আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে বেতলা, নেতারহাটকে জায়গা করে দিতে দলবল নিয়ে লন্ডনে যাচ্ছেন ঝাড়খণ্ডের পর্যটনমন্ত্রী।
২ নভেম্বর থেকে লন্ডনে শুরু হচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল মার্কেট’। চলবে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। বিশ্বের প্রায় সব দেশই নিজেদের পর্যটনের সম্ভার নিয়ে হাজির হচ্ছে। ঝাড়খণ্ডের পর্যটন দফতরের ডিরেক্টর সুচিত্রা সিনহা বলেন, ‘‘ভারতের স্টলে ঝাড়খণ্ডের পর্যটনের ছবিও থাকবে। বেতলা, নেতারহাট, ম্যাকলাক্সিগঞ্জের পাশাপাশি থাকবে আদিবাসীদের শিল্পকর্ম।’’
রাজ্যের পর্যটন শিল্পে উন্নয়নের জোয়ার আনতে তৎপর রঘুবর দাসের সরকার। প্রশাসনের বক্তব্য, বিদেশি পর্যটক টানতে এ ধরনের উদ্যোগ আগে নেওয়া হয়নি। সুচিত্রাদেবী বলেন, ‘‘অনেকেই ঝাড়খণ্ডে পর্যটনের সম্ভার সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাই বিদেশিরা অনেকেই ভারতে এসে ঝাড়খণ্ডকে উপেক্ষা করে ফিরে যান।’’
ঝাড়খণ্ডের পর্যটনসচিব অবিনাশ কুমার জানান— ওই পর্যটন-বাজারে ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীদের সেলাই শিল্পের নমুনাও দেখানো হবে। ‘সান্থা’ নামে ওই শিল্পে মূলত হাজারিবাগ, জামশেদপুরের আদিবাসীরা পারদর্শী।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি’র অধ্যাপক সুধা ধিঙ্গরা সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের পর্যটন ডিরেক্টরকে চিঠি লিখে জানান— যে পদ্ধতিতে আদিবাসীরা কাপড়ে ওই সূচিশিল্প ফুটিয়ে তুলছেন তা খুব অভিনব। একমাত্র ইতালির বিশেষ ধরনের সুতোর কাজের সঙ্গে সান্থা শিল্পের তুলনা চলে। সুচিত্রাদেবীর প্রশ্ন, ‘‘ইতালির ওই শিল্পের কদর রয়েছে বিশ্বের ফ্যাশন বাজারে। তা হলে ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী শিল্পই বা পিছিয়ে থাকবে কেন?’’
আজ রাতেই রওনা দিচ্ছেন পর্যটন দফতরের প্রতিনিধিরা। পর্যটনমন্ত্রী অমরকুমার বাউরি বলেন, ‘‘অনেকে ভাবেন ঝাড়খণ্ডে ভাল হোটেল নেই। রাস্তাও ভাল নয়। পর্যটকদের ভুল ভাঙতেই আমরা লন্ডনে যাচ্ছি।’’