মুম্বই গণধর্ষণে রায় সাত মাসে, দোষী ৫

নির্ভয়া-কাণ্ডের কিছু দিনের মধ্যেই দু’টি গণধর্ষণের অভিযোগ কাঁপিয়ে দিয়েছিল মুম্বইকে। ‘নিরাপদ’ শহর হিসেবে পরিচিত বাণিজ্যিক রাজধানীর ভাবমূর্তিতে লেগেছিল ধাক্কা। সাত মাসের মধ্যে সেই দু’টি মামলার ফয়সালা করে কিছুটা হলেও ভাবমূর্তি উদ্ধারের চেষ্টা করল মুম্বই। সেই সঙ্গে মহারাষ্ট্র সরকারও। পাঁচ অভিযুক্তের শাস্তি ঘোষণার সময়ে আদালতে হাজির রইলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আর পাটিল।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০১৪ ০৩:২৮
Share:

দোষীদের তিন জন। ছবি: পিটিআই।

নির্ভয়া-কাণ্ডের কিছু দিনের মধ্যেই দু’টি গণধর্ষণের অভিযোগ কাঁপিয়ে দিয়েছিল মুম্বইকে। ‘নিরাপদ’ শহর হিসেবে পরিচিত বাণিজ্যিক রাজধানীর ভাবমূর্তিতে লেগেছিল ধাক্কা। সাত মাসের মধ্যে সেই দু’টি মামলার ফয়সালা করে কিছুটা হলেও ভাবমূর্তি উদ্ধারের চেষ্টা করল মুম্বই। সেই সঙ্গে মহারাষ্ট্র সরকারও। পাঁচ অভিযুক্তের শাস্তি ঘোষণার সময়ে আদালতে হাজির রইলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আর পাটিল।

Advertisement

২০১৩ সালের জুলাই মাসে মুম্বইয়ের পরিত্যক্ত শক্তি মিলস চত্বরে ধর্ষণ করা হয় এক টেলিফোন অপারেটরকে। আবার অগস্ট মাসে সেখানেই ধর্ষণের শিকার হন এক চিত্রসাংবাদিক। চিত্রসাংবাদিকের সঙ্গে ছিলেন তাঁর পুরুষ বন্ধু। তাঁকে মারধর করে বেল্ট দিয়ে বেঁধে রাখে দুষ্কৃতীরা। সাংবাদিকের ধর্ষণের ঘটনা জাগিয়ে তোলে তার কিছু দিন আগে দিল্লিতে প্যারামেডিক্যাল ছাত্রী নির্ভয়ার ধর্ষণের স্মৃতি।

নির্ভয়ার ঘটনায় গণবিক্ষোভের ফলে বিপাকে পড়েছিল কেন্দ্র ও দিল্লির কংগ্রেস সরকার। একই ভাবে মুম্বইয়ের দু’টি ঘটনায় বিপাকে পড়ে শাসক কংগ্রেস-এনসিপি জোট। তাদের বিরুদ্ধে অপদার্থতার অভিযোগ নিয়ে সরব হয় বিজেপি। আর আর পাটিলের ইস্তফারও দাবি ওঠে।

Advertisement

ফলে, এই মামলাগুলি মহারাষ্ট্র সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল।

তাই গোড়া থেকেই কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি মহারাষ্ট্র সরকার। দ্রুত গ্রেফতার হয় অভিযুক্তরা। ২৮ দিনের মধ্যে ৬০০ পাতার চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। কয়েকটি শিবিরের মতে, যা সত্যিই রেকর্ড সময়। সাত মাসে দুই মামলা মিলিয়ে ৭৫ জন সাক্ষীর বক্তব্য শুনেছে আদালত। সরকারপক্ষের কৌঁসুলি হিসেবে মুম্বই বিস্ফোরণ মামলা খ্যাত উজ্জ্বল নিকমকে নিয়োগ করা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছিল, বিজয় যাদব, মহম্মদ কাসিম হাফিদ শেখ ও মহম্মদ আনসারি নামে তিন জন দুই ধর্ষণেই অভিযুক্ত। আজ তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছেন দায়রা বিচারক শালিনী-ফেনসালকর জোশী। তা ছাড়া চিত্রসাংবাদিক ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সিরাজ খান, অন্য মামলাটিতে মহম্মদ আশফাক শেখ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, ষড়যন্ত্র, ভীতি প্রদর্শন-সহ বেশ কিছু অভিযোগ এনেছিল পুলিশ। দুই মামলায় অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছে দুই নাবালকও। জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে তাদের বিচার হচ্ছে।

সাত মাসের শুনানিতে বেদনাদায়ক দৃশ্যও দেখেছে দায়রা আদালত। সাক্ষ্য দিতে এসে জ্ঞান হারিয়েছিলেন চিত্রসাংবাদিক তরুণী। কিন্তু বক্তব্য থেকে একচুল সরেননি তিনি বা তাঁর পুরুষ বন্ধু। ফলে, আদালতের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায় বলেই মনে করা হচ্ছে।

আজ সরকারি কৌঁসুলি নিকম সওয়ালে বলেন, “আইনে গণধর্ষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা দোষীদের সেই শাস্তি দেওয়ারই আর্জি জানাচ্ছি। কারণ, দোষীদের অপরাধমূলক কাজ করার প্রবণতা রয়েছে।” সরকার

ও আসামিপক্ষের বক্তব্য শোনার পরে আগামিকাল শাস্তি ঘোষণা করবেন বিচারক।

আজ আদালতে হাজির ছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আর পাটিল। অনেকের মতে, বাণিজ্যিক রাজধানীর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার একটা দায় স্থানীয় প্রশাসনের ছিলই। কারণ, বরাবরই দিল্লির মতো শহরের তুলনায় মুম্বইকে নিরাপদ বলেই মনে করা হয়েছে। মুম্বইয়ে রাত দু’টোর সময়ে এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে মহিলারাও নিরাপদে যেতে পারেন বলেই ভাবতেন শহরের বাসিন্দারা। শক্তি মিলসের ঘটনায় তাই কড়া বার্তা দেওয়া একান্তভাবেই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়িও কম হয়নি। অনেকের মতে, তাই ভোটের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে আদালতে হাজির হয়ে বোঝাতে চাইলেন, তাঁরা বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে পাটিল সাফ বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব মামলার ফয়সালা হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে অন্য কেউ এই ধরনের কাজ করার আগে দু’বার ভাববে।” স্বস্তির ছোঁয়া মুম্বই পুলিশের বক্তব্যেও। অপরাধ-দমন শাখার প্রধান হিসেবে এই ঘটনাগুলির তদন্ত করেছিলেন হিমাংশু রায়। তিনি এখন সন্ত্রাস-দমন শাখার (এটিএস) প্রধান। হিমাংশুবাবুর কথায়, “টেলিফোন অপারেটর তরুণীর ঘটনার কিনারা করাই বেশি কঠিন ছিল। কারণ, তিনি ঘটনার এক মাস পরে অভিযোগ জানান। শক্তি মিলস চত্বর পরিত্যক্ত বলেই সব প্রমাণ সহজেই হাতে পাওয়া গিয়েছিল।”

অপরাধীদের শাস্তির ঘোষণা শুনতে এখন প্রহর গুণছে মুম্বই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement