেন নরেন্দ্র মোদী। আজ, নতুন সরকারের এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে নিজেই কলম ধরলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের ব্লগে ৬৬৬ শব্দের নিখুঁত চয়নে মোদী জানিয়েছেন তাঁর মনের কথা। জানিয়েছেন, অনেকেই তাঁকে গোড়ায় দিল্লির রাজনীতিতে আনকোরা ভেবেছিলেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

নয়াদিল্লি শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০১৪ ০৩:০৩
Share:

ক্ষমতায় বসার একশো ঘণ্টার মধ্যে শুরু হওয়া সমালোচনার ঝড় তাঁকে মধুচন্দ্রিমার সুখ দেয়নি। কিন্তু বাইরের সে সব কাঁটার চেয়ে সরকারের ভিতরের কাঁটা দূর করাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে জানালেন নরেন্দ্র মোদী। আজ, নতুন সরকারের এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে নিজেই কলম ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement

নিজের ব্লগে ৬৬৬ শব্দের নিখুঁত চয়নে মোদী জানিয়েছেন তাঁর মনের কথা। জানিয়েছেন, অনেকেই তাঁকে গোড়ায় দিল্লির রাজনীতিতে আনকোরা ভেবেছিলেন। এমনকী তাঁর নিজের মনেও সেই ভাবনা এসেছিল। ভেবেছিলেন, হয়তো দু-একটা বছরই লেগে যাবে কেন্দ্রের সরকার বুঝতে। কিন্তু চার বার মুখ্যমন্ত্রী থাকার অভিজ্ঞতা ও সতীর্থদের সহযোগিতার ভিত্তিতে এখন তাঁর আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছে।

কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। পূর্বতন ইউপিএ সরকার একশো দিনেরও বেশি মধুচন্দ্রিমার সময় পেলেও তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার একশো ঘণ্টার মধ্যেই সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে। এমন সব বিতর্ক হয়েছে, যাতে সরকারের কোনও ভূমিকাই নেই। এই যুক্তি দিয়েও মোদী গত এক মাসে তাঁর সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। বলেছেন, সেটি হল সরকারের ভিতরের কাঁটা।

Advertisement

মোদীর কথায়, “প্রতিটি সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই অনেক কিছু আরও শোধরানোর আছে। কিন্তু যে বড়সড় চ্যালেঞ্জটার মুখোমুখি আমাকে হতে হচ্ছে, সেটি হল ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ব্যাপারে আমাদের নিষ্ঠা ও ইচ্ছের কথা মুষ্টিমেয় কিছু মানুষকে বোঝাতে না পারা। এই ব্যক্তিরা সরকারের বাইরে যেমন রয়েছেন, তেমন ভিতরেও।”

মোদীর গোটা ব্লগে এই লাইনটিই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজেপি নেতারা। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, কী প্রেক্ষাপট থেকে মোদী এই কথা বলেছেন, সেটি তিনিই ভাল জানেন। তবে নিঃসন্দেহে এই সূক্ষ্ম খোঁচা আমলাতন্ত্রের একটি অংশের বিরুদ্ধে। কারণ নিজের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে এ ভাবে প্রকাশ্যে সরব হবেন না মোদী। অতীতে যাঁরা মোদীর বিরোধিতা করেছেন, তাঁরাও এখন সুর চড়ানোর অবস্থায় নেই। তা ছাড়া, রাজনৈতিক স্তরে তাঁদের মোকাবিলা করার কৌশল জানা আছে মোদীর। কিন্তু ইউপিএ আমল থেকেই সরকার তথা প্রশাসনে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা মোদীর ভাবনাকে ভেস্তে দিতে তৎপর। ওই বিজেপি নেতার মতে, এই ব্যক্তিরাই আসলে এক-একটি ল্যান্ডমাইনের মতো কাজ করছেন।

মোদীর সহযোদ্ধাদের যুক্তি, তাঁকে দিল্লিতে আনকোরা ভাবার কারণ যে নেই, সে কথা ব্লগে মোদী স্পষ্ট করেই দিয়েছেন। প্রশাসনের এই ‘ল্যান্ডমাইনগুলি’কে ধীরে ধীরে চিহ্নিত করে সরাচ্ছেন তিনি। যাঁরা অতীতে ইউপিএ সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের নতুন মন্ত্রীদের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, “কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন ক্যাবিনেট সচিব অজিত শেঠের মেয়াদ বাড়ানো হল? কেন আমলাতন্ত্রের শীর্ষ স্তরে বড় রদবদল করা হয়নি? কারণ, এঁদের দিয়েই ইউপিএ-র রেখে যাওয়া এই ল্যান্ডমাইনগুলিকে চিহ্নিত করা হবে। তার পর তাঁদের অন্যত্র সরানো হবে সুকৌশলে।”

সেই কাজটিই এখন সন্তর্পণে করছেন মোদী। এবং সেই কারণেই তিনি লিখেছেন, “কাউকে দোষারোপ না করেই গোটা ব্যবস্থাটাকে (‘সিস্টেম’) আরও শক্তিশালী করতে হবে। যাতে ঠিক সময়ে ঠিক লোকের কাছে ঠিক জিনিসটা পৌঁছে দেওয়া যায়। তাতে গোটা ব্যবস্থা বদলাবে।”

কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের পাল্টা অভিযোগ, এটা বিজেপিরই সংস্কৃতি। আগের বার ক্ষমতায় এসে তারা শিক্ষাক্ষেত্র থেকে আমলাতন্ত্রে গৈরিকীকরণ করেছিল। প্রাক্তন মন্ত্রী আনন্দ শর্মার অভিযোগ, “কংগ্রেস তো টেরই পায়নি, বিজেপি বিরোধী হয়েও শীর্ষ স্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রেখেছিল। তা না হলে কেন্দ্রের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব, প্রাক্তন সেনাপ্রধান থেকে মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার কেন ভোট আসতেই বিজেপির টিকিটে নির্বাচন লড়তে গেলেন? তাঁদের কেউ কেউ মন্ত্রীও হয়ে গেলেন!”

এই প্রসঙ্গে মোদী শিবিরের এক নেতার দাবি, প্রধানমন্ত্রী আসলে ব্যবস্থা পরিবর্তনের কথাই বলেছেন মাত্র। তাঁর ব্লগে কিন্তু আগাগোড়া বলা হয়েছে, কী করে বিরোধী দল, সংবাদমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রেখে গণতন্ত্রকে উজ্জীবিত রাখতে চান তিনি। সেই কারণে জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গও তুলেছেন মোদী। জানিয়েছেন, কী ভাবে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান। গত এক মাসে আমলাদের অবদানের কথাও তিনি স্বীকার করেছেন। কাজেই এর মধ্যে রাজনীতি খোঁজা অনর্থক।

দিন কই, মামলা রুজু মুম্বইয়ে

ভাল দিন তো আর এল না! এই অভিযোগেই কেন্দ্রের এক মাস বয়সি সরকারের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা রুজু হল বম্বে হাইকোর্টে। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি-র মূল মন্ত্রই ছিল ক্ষমতায় এলে দেশে সুদিন আসবে। মুম্বইয়ের একটি দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে, যে সুদিনের স্বপ্ন দেখিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে কোথায় সে সব? উল্টে যে হারে রেলভাড়া-সহ নানা জিনিসের দাম বাড়ছে তাতে তো সুদিন আসার কোনও সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করে ওই মামলা দায়ের করেছে সংগঠনটি।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন