স্পিকার প্রণব গগৈয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিজেপির বহিষ্কৃত বিধায়কদের ধর্না। মঙ্গলবার অসম বিধানসভা চত্বরে উজ্জ্বল দেবের তোলা ছবি।
বিধায়ক বহিষ্কার-কাণ্ড ঘিরে রাজ্যের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পক্ষে-বিপক্ষে চলছে তরজার লড়াই। আক্রমণ, প্রতি আক্রমণে কেউ কাউকে জমি ছাড়তে নারাজ।
পুরো শীতকালীন অধিবেশনের জন্য তাঁদের বহিষ্কারকে অনৈতিক বলে দাবি করে ১৫ বিধায়ক আজ বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ তাঁদের চ্যাংদোলা করে গাড়িতে তুলে নিয়ে নিউ এমএলএ হোস্টেলের লবিতে আটকে রাখে। গেটে তালা ঝুলিয়ে কড়া পাহারায় রাখা হয় তাঁদের। বেলা ২টোয় অধিবেশন শেষ হলে ছাড়া হয় বিজেপির নতুন-পুরনো ১৫ বিধায়ককে।
বিধায়ক বহিষ্কার কাণ্ডে রণংদেহী রূপ নেয় যুব কংগ্রেস, এনএসইউআই-ও। বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে বিধানসভার পবিত্রতা নষ্টের অভিযোগ তুলে এ দিন তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। বিধানসভার সামনে জমায়েত হয়ে গেরুয়া বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তোলেন।
এ বার যুব কংগ্রেস, এনএসইউআই-র মিছিলের জবাব দিতে তৈরি বিজেপি। আগামী কাল তাঁরা বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছে। বিজেপি আগেই এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। বহিষ্কার-কাণ্ড তাকে বাড়তি মাত্রা এনে দিয়েছে। বিধানসভার বাইরে নিজেদের শক্তি দেখানোর জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মীদের গুয়াহাটিতে আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ আজও বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘বহিষ্কারের ঘটনা অসম বিধানসভায় নতুন নয়। কিন্তু গত কাল বিজেপি ও দলত্যাগী বিধায়করা যে আচরণ করেছেন, তেমনটা আগে ঘটেনি।’’ প্রচারে থাকার জন্যই বিজেপি এই ধরনের কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘তাঁরা শুধু শাসকদলকেই ব্যতিব্যস্ত করেননি, বিরোধী শিবিরকেও বিব্রত করেছে। একক ভাবে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য অন্য দলগুলির সঙ্গে এ নিয়ে কথাই বলেনি। তাই ইউডিএফ, অগপ, বিপিএফ আজও অধিবেশনে অংশ নিয়েছে।’’
বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র শাহনওয়াজ হোসেন গত কাল অসমে জঙ্গলরাজের অভিযোগ তোলায় অসমিয়া আবেগ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেন গগৈ। তিনি বলেন, ‘‘অসমের মানুষ জঙ্গলি নাকি, উনি জঙ্গলরাজ বললেন।’’ একে অসমবাসীর অপমান বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী গগৈ।
কাগজপত্রে ৬ জন হলেও এই সময়ে বিধানসভায় বিজেপির শক্তি ১৭। ৯ জন কংগ্রেস ত্যাগী ছাড়াও রয়েছেন পদ্ম হাজরিকা এবং নবকুমার দোলে। অগপ ছেড়ে আসা দুই বিধায়ককে দু’দিনের কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। বিজেপি বিধায়ক দিলীপকুমার পাল জানিয়েছেন, তাঁরা দু’জনই অসুস্থ। বিধায়কদের আটকে রাখার সমালোচনা করে দিলীপবাবু বলেন, ‘‘জনপ্রতিনিধিদের অযথা হয়রানি করা হয়েছে। এ যেন জরুরি অবস্থা চলছে।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘যুব কংগ্রেস, এনএসইউআই বিধানসভা চত্বরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। পুলিশ কিছু বলেনি। কিন্তু বিধায়করা বিধানসভার সামনে গেলে গ্রেফতার করা হয়। আসলে কংগ্রেস ভয় পেয়ে গিয়েছে। ’’
কংগ্রেস নেতৃত্বকে ভীত, হতাশাগ্রস্ত বলে উল্লেখ করেন বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা যাদবচন্দ্র ডেকাও। তিনি বলেন, ‘‘বিধায়কদের এমন ভাবে আটকে রাখা হল, আমরা যেন উগ্রপন্থী। অথচ গগৈ সরকার উগ্রপন্থী মোকাবিলায় ব্যর্থ।’’
এ দিকে, বিধানসভায় এ দিন হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের অভিযোগ আনার আর্জি জানানো হয়েছে। ছেলের টিকিটের জন্য স্পিকার গগৈ মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে গত কাল অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি নেতা হিমন্ত। পরিষদীয় মন্ত্রী রকিবুল হোসেন বলেন, ‘‘স্পিকারের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর। তাই তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের অভিযোগ এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’’ এআইইউডিএফ-এর পক্ষ থেকেও বিধানসভার মর্যাদা নষ্টের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন।
রাজ্যের সেচ ও ভূমি সংরক্ষণ মন্ত্রী চন্দন সরকার বলেন, ‘‘সব কিছুর নিয়মনীতি রয়েছে। সে সব না মানলে অধিবেশনে থাকবেন কী করে। স্পিকারকে অপমান করলে বহিষ্কার হতেই হবে।’’ সরকারকে প্রশ্ন করবে, আবার উত্তর শুনতে চাইবে না— এ কী রকম কথা জানতে চান চন্দনবাবু। বিজেপি বিধায়কদের নাটক না করতে পরামর্শ দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বিধায়ক অঞ্জন দত্ত।