ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার খাগড়াগড় কাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হওয়ার মুখে ধরা পড়ল ওই ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম তারিকুল ইসলাম ওরফে সাদিক ওরফে সুমন। রেহান শেখ নামেও সে পরিচিত। আদতে সে বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। সাদিককে মঙ্গলবার বিকেলে রাঁচি থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে, রামগড়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২১:২৪
Share:

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হওয়ার মুখে ধরা পড়ল ওই ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম তারিকুল ইসলাম ওরফে সাদিক ওরফে সুমন। রেহান শেখ নামেও সে পরিচিত। আদতে সে বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। সাদিককে মঙ্গলবার বিকেলে রাঁচি থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে, রামগড়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত বছর ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে এক বিস্ফোরণে দু’জন নিহত ও আরও এক জন জখম হয়। ওই বিস্ফোরণের সূত্রেই পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামে জঙ্গি সংগঠনের এক বিশাল নেটওয়ার্ক বেরিয়ে পড়ে।
খাগড়াগড় কাণ্ডের তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র দাবি, জেএমবি-এর নির্ণায়ক গোষ্ঠী তথা মজলিশ-ই-সুরা-র সদস্য এই সাদিক।
এনআইএ-র এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘‘জেএমবি-র সাংগঠনিক কাজে সাদিক পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় বেশ কিছু দিন থেকেছে।’’
ওই তদন্তকারী অফিসার জানান, বছর পাঁচেক আগে সাদিক বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢোকে এবং ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার সাতগাছি গ্রামের এক তরুণীকে বিয়ে করে। সেই সূত্রে সে ভারতীয় হিসেবে সচিত্র পরিচয়পত্রও জোগাড় করেছিল। প্রথমে এনআইএ-র গোয়েন্দারা সাদিককে ভুল করে ভারতীয় ভেবেছিলেন। যে কারণে এনআইএ-র ওয়ান্টেড-এর তালিকায় বছর পঁয়ত্রিশের ওই যুবককে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে অবশ্য এ বছর ২৩ জুলাই দেওয়া এই মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এনআইএ সাদিককে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি হিসেবেই উল্লেখ করেছিল। এ বছর জানুয়ারিতে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জেই খাগড়াগড় কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত রেজাউল করিম ধরা পড়ে।

Advertisement

এনআইএ-র দাবি, ভারতে জঙ্গি সংগঠন তৈরি ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব জেএমবি-র যাদের উপর ছিল, সাদিক তাদের প্রথম সারিতে। এমনকী, এনআইএ জেনেছে, সংগঠনে সাজিদ ওরফে শেখ রহমতুল্লার পরেই ছিল সাদিক। গত বছর ৮ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে সাজিদ ধরা পড়ার পর সাদিকের উপরেই সংগঠন চালানোর দায়িত্ব পড়েছিল।

গোয়েন্দারা জেনেছেন, ২০১১ থেকে সাদিক ঘন ঘন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেছে।

Advertisement

ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, এনআইএ-র কাছ থেকে পাওয়া সূত্র ধরে রাজ্য পুলিশের সন্ত্রাসবাদ দমন শাখা (এটিএস) এ দিন সাদিককে গ্রেফতার করেছে। এনআইএ অবশ্য জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ড পুলিশের সঙ্গে তাদের যৌথ অভিযানেই সাদিক ওরফে সুমন ধরা পড়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের এডিজি এস এন প্রধান বলেন, ‘‘আমাদের এটিএস রামগড় থেকে সাদিককে গ্রেফতার করেছে। ওর মাথার দাম পাঁচ লক্ষ টাকা।’’

তবে এনআইএ-র এক তদন্তকারী অফিসারের কথায়, ‘‘সাদিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার পর আমাদের মনে হয়েছে, ওর মাথার দাম কমপক্ষে দশ লক্ষ টাকা হওয়া উচিত ছিল।’’

এনআইএ জানাচ্ছে, সাহেবগঞ্জ জেলার যে তরুণীকে সাদিক বিয়ে করেছিল, তিনি এখন গর্ভাবস্থার চূড়ান্ত পর্বে। তবে ওই তরুণী ও তাঁর বাড়ির লোকজন এখন পলাতক।

সাদিককে নিয়ে বর্ধমানের ওই বিস্ফোরণ-কাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১। এর আগে, গত ১৮ জুন খাগড়াগড় কাণ্ডে শেষ বার কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই দিন হাওড়া স্টেশনের কাছ থেকে ধরা পড়েছিল মুর্শিদাবাদের নুরুল হক ওরফে নইম।

আজ, বুধবার সাদিককে রাঁচির আদালতে হাজির করানোর কথা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement