দাগি সাংসদ এবং বিধায়কদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বিচারপতি আর এম লোঢার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, যে কোনও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলার ফয়সালা করতে হবে এক বছরের মধ্যে। তার জন্য প্রয়োজনে প্রতিদিন শুনানি করতেও বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানি প্রসঙ্গে এই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি বিচারপতি আর এম লোঢা এ দিন বলেন, কোনও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলার ফয়সালা এক বছরের মধ্যে করা সম্ভব না হলে, সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টকে তার উপযুক্ত কারণ জানাতে বাধ্য থাকবে নিম্ন আদালত। তাতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সন্তুষ্ট হলে এক বছরের বেশি সময় ধরে ওই মামলার শুনানি চলতে পারে। গত বছরই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, যাঁদের অন্তত দু’বছরের সাজা হয়েছে, তাঁদের বিধায়ক বা সাংসদ পদ খারিজ হবে। পাশাপাশি পরবর্তী পাঁচ বছর ভোটেও দাঁড়াতে পারবেন না তাঁরা। যে ভাবে লালুপ্রসাদের সাংসদ পদ চলে গিয়েছে।
সোমবার এই প্রসঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে আইন কমিশন। তাদের দাবি, সাজাপ্রাপ্ত রাজনীতিকদের নির্বাচন থেকে দূরে রেখে রাজনীতিকে অপরাধীমুক্ত করা সম্ভব নয়। এই পদক্ষেপ করতে হবে চার্জ গঠনের সময় থেকেই। তাই শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে কমিশন সুপারিশ জানিয়েছে, কোনও রাজনীতিকের বিরুদ্ধে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময়ের শাস্তিযোগ্য অপরাধের চার্জ গঠন হলেই তাঁর ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত। এ ছাড়াও আইন কমিশনের সুপারিশ, ভোটে দাঁড়ানোর আগে কোনও রাজনীতিকের নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামা ভুয়ো প্রমাণিত হলেও তাঁর ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত। এ ছাড়াও তাঁদের অন্তত দু’বছর কারাদণ্ড হওয়া উচিত।