আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ধৃত কৃষক নেতা

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০১৪ ০৮:৫৭
Share:

গুয়াহাটির আদালতে পেশ করা হচ্ছে অখিল গগৈকে। রবিবার। ছবি: উজ্জ্বল দেব।

কৃষক সংগঠনের ওই নেতার বাড়ি রাতভর ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। আজ ভোর রাতে দরজা ভেঙে গ্রেফতার করা হল অখিল গগৈকে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, জমির পাট্টার দাবিতে গায়ে আগুন দিয়ে মৃত প্রণব বড়োকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্রের। অখিল গ্রেফতার হওয়ায় বিক্ষোভ-অবরোধ হয় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়।

Advertisement

২৪ ফেব্রুয়ারি ‘কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি’র আন্দোলন চলাকালীন অসম সচিবালয়ের সামনে আত্মঘাতী হন প্রণববাবু। তাঁর বর্তমান স্ত্রী পূর্ণিমাদেবী মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ও রাজস্ব মন্ত্রী পৃথ্বী মাঝির নামে দিসপুর থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন। প্রণববাবুর বাবা এবং প্রাক্তন স্ত্রী এফআইআর দায়ের করেন অখিল গগৈয়ের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, ওই সংগঠনের সভাপতি অখিল গগৈ, সাধারণ সম্পাদক কমল মেধি এবং অন্য কয়েক জন নেতার প্ররোচনায় ঘটনাটি ঘটে। অখিল, কমল-সহ কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির কয়েক জন নেতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়।

গত কাল অখিল ঘোষণা করেন, গগৈ সরকারকে উৎখাত করতে এবং জমি পাট্টার দাবিতে ৯ মার্চ থেকে ফের আন্দোলন শুরু হবে। এ বার তিনি নিজেই আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন। অখিলবাবুর বক্তব্য, “আমার বিরুদ্ধে প্রণব বড়োর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তা হলে কি জ্বলন্ত অবস্থায় প্রণববাবু ‘রক্ত দেব, জমি দেব না বলে’ স্লোগান দিতেন?”

Advertisement

গত রাতে সাড়ে ১২টা নাগাদ অখিলবাবুর বাড়ি ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের দাবি, অখিল দরজা খুলতে রাজি হননি। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভোর ৪টে নাগাদ তালা ভেঙে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অখিলবাবুর স্ত্রী গীতাশ্রী তামুলির অভিযোগ, পুলিশ জঙ্গিদের মতো ঘরে হামলা চালিয়ে অখিলকে গ্রেফতার করে। পরিচারিকার শ্লীলতাহানিও করে পুলিশ। ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ওই পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, অখিল গগৈকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাঁকে পানবাজার থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। ওই কৃষক সংগঠনের নেতা দেবেন শর্মা, গজেন বৈশ্য, হরেশ্বর কলিতা, নুরুল ইসলাম ও ইব্রাহিম আলিকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কমল মেধি-সহ আরও তিন জন নেতার খোঁজ চলছে। দেবেন শর্মাকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশকে বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামলাতে শূন্যে গুলি চালান নিরাপত্তা রক্ষীরা।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন একটি লাল রঙের গাড়িতে প্রণববাবুকে সঙ্গে নিয়ে কৃষক নেতারা শহরে ঘুরছিলেন। গাড়িতে অতিরিক্তপেট্রল রাখা ছিল। সচিবালয়ের সামনে প্রণববাবুকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গায়ে আগুন দেওয়ার প্ররোচনা দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের সেই খবর আগেই দেওয়া হয়েছিল। ঘটনায় ব্যবহৃত সন্দেহে একটি গাড়ি আটক করা হয়েছে।

এসএসপি আনন্দপ্রকাশ তিওয়ারি বলেন, “পুলিশ আইন মেনে, তদন্তের স্বার্থে এ পদক্ষেপ করেছে। তদন্তের জন্য আরও তিন জনকে গ্রেফতার করতে হবে।” প্রণববাবুর বর্তমান স্ত্রী পূর্ণিমাদেবী অবশ্য পুলিশের নিন্দা করে দ্রুত অখিলকে মুক্তি দেওয়ার দাবি করেছেন।

আজ সকালে অখিল গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়াতেই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ-বিক্ষোভ শুরু হয়। অখিলের গ্রাম সেলেংহাটিতে তাঁর মা প্রিয়দা গগৈ কৃষক সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে রেল অবরোধ করেন। তাঁকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। হাইলাকান্দি, সোনারি, সরুপথার, নগাঁও, তিনিসুকিয়া, শিবসাগর ইত্যাদি এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ হয়। ডিব্রুগড়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে শতাধিক জখম হয়েছে। অনেককে গ্রেফতার করা হয়। অবরোধের জেরে ৩৭ ও ৩৯ নম্বর জাতীয় সড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল থম্কে ছিল।

অখিলকে গ্রেফতারির নিন্দা করে বিজেপি সভাপতি সর্বানন্দ সোনোয়াল, এআইইউডিএফ নেতা বদরুদ্দিন আজমল, অগপ সভাপতি প্রফুল্ল মহন্ত পুলিশ ও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। প্রদেশ তৃণমূলের সভাপতি দীপেন পাঠকও প্রতিবাদ জানান।

গ্রেফতার হওয়ার পরে অখিল বলেন, “পুলিশ আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছে। মানুষ তার বিচার করবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement