রাষ্ট্রপতি পুলিশ সম্মান সারদা তদন্তকারীকে

সারদা-কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসারকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। ঘটনাচক্রে আজই পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ শানালেন। বিষয় দু’টির সমাপতনকে বিজেপির ভোট রাজনীতির অঙ্গ বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০১৬ ০৪:২২
Share:

রাজীব সিংহ

সারদা-কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসারকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। ঘটনাচক্রে আজই পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ শানালেন। বিষয় দু’টির সমাপতনকে বিজেপির ভোট রাজনীতির অঙ্গ বলে মনে করছেন কেউ কেউ। পশ্চিমবঙ্গে ভোট সামনে। ফলে সারদা নিয়ে বিরোধী শিবিরের আক্রমণ ও সিবিআইয়ের তৎপরতা, দুই-ই বাড়বে বলে একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তৃণমূলে।

Advertisement

রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকলেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিরা ও কর্মীবাহিনী কিন্তু এটিকে তাদের কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। এমনিতেই লোকবলের অভাব, পরিকাঠামোয় ঘাটতি, অনেক ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলির কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা না মেলা— এই রকম বহুবিধ সমস্যার মধ্যে কাজ করতে হয় সিবিআইকে। আবার আদালতে সেই সব সীমাবদ্ধতার কথা জানাতে গিয়েও একাধিক বারই জুটেছে ভর্ৎসনা। তা সত্ত্বেও নজরকাড়া কিছু মামলার তদন্তে সিবিআই অফিসাররা যে উল্লেখযোগ্য দক্ষতার পরিচয় রাখছেন, রাষ্ট্রপতি পুলিশ সম্মানকে তারই স্বীকৃতি হিসেবে দেখতে চাইছেন সিবিআইয়ের লোকজন। তাঁদের বক্তব্য সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস রাজীব সিংহের ইতিবাচক ভূমিকাই স্বীকৃতি পেল। যা সিবিআইয়ের মনোবল বাড়াবে।

কেন্দ্রীয় সরকারও বলছে রাষ্ট্রপতি পুলিশ সম্মানের বিষয়টিকে আদৌ সারদা-কেন্দ্রিক বা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করার কোনও কারণই নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তার কথায়, ‘‘রাজীব সিংহ ছাড়াও, মুম্বইয়ে শিনা বরা হত্যা তদন্তের যিনি দায়িত্বে ছিলেন সেই লতা মনোজ কুমারকেও রাষ্ট্রপতি পুলিশ মেডেল দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, দলিত দুই বোনের হত্যারহস্য ভেদ করার জন্য একই সম্মান পাচ্ছেন উমেশচন্দ্র দত্ত।’’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওই কর্তার দাবি, প্রাপকদের নাম ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির তালিকায় চোখ বোলালেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, যারা হাই প্রোফাইল রহস্যের সমাধান করতে সক্ষম হয়েছেন তাঁদের মনোবল বাড়াতে এই পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। এর পিছনে কোনও রাজনীতি নেই।’’

Advertisement

কেন্দ্রীয় সরকার বা সিবিআইয়ের কর্তারা যে যা-ই বলুন বাংলার রাজনীতিতে সারদা বিযয়টি এতই স্পর্শকাতর যে, কোনও ভাবে তার প্রসঙ্গ উঠলেই রাজ্য রাজনীতিতে তা আলোড়ন তৈরি করতে বাধ্য। কারণ, গত লোকসভা ভোটের প্রচারে বিরোধী শিবিরের অন্যতম অস্ত্রই ছিল সারদা কেলেঙ্কারি। মাঝে সেই প্রচার অবশ্য কিছুটা থিতিয়ে এসেছিল। কিন্তু গত কাল দ্বিতীয় দফায় দলের সভাপতি হয়েই অমিত শাহ আজ বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে, প্রত্যাশিত ভাবেই তুলেছেন সারদা কেলেঙ্কারি ও ওই সংস্থার সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের সুসম্পর্কের প্রসঙ্গ। নরেন্দ্র মোদী সরকারের মন্ত্রীরা যিনি যখন এসেছেন, তাঁরা যে এ নিয়ে খুব বেশি আক্রমণাত্মক হয়েছেন এমন নয়। কিন্তু সংগঠনের মাথা হিসেবে দলের লোকজনকে চাঙ্গা করে তোলায় দায়টা অমিত শাহেরই। যে কারণে বিজেপি সভাপতি এ দিনও প্রশ্ন তুলেছেন, সুদীপ্ত সেন কেন ও কী ভাবে তৃণমূল নেত্রীর আঁকা ছবি এত চড়া দামে কিনেছেন? কোথায় গেল সারদার টাকা?

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ফের তৃণমূলের বিরুদ্ধে সারদা কেলেঙ্কারির ক্ষতকে সজীব করে তুলতে চাইবে, এটা মোটেই অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। ফলে অমিতের এ দিনের আক্রমণ সেই পরিকল্পনারই অঙ্গ হিসেবে দেখছে তৃণমূল। তবে রাষ্ট্রপতি পুলিশ সম্মান প্রাপকদের তালিকা কিছুটা হলেও চিন্তা বাড়িয়েছে তৃণমূলের। এটা ঘটনা, গত বছরের মাঝামাঝি থেকে সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে হইচই মাঝে কিছুটা থিতিয়ে এসেছিল। সিপিএম ও কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলি এতে অভিযোগ তুলছিল, সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এ নিয়ে একটি রফা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে সংসদে বিশেষ করে রাজ্যসভায় বিজেপিকে সাহায্য করবে তৃণমূল। ও-দিকে শ্লথ হবে সারদা তদন্ত। কিন্তু এখন মোদী সরকার সিবিআইয়ের দক্ষ ও সফল অফিসারদের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের পিঠ চাপড়ে দেওয়ায় ভোটের মুখে তারা যদি বাড়তি উৎসাহ নিয়ে সারদা তদন্তে ঝাঁপায় তাতে চিন্তা বাড়বে তৃণমূল শিবিরে। কেননা দলের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র এখনও জেলে। ওই ঘটনায় এখনও নাম জড়িয়ে রয়েছে শাসক শিবিরের একাধিক নেতা-নেত্রীর। ভোটের আগে তাঁদের তলব করতে পারে সিবিআই। তাঁদের কয়েক জনের গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। রাজীব সিংহের রাষ্ট্রপতি পুলিশ সম্মান পাওয়া নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি কোনও দলের নেতৃত্বেই অবশ্য প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement