জল প্রকল্পে ঘুষ-কাণ্ড, তদন্ত জল বোর্ডের

বিতর্কিত জল প্রকল্পের চুক্তি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে গুয়াহাটি জল বোর্ড। জল বোর্ডের তত্ত্বাবধানেই গুয়াহাটি জল সরবরাহ প্রকল্পগুলি চলে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৫ ০৩:০২
Share:

বিতর্কিত জল প্রকল্পের চুক্তি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে গুয়াহাটি জল বোর্ড। জল বোর্ডের তত্ত্বাবধানেই গুয়াহাটি জল সরবরাহ প্রকল্পগুলি চলে। ২০১০ সালে উত্তর গুয়াহাটি ও দক্ষিণ-মধ্য গুয়াহাটি জল প্রকল্পে কাজের বরাত পেতে মার্কিন সংস্থা লুই বার্জার কয়েক কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে অভিযোগের জেরে, মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সুভাষচন্দ্র দাসকে এ নিয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ মিললে ওই অভিযোগের তদন্তভার সিবিআইকে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন গগৈ।

Advertisement

জল বোর্ড সূত্রে খবর, জল প্রকল্পে লুই বার্জারের দুই সঙ্গী ভারতের শাহ টেকনিক্যাল্স ও জাপানের নিহন সুইডোর সঙ্গে থাকা চুক্তির প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ দিকে, ঘুষ কাণ্ড নিয়েও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামনে আসছে। ২০০৯-২০১০ সালে এই ঘটনা ঘটে। তখন গুয়াহাটি উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী ছিলেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা। বিভাগের কমিশনার তথা সচিব ছিলেন আইএএস আশিস ভুটানি। গুয়াহাটি মহানগর উন্নয়ন প্রাধিকরণ (জিএমডিএ)-র মুখ্য কার্যবাহী আধিকারিক ছিলেন প্রীতম শইকিয়া। উন্নয়ন আধিকারিক ছিলেন মণিকূট পাঠক। হিমন্ত ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, ওই বিভাগের কোনও কর্তা ঘুষ নিয়েছেন কি না, মন্ত্রী হয়ে তা জানা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তদন্ত হলেই সব প্রকাশ্যে আসবে। জিএমডিএর চেয়ারপার্সন ধীরেন বরুয়ার বক্তব্য, জিএমডিএ সিদ্ধান্ত নেয় না। তা নেয় সরকার। সরকারের নির্দেশ কার্যকর করাই জিএমডিএর কাজ। অর্থাৎ তীর ঘুরে যায় হিমন্ত ও ভুটানির দিকে।

Advertisement

জিএমডিএর প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা পূর্ব গুয়াহাটির কংগ্রেস বিধায়ক রবীন বরদলৈ বলেন, ‘‘সচিব হিসেবে ভুটানিই ফাইল দেখা, চুক্তির বিষয়ে আলোচনার কাজ করেছিলেন। কিন্তু, মন্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে বা মন্ত্রীকে না দেখিয়ে চুক্তি হওয়া সম্ভব ছিল না।’’ ভুটানি এখন দিল্লিতে কৃষি বিভাগের যুগ্ম সচিব হিসেবে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও অবৈধ নির্মাণে অনুমতি, সরকারি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুটানি জল প্রকল্প প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি। তিনি বলেন, ‘‘আমি অনেক দিন আগে ওই বিভাগ ছেড়ে এসেছি। ফাইল না দেখে কিছু বলা যাবে না।’’

প্রীতমবাবু জানান, এই চুক্তির পিছনে টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। চুক্তিপত্রে প্রীতমবাবুর স্বাক্ষর ছিল। সাক্ষী হিসেবে সই করেছিলেন এসিএস অফিসার মণিকূট পাঠক। কিন্তু, গত বছর হাতিগাঁওতে নিজের বাড়ির ঘর থেকে তাঁর অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কী ভাবে পাঠক মারা গিয়েছিলেন তা এখনও রহস্যাবৃত।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement