কপ্টার ধাক্কা সামলাতে পথে কংগ্রেস

কপ্টার কাণ্ডে দুর্নীতি নিয়ে পারদ চড়ছে। ঘুরে দাঁড়াতে তাই রাস্তায় নামছেন সনিয়া ও রাহুল গাঁধী। সরাসরি নরেন্দ্র মোদীকে নিশানায় রেখে আগামিকাল দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে সংসদ অভিযান করবেন তাঁরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০১৬ ০৩:১৬
Share:

কপ্টার কাণ্ডে দুর্নীতি নিয়ে পারদ চড়ছে। ঘুরে দাঁড়াতে তাই রাস্তায় নামছেন সনিয়া ও রাহুল গাঁধী। সরাসরি নরেন্দ্র মোদীকে নিশানায় রেখে আগামিকাল দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে সংসদ অভিযান করবেন তাঁরা।

Advertisement

‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ নামে এই অভিযানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ-সহ কংগ্রেসের সব শীর্ষ নেতাই থাকছেন। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ আজ বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী নিজে সনিয়া ও রাহুল গাঁধীকে ফাঁসাতে চাইছেন। মোদীর সঙ্গে রয়েছেন অমিত শাহও। কিন্তু তাঁদের এই লক্ষ্য পূরণ হবে না।’’ রমেশের দাবি, গত দু’বছরে মোদী সরকার যা যা অনাচার করেছে তা নিয়েই প্রতিবাদ হবে রাস্তায় নেমে।

ঘটনাচক্রে আগামিকালই সুপ্রিম কোর্টে উত্তরাখণ্ড নিয়ে শুনানি রয়েছে। যেখানে মোদী সরকার সে রাজ্যে আস্থা ভোট নিয়ে মতামত জানাবে। তার আগে আজ নয়া অস্বস্তিতে পড়েছে কংগ্রেস। আজই একটি স্টিং অপারেশন নিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরীশ রাওয়তকে সমন পাঠিয়েছে সিবিআই। কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়কদের দাবি, রাওয়ত টাকা দিয়ে তাঁদের দলে টানতে চেয়েছিলেন। উত্তরাখণ্ডের একটি চ্যানেলের সাংবাদিক বিদ্রোহী বিধায়কদের টাকা দিয়ে হাত করার বিষয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে যান। রাওয়ত রাজি হন। সেই ছবিই ওই স্টিং অপারেশনের ফুটেজে ধরা পড়েছে। উত্তরাখণ্ড নিয়েও কংগ্রেসের বিপদ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা আঘাত করতে চাইছেন রাহুল-সনিয়ারা।

Advertisement

কংগ্রেস নেতৃত্ব বুঝতে পারছেন, এখনও পর্যন্ত কপ্টার দুর্নীতিতে ঘুষ নেওয়া নিয়ে গাঁধী পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও অকাট্য প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও বিজেপি নেতৃত্ব বফর্সের মতো একটি হাওয়া তৈরি করছেন। ফলে সর্বশক্তি দিয়ে সেটি মোকাবিলা করতে হবে। আজও অরুণ জেটলি বলেছেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত কপ্টার দুর্নীতি নিয়ে সন্দেহের পরিস্থিতি তৈরি রয়েছে, যেটি নিয়ে তদন্ত হতে পারে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার পর সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হতে পারে।’’ কংগ্রেস নেতাদের দাবি, হাতে কোনও প্রমাণ ছাড়াই বিজেপি শিবির সনিয়া ও রাহুল গাঁধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরাসরি আসরে নেমে পড়েছে। আর সে কারণেই কংগ্রেসের পাশাপাশি মায়াবতী, মুলায়ম, নীতীশ কুমার ও বামেদের মতো দলগুলি গোটা ঘটনার তদন্ত সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে করার দাবি তুলেছে। কারণ সরকার সিবিআই তদন্তের আগেই স্থির করে ফেলেছে, আসল দোষী গাঁধী পরিবারই।

বিজেপি নেতা শ্রীকান্ত শর্মার কটাক্ষ, ‘‘কংগ্রেসের নেতারা আজ অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণের কথাও বলছেন। অতীতে কোনও প্রমাণ ছাড়াই নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেন তাঁরা।’’

Advertisement

কপ্টার কাণ্ডের তদন্তের কাজও আজ কিছুটা এগিয়েছে। সিবিআইয়ের পরে প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান এস পি ত্যাগীকে আজ জেরা করেছে ইডি।

তবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানানোর সময় মোদীর বিরুদ্ধে গুজরাত থেকে গ্যাস উত্তোলন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ সামাল দিতে হচ্ছে বিজেপিকে। আজও রাজ্যসভায় এ নিয়ে সোচ্চার হয় কংগ্রেস। সে কারণে আজ মোদী দিল্লিতে ডেকে পাঠান গুজরাতের পেট্রোলিয়াম দফতরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী সৌরভ পটেলকে। তিনি আজ সংসদ ভবনে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।

পরে সৌরভ দাবি করেন, কেজি বেসিনে গ্যাস উত্তোলন নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কোনও ভূমিকাই নেই। গোটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ইউপিএ জমানায় কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটিতে। কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্রের পরেই গ্যাস উত্তোলনের জন্য গুজরাত পেট্রোলিয়াম সংস্থা বিনিয়োগ করে। পরে সেটি বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি বলে নরেন্দ্র মোদীকে দোষারোপ করা যায় না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement