তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধে এ বার সরাসরি মাঠে নামল ভারত।
দীর্ঘ এক দশকের স্বারোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে এসে, এ বার নরেন্দ্র মোদী সরকার চারটি বোমারু হেলিকপ্টার তুলে দিচ্ছে আফগান সেনাবাহিনীর হাতে। আগামিকাল প্রধানমন্ত্রীর কাবুল সফরেই ভারত এই ‘উপহার’ দিতে চলেছে।
দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা এবং ভূকৌশলগত রাজনীতির প্রেক্ষিতে এই ঘটনাটির তাৎপর্য ব্যাপক বলেই মনে করছেন কূটনীতিকেরা। দু’ সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের মাটিতে দাঁড়িয়ে আফগানিস্তানের তালিবানের বিরুদ্ধে দুনিয়াকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা আরও শক্ত করতে ভারত সক্রিয় অংশ নিতে চায়।’’
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, সেই ‘বিশেষ দায়িত্ব’ এ বার পালন করা শুরু করল সাউথ ব্লক। আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক ছিল খুবই ভাল। কিন্তু কারজাইয়ের শত অনুরোধেও সে দেশে কিন্তু কোনও অস্ত্র সরবরাহ করেনি মনমোহন সিংহ সরকার। সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি-সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সহায়তাই করা হয়েছে বরাবর। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এই প্রথম তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য অস্ত্রশস্ত্র দেওয়ার দরজাটি খোলা হল। ভবিষ্যতে এই ধরনের সহায়তা আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে বিদেশ মন্ত্রক থেকে।
সিদ্ধান্তটিকে যথেষ্ট সাহসী বলেই মনে করছেন কূটনীতিকেরা। মনমোহন সরকার কাবুলে শান্তি প্রক্রিয়া চালু রাখতে আফগান সরকারের পাশে থাকার জন্য সব রকম চেষ্টা করলেও, কখনও অস্ত্র সরবরাহ করতে চায়নি। তার কারণ মূলত দু’টি। প্রথম কারণ, প্রত্যাঘাতের সম্ভাবনা। এমনিতেই তালিবান জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে ভারত। সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় তার প্রমাণ মিলেছে। আফগান সামরিক বাহিনীর হাত শক্ত করার ফলে জঙ্গি হানা বাড়তে পারে বলে রিপোর্ট দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। দ্বিতীয় কারণ, মার্কিন চাপ। তালিবান ও আল কায়দার
সঙ্গে পাকিস্তানি সেনা ও আইএসআইয়ের সখ্যের কথা ওয়াশিংটনের অজানা নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তালিবানের সঙ্গে আফগান সরকারের শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানেরই মধ্যস্থতা চেয়েছিল আমেরিকা। ফলে কাবুলের পাশে থাকা নিয়ে দিল্লি বেশি উদ্যোগী হোক, তা চায়নি ওয়াশিংটন। কূটনীতিকেরা জানাচ্ছেন, এখন পরিস্থিতি বদলেছে। আফগান সেনাকে ভারতীয় সামরিক হেলিকপ্টার দেওয়ার পিছনে পশ্চিমী বিশ্বেরও পরোক্ষ সম্মতি রয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তার কথায়, ‘‘চারটি এমআই-২৫ হেলিকপ্টার কাবুলকে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তালিবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আফগানিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতার একটি জোরালো বার্তা দেওয়া হল।’’ বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের দাবি, কড়া বার্তা গেল পাকিস্তানের কাছেও।