অমিত শাহ
পাক ধরা চুলেও বুক ফুলিয়ে নিজেকে যুব নেতা বলে বেড়ান, সব দলেই কম বেশি এমন অনেককে খুঁজে পাওয়া যাবে। ক’দিন আগেও কংগ্রেসে ৪০-৫০ পেরোনো অনেকেই ‘যুব নেতা’র তকমা পরে ঘুরে বেড়াতেন। বছর খানেক আগে রাহুল গাঁধীকেও যুব নেতা বলেই আকছার সম্বোধন করা হতো। অথচ বয়স তাঁর পঁয়তাল্লিশের কোঠায়। রাহুলেরই তৎপরতায় অবশ্য বয়সের সীমারেখাটি এখন কঠোর ভাবে মানা হচ্ছে। বিজেপিতেও এ বারে সেই নিয়ম পালনের ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। কারণ বিজেপিতেও এখন বেশি বয়সের ‘যুব নেতা’র ভিড় কম নয়। দলের যুব মোর্চার সভাপতি অনুরাগ ঠাকুরেরই বয়স ৪১!
এই অবস্থায় যুব নেতাদের বয়স ৩৫-এ বাঁধার প্রথাকে শক্ত হাতে রূপায়ণ করতে চাইছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। বেঙ্কাইয়া নায়ডু দলের যুব মোর্চার দায়িত্বে থাকার সময় এই নিয়মটি কঠোর ভাবে মানা হতো। তার পর থেকে শিথিল হতে শুরু করে নিয়ম। বিজেপির যুব মোর্চার মিডিয়া সেলের প্রধান দীনেশ প্রতাপ সিংহের যুক্তি, পদাধিকারী নিয়োগের সময় ৩৫ বছর বয়সের সীমারেখাটি জরিপ করেই নেওয়া হয়। ২০১০-এ অনুরাগকে যখন যুব মোর্চার সভাপতি করা হয়, তখন তাঁর বয়স ৩৫-এর নীচেই ছিল। অমিত যদি দ্বিতীয় দফায় সভাপতি হয়ে নতুন টিম গড়ার সময়ে যুব মোর্চার মুখ বদল করতে চান, সেটি তাঁর বিবেচনার বিষয়।
বিজেপির শীর্ষ সারির নেতারা মনে করছেন, ৩৫ পেরিয়ে যাওয়া নেতারা পদ আঁকড়ে থাকলে নতুনরা এগিয়ে আসতে পারবেন না। অথচ গত ভোটে নরেন্দ্র মোদীকে জিতিয়ে আনার ক্ষেত্রে নবীনদের ভূমিকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পরের লোকসভা ভোটের আগে তাই যুবকদের আরও বেশি সংখ্যায় দলে সামিল করতে হবে প্রক্রিয়াটি শুরু করতে হবে কলেজ স্তর থেকে। অনুরাগ অবশ্য বসে নেই। যুব মোর্চার শক্তি দেখাতে মার্চের গোড়ায় মথুরায় একটি মহাসম্মেলন করতে চলেছেন তিনি। প্রায় কুড়ি হাজার যুব নেতাকে সেখানে জড়ো করতে চান। এর পরে চল্লিশ পেরোনো অনুরাগকে যুব মোর্চা থেকে ছুটি দেওয়া হয় কি না, সেটাই দেখার।