সলমন মামলা

মূল সাক্ষীর বয়ান নিয়েই প্রশ্ন বম্বে হাইকোর্টের

রায়দান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে পরশু। শেষ হতে পারে আগামী কাল। কিন্তু আজ দিনের শেষে আদালতের যা পর্যবেক্ষণ, তাতে হাসি ফুটতে পারে সলমন খানের মুখে।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৪:৫২
Share:

রায়দান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে পরশু। শেষ হতে পারে আগামী কাল। কিন্তু আজ দিনের শেষে আদালতের যা পর্যবেক্ষণ, তাতে হাসি ফুটতে পারে সলমন খানের মুখে।

Advertisement

গত তিন দিন ধরে বম্বে হাইকোর্টে চলছে সলমন খানের গাড়ি চাপা
দিয়ে হত্যা মামলার রায়দান। আজ আদালত জানিয়েছে, সেই রাতে সলমন যে মদ্যপ ছিলেন এবং তিনিই যে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তা প্রমাণে ব্যর্থ সরকারি আইনজীবী। সেই সঙ্গেই আদালতের বক্তব্য, সরকারের তরফে পেশ করা অন্যতম মূল সাক্ষী রবীন্দ্র পাটিলের সাক্ষ্যও নির্ভরযোগ্য নয়। ফলে সলমনের বিরুদ্ধে দেওয়া রবীন্দ্রের সাক্ষ্যও যে কোনও মুহূর্তে নাকচ হয়ে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত।

২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে সলমনের নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি ধাক্কা মারে বান্দ্রার একটি বেকারির দোকানে। সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল এক ফুটপাথবাসীর। আহত হন চার জন। তেরো বছর ধরে চলা সেই মামলায় সলমনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল মুম্বইয়ের দায়রা আদালত। পাঁচ বছরের কারাদণ্ডও হয়েছিল জনপ্রিয় এই বলিউড তারকার। কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে নিম্ন আদালতের দেওয়া সেই রায়ের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেন সলমন। সেই মামলারই রায় প্রসঙ্গে বিচারপতি এ আর জোশী জানিয়েছেন, যে সাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে সরকারি আইনজীবী সলমনকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, তাঁর বয়ান আদৌ নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ‘‘দেখা গিয়েছে সময় সময় ওই সাক্ষী তাঁর বয়ান বদল করেছেন।’’

Advertisement

রবীন্দ্র পাটিল ছিলেন সলমনের দেহরক্ষী। দুর্ঘটনার সময় সলমনের গাড়িতেই ছিলেন তিনি। তিনিই প্রথম জানিয়েছিলেন, মদ্যপ সলমনই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আদালত জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরে পুলিশের কাছে করা এফআইআরে সে কথা রবীন্দ্র উল্লেখ করেননি। ঘটনার দিন তিনেক পরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বয়ান বদল করেন রবীন্দ্র। জানান, একটি নাইটক্লাব থেকে ফিরছিলেন সলমন। সেখানে মদও খেয়েছিলেন অভিনেতা। রবীন্দ্র জানিয়েছিলেন, তিনি বারবার বারণ করা সত্ত্বেও সলমনই চালকের আসেন বসেন। ২০০৭ সালে মারা যান রবীন্দ্র। আর ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া সেই বয়ানের ভিত্তিতেই সলমনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল দায়রা আদালত। কিন্তু বম্বে হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, কেন ঘটনার রাতেই সলমনের মদ খাওয়া নিয়ে অভিযোগ করলেন না রবীন্দ্র? আদালতের আরও বক্তব্য, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা অভিযোগ (৩০৪ এ) অনুযায়ী খুব বেশি হলে সলমনের দু’বছরের জেল হওয়ার কথা। অথচ এই মামলা দায়রা আদালতে গেলে তার ধারা বদলে যায় (৩০৪ পার্ট ২), যেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধীর দশ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

খান পরিবারের গাড়িচালক অশোক সিংহের বয়ান দায়রা আদালত কেন গ্রহণ করেনি, সে প্রশ্নও তুলেছে হাইকোর্ট। ঘটনার তেরো বছর পরে, অর্থাৎ চলতি বছর দায়রা আদালতে মামলা চলার সময়, অশোক জানিয়েছিলেন, সে রাতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। সলমন তাঁর পাশে ছিলেন। সলমনের দরজা লক হয়ে যাওয়ায় তিনি চালকের দিক দিয়ে গাড়ি থেকে নেমেছিলেন। তাই সবাই ধরে নিয়েছিলেন, সলমনই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। গাড়িতে উপস্থিত গায়ক কামাল খানের সাক্ষ্য কেন নেওয়া হয়নি, আজ সে প্রশ্নও তুলেছে আদালত। বিচারপতি জানিয়েছেন, কামালের সাক্ষ্য না নেওয়া এই মামলারই ক্ষতি করেছে। কারণ গাড়িতে অশোকের উপস্থিতি নিয়ে একমাত্র তিনিই আলোকপাত করতে পারতেন।

এই মামলার রায় নিয়ে সকাল থেকেই মানুষের কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো। আজ ভিড়ে ঠাসা আদালত কক্ষে কার্যত তিল ধারণের জায়গা ছিল না। তবে আজ আদালতে হাজির ছিলেন না সলমন। ছিলেন তাঁর বোন অলবিরা খান অগ্নিহোত্রী।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement