তরুণ গগৈয়ের ছেলে গৌরব
ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করার চেষ্টা হলে তিনিই রুখে দাঁড়াবেন। এমনটাই ঘোষণা করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ।
অসুস্থ ও অশীতিপর তরুণ গগৈয়ের উত্তরসূরি কে হবেন— তা নিয়ে রাজ্য কংগ্রেসে জল্পনা তুঙ্গে। সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া হিমন্তবিশ্ব শর্মা-সহ দশ জন বিধায়কের দাবি, গগৈ তাঁর ছেলে গৌরব গগৈকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চাইছেন। গৌরব সদ্য রাজনীতিতে এসেছেন। গত বছর লোকসভা নির্বাচনে কলিয়াবর কেন্দ্রে ভাই দীপ গগৈকে সরিয়ে গৌরবকে প্রার্থী করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে জিতে সাংসদ হয়েছেন ৩৩ বছরের গৌরব। সেচমন্ত্রী চন্দন সরকার দুই দিন আগে সরাসরি সাংবাদিকদের বলে দেন, ‘‘তরুণ গগৈয়ের পরে গৌরব ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার মতো লোক রাজ্য কংগ্রেসে নেই।’’
দলের অন্দরমহলের খবর, চন্দনবাবুর মুখ দিয়ে নিজের মনের ইচ্ছেটাই প্রকাশ্যে এনে দল এবং মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে নিতে চেয়েছিলেন ‘সিনিয়র’ গগৈ। দলের তরফে সরাসরি চন্দনবাবুর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিবৃতি প্রকাশ করা না হলেও প্রবীণ বিধায়ক ও নেতারা চন্দনবাবুর বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক ছিল না। কৃষকদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা খুললেও গৌরবের সঙ্গে রাজ্যের আমজনতার সেই ‘মাটির যোগ’ নেই। রাজনীতিতে এখনও নেহাতই শিক্ষানবিশ তিনি।
গগৈ ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চাইছেন— সরাসরি এই অভিযোগ তুলেই দলে বিদ্রোহ করে হিমন্ত-গোষ্ঠী। হিমন্তবিশ্ব শর্মা দল ছাড়ার পরে গগৈ বলেছিলেন, ‘‘গৌরব বাচ্চা ছেলে। সবে রাজনীতিতে এসেছে। তাঁকে ভয় পেয়ে হিমন্তের মতো দুঁদে নেতা কেন দল ছাড়লেন? আমি চাইলেই গৌরব মুখ্যমন্ত্রী হবে না। এই ব্যাপারে হাইকম্যান্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’’ রাজ্য কংগ্রেসের এক সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘পরিবারতন্ত্র নিয়ে দলের ভিতরে চলা বিদ্রোহ যে কূটনৈতিক দক্ষতায় সামলেছেন গগৈ, গৌরবের পক্ষে তা সম্ভব নয়। বরং গৌরবকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরলে হিমন্তদের অভিযোগই সত্য বলে প্রমাণিত হবে।’’
গগৈ এখন দিল্লিতে। চন্দনবাবুর মন্তব্য এআইসিসির কানেও যায়। দলীয় সূত্রে খবর, এআইসিসির তরফে মন্ত্রীর এমন বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে গগৈকে সতর্ক করা হয়েছে। দলের ভিতরের অসন্তোষ ও অসমের সংবাদমাধ্যমের সমালোচনায় অতিষ্ঠ গগৈ দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘গৌরবের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ও এই পদের জন্য এখনও উপযুক্ত হয়নি।’’ কিন্তু দলের মন্ত্রীই তো পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে গৌরবের নাম করেছেন। গগৈ বলেন, ‘‘অন্য কেউ চাইলেও আমি নিজে এই ব্যাপারে বাধা দেব।’’ তাঁর যুক্তি, মুখ্যমন্ত্রী হতে গেলে অনেক বেশি অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। গৌরব এখনও সেই জায়গায় পৌঁছননি।