বাংলাদেশের সিমকার্ড চলছে ত্রিপুরা সীমান্তে

বাংলাদেশের মোবাইল পরিষেবা সংস্থার ‘সিমকার্ড’ অবাধে চলছে ত্রিপুরার সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকার ফোনে ফোনে! এ কথা অজানা নয় প্রশাসন, বিএসএনএল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তা রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

Advertisement

আশিস বসু

শেষ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:০২
Share:

বাংলাদেশের মোবাইল পরিষেবা সংস্থার ‘সিমকার্ড’ অবাধে চলছে ত্রিপুরার সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকার ফোনে ফোনে!

Advertisement

এ কথা অজানা নয় প্রশাসন, বিএসএনএল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তা রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

রাজ্যবাসীর একাংশের বক্তব্য, ভিন্‌ দেশি মোবাইল পরিষেবা সংস্থার সিমকার্ডের ব্যবহারের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় জড়িয়ে। এতে ভাঙছে আন্তর্জাতিক আইনও। তা স্বত্ত্বেও পুলিশ-প্রশাসন কী ভাবে গা-ছাড়া মনোভাব দেখাতে পারে, সেই প্রশ্নের উত্তর তাঁরা পাচ্ছেন না।

Advertisement

ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার সীমান্তবর্তী মহকুমা সোনামুড়া। সেখানে পড়শি দেশের সিমকার্ড মিলছে সহজেই। সোনামুড়ার উমারাই, পুরানবাজার, দশরথবাড়ি, শ্রীমন্তপুর, বক্সনগর, তাইজ্জামুড়া, তারাপুকুর, আশাবাড়ি, মতিনগর-সহ বিস্তীর্ণ তল্লাটে বিদেশি সিমকার্ড প্রচুর ছড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ— সেখানে বিএসএনএল ‘নেটওয়ার্ক’ বেশির ভাগ সময় কাজ করে না। দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগও। কিন্তু বাংলাদেশের সিমকার্ডে সমস্ত পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অনেকের পরিজন থাকেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। ভিন্‌ দেশি সিমকার্ড দিয়ে নিশ্চিন্তে যোগাযোগ করা যাচ্ছে দূরে থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে।

সোনামুড়ার উমরাই গ্রামে দেখা এক কৃষকের সঙ্গে। মাঠে কাজ করছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বললেন, ‘‘খারাপ পরিষেবা নিয়ে বিএসএনএল অফিসে অনেক অভিযোগ করা হয়েছে। কাজ হয়নি। বাংলাদেশের সিমকার্ডে কোনও সমস্যাই নেই। কেন তা হলে ওই সিমকার্ড ব্যবহার করব না?’’ দশরথবাড়ি গ্রামের হাসিফ মিঞার কথাতেও একই সুর। তিনি বলেন, ‘‘ভিন্‌ দেশি সিমকার্ড ব্যবহার করে নাশকতা হতেই পারে, এ কথা তো প্রশাসন জানে। কেন তা হলেও কোনও পদক্ষেপ করছে না!’’ বিএসএনএল পরিষেবা ঠিকমতো না পাওয়ায় সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে ক্ষোভ রয়েছে। সেই সুযোগে রমরমিয়ে বিকোচ্ছে পড়শি দেশের সিমকার্ড।

সিপাহিজলা জেলার সিনিয়র ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রত্নজিত্‌ দেববর্মা ইঙ্গিত দেন— সব কথা প্রশাসন জানে। কয়েক দিন আগে প্রাক্তন জেলাশাসক মিলিন্দ রামটেক অবৈধ সিমকার্ডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে রাজ্যের বিএসএনএল কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন।

বিএসএনএল কী তার জেরে কোনও ব্যবস্থা নিয়েছে?

ত্রিপুরায় ওই সংস্থার জেনারেল ম্যানেজার জে রবিচন্দ্রন বলেন, ‘‘সোনামুড়ার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে বাংলাদেশের মোবাইল সিমকার্ড ব্যবহারের অভিযোগ মিলেছে। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রকের অধীন ‘টার্ম সেল’ ইউনিট এক মাত্র ব্যবস্থা নিতে পারে।’’

শিলংয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘টার্ম সেলের’ অধিকর্তা কুলবিন্দর সিংহ অবশ্য ‘এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না’ বলে দায় সেরেছেন। পাল্টা তিনি বলেন, ‘‘বিএসএনএল কর্তৃপক্ষই এ সবের উত্তর দিতে পারবেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement