খড়ের ঘরে শুরু হয়েছিল। ধাপে ধাপে টিনের ঘর থেকে এখন বিরাট বড় মন্দির। মাঝে ভাট্টা দুর্গাবাড়ির দুগার্পুজো পেরিয়ে গিয়েছে একশো বছর— এটা যেন বিশ্বাসই করে উঠতে পারছেন না পূর্ণিয়ার আম-বাঙালিরা। তবে বিশ্বাস হোক না-হোক, ভাট্টা বাড়ির দুর্গাপুজো ঘিরে বাঙালিদের উৎসাহ কম নেই। পূর্ণিয়ার এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘এখানকার বাঙালিদের ভোট নিয়েও কোনও উৎসাহ নেই। দুর্গাপুজোটা কাটলে ও-সব নিয়ে ভাবব।’’
ভাবার সময় থাকবেই বা কী করে! ভাট্টা দুর্গাবাড়ি অছি পরিষদের সচিব মনোজ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অন্য বারের মতো এ বারেও পুজোর দিনগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। তবে এ বারের অনুষ্ঠান বেশ বড় আকারেই হচ্ছে। স্বভাবতই এখানকার বাঙালিদের এ বার তাই উৎসাহও পূর্ণমাত্রায়।’’ মনোজবাবুই জানালেন, ১৯১০ সাল নাগাদ রায়বাহাদুর জ্যোতিষচন্দ্র ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯১৫ সাল থেকে তিনি এবং চারুচন্দ্র তরফদার, নিত্যগোপাল ঘোষ, গুহমোহন সান্যালেরা মিলে ওই পুজোকে বারোয়ারি করে দেন। তার পর থেকে পূর্ণিয়ার প্রাচীনতম পূজো হিসেবে চলে আসছে ভাট্টা-দুর্গাবাড়ির পুজো। এখন প্রবাসে বাঙালিয়ানাকে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে ভাট্টা-দুর্গাবাড়ি।
তবে একসময় ভাট্টাবাড়ির পুজোর মূল আকর্ষনই ছিল ফুট-টেনিস টুর্নামেন্ট। এখনও ফি-বছর অতীতের সেই ফুট-টেনিস নিয়ে আলোচনা শোনা যায় মণ্ডপের আনাচে-কানাচে। কলকাতা ময়দানে ফুটবলের জাদুকর সামাদ থেকে শুরু করে মোহনবাগানের প্রাক্তন অধিনায়ক অনিল দে, মহম্মদ লতিফ, পদ্ম মিত্র, অমল মজুমদার (নেপুদা)-ররাও এই ভাট্টাবাড়িতে খেলে গিয়েছেন ফুট-টেনিস। কিন্তু বছর পনেরো হল সেই ফুট-টেনিস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কারণ নতুন প্রজন্ম আর ফুটবল নয়, ক্রিকেটটাই খেলতে চায় বেশি।
তাতে অবশ্য ভাট্টাবাড়ির ঐতিহ্য কমেনি। ফুট-টেনিস না থাকলেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর পুজোর নিয়মকানুনে পুরোদস্তুর বাঙালিয়ানা আর একশো বছর আগের ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন পূর্ণিয়ার বাঙালিরা। এবং সেই কারণেই বিহার-বাংলায় এখনও পশুবলি বন্ধের জন্য যখন রীতমতো প্রচার চালাতে হয় তখন অনেক আগে থেকেই প্রবাসের চিরায়ত এই পুজোয় পশুবলি একেবারে নিষিদ্ধ।
শতবর্ষের ঐতিহ্য মেনেই।