পুড়ে ছাই বস্তি। রবিবার দিল্লির নিউ উসমানপুরে। ছবি: পিটিআই
চোখে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে দশ বছর আগে কলকাতা ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেন রাকিব। ভেবেছিলেন, যে করে হোক, ছেয়ে-মেয়েকে মানুষ করতে হবে। তিন সন্তানের মৃতদেহ আঁকড়ে আজ তাঁর একটাই প্রশ্ন, ‘‘এ বার বাঁচব কী নিয়ে?’’
দিল্লির নিউ উসমানপুর বস্তিতে স্ত্রী মাধুরী ও তিন সন্তান রিনা (১০), মীনা (৭) ও ছ’মাসের মুবারককে নিয়ে থাকছিলেন রাকিব। শনিবার রাতে সেখানেই ভয়াবহ আগুন লাগে। আর পলকের নিমেষে বদলে যায় তাঁর দুনিয়া। পুলিশ জানায়, আগুনের খবর পেয়ে দমকলের ৮টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বস্তির অধিকাংশ ঘরই তত ক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় তিনটি শিশুর দেহ। পরে তাদের রাকিবের সন্তান বলে শনাক্ত করা হয়। আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছে বছর দশের এক শিশু। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কী ভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, শর্ট সার্কিটের পর তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন ছড়িয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় বস্তিতে বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে মোমবাতি উল্টে আগুন লাগে।
তিন সন্তানকে হারানোর শোকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন রাকিবের স্ত্রী মাধুরী। রবিবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তিন সন্তানের মৃত্যুশোকে তাঁর কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
সন্ধ্যায় তিন সন্তানকে কবর দেওয়ার পর রাকিব বলেন, ‘‘কত স্বপ্ন ছিল ওদের নিয়ে। এখন কী নিয়ে বাঁচব? জীবনে তো আর কিছুই রইল না।’’