সামনে ঘরণীকে রেখে আসলে ভীষণ ভাবেই লড়াইয়ে রয়েছেন লালু প্রসাদ। সারন তথা সাবেক ছপরা লোকসভা কেন্দ্রে তাই স্বস্তিতে নেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাজীবপ্রতাপ রুডি। কারণ তথ্য বলছে, যত বার যাদব-কুলপতির মুখোমুখি হয়েছেন, তত বারই হারতে হয়েছে রাজপুত নেতা রাজীবপ্রতাপকে।
কিন্তু এ বার নিজের লোকসভা আসনে লালু প্রার্থী করেছেন স্ত্রী রাবড়ী দেবীকে। ছপরা জিলা যুব বিজেপির নেতা রঞ্জন সিংহ-র অবশ্য মত, “ধরে নিন লালুজিরই আর এক নাম রাবড়ী। লড়াই বহোত টাফ্ হ্যায়।” একই কথা বলছেন স্বয়ং লালুজিও, “লালু ইজ রাবড়ী, রাবড়ী ইজ লালু।” জনসভায় হাততালির ঝড় বয়ে যাচ্ছে। আর রাবড়ী তাঁর মতো করে ব্যাখ্যা করছেন, “স্ত্রীর পরিচয় স্বামীর নামে, আবার স্বামীও পরিপূর্ণ হন স্ত্রীর কারণে।”
রাবড়ী দেবী রাজনীতির অন্দরে প্রবেশ করেছেন সেই ১৯৯৭ সালে। একেবারে মুখ্যমন্ত্রীর তখ্তে। ২০০৫ পর্যন্ত তাঁকে সামনে রেখেই বিহার শাসন করেছেন লালু প্রসাদ। ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে যত বারই তাঁর হাতে ‘ব্যাটন’ দিয়েছেন লালুজি, কখনও নারাজ হননি তিনি। রাবড়ী দেবীর কথায়, “পতিব্রতা হিসেবে এ বারে আরও এক পরীক্ষা।”
ইতিহাস বলছে, লালু প্রসাদকে যাদবদের নেতা বানিয়েছেন কার্যত ছপরার মানুষই। ফলে আদালতের রায়ের পরে লালু যখন বুঝলেন এ বার তিনি ভোট যুদ্ধে সরাসরি নেই, তখনই গুঞ্জন ওঠে এ বার কি ফের প্রার্থী হচ্ছেন তাঁর ঘরণী? শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হল। আর রাবড়ীর প্রচারে ছায়া-সঙ্গী তাঁর ছোট ছেলে তেজস্বী। কখনও লালুও থাকছেন। ছপরার মানুষ যেমন তাঁকে দেখেছেন, শোনা যায়, এখানকার মানুষকেও লালুজি বিমুখ করেননি। ফলে ছপরা যে তাঁর পত্নীকে বিমুখ করবে না, তা নিয়ে এক প্রকার নিশ্চিত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপির অবশ্য প্রচার, রাবড়ী সব সময় লালুজির হয়ে ‘প্রক্সি’-ই দিয়ে যাচ্ছেন। প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রক্সি, এ বার লোকসভা ভোটেও। তবে লালু-পত্নীর কথায়, “আমি তাঁর স্ত্রী বলেই এমন কথা উঠছে। কিন্তু আমি
তো দলের এক জন কর্মীও। ” তবে তিনি এটাও স্বীকার করছেন, “এখানকার মানুষ আমাকে নয়, তাঁকেই ভোট দেবেন।”
লালুও তাই সময় বের করে আসছেন সারনে। ছপরা থেকে তিরিশ কিলোমিটার দূরে ডিহি গ্রামে লালুর জনসভায় উপচে পড়া ভিড়। মঞ্চে উঠে এলেন লালু-রাবড়ী। রাবড়ীর চোখে বড়সড় রোদ-চশমা। মাইক হাতে লালু স্ত্রীকে দেখিয়ে বললেন, “ইয়ে কোই ফিল্মস্টার নেহি হ্যায় জি। আপকা বহু হ্যায়, বহু। আপনাদের মনে হতে পারে রাবড়ীজি কেন কালো চশমা পরে এসেছেন। তাঁর চোখে অপারেশন হয়েছে। ফ্যাশন-অ্যাসন নেহি হ্যায়।”
প্রবল হাসিতে ফেটে পড়ে জনতা। হাসি চওড়া হয় রাবড়ীর মুখেও। কিন্তু তাতেই কপালের ভাঁজ গভীরতর হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজীবপ্রতাপের।