Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper

পড়া শেষ করে দু’বছর কাজের সুযোগ ব্রিটেনে

বুধবার বিভিন্ন দেশের পড়ুয়াদের জন্য ‘পঠন-পরবর্তী কাজের ভিসা’ ফের চালু করল ব্রিটিশ সরকার।

ব্রিটেনে পড়তে আসা ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য সুখবর। পড়াশোনার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে কাজের জন্য আরও দু’বছর এ দেশে থেকে যেতে পারবেন তাঁরা। বুধবার বিভিন্ন দেশের পড়ুয়াদের জন্য ‘পঠন-পরবর্তী কাজের ভিসা’ ফের চালু করল ব্রিটিশ সরকার। যার সুবিধা পাবেন ভারতীয় পড়ুয়ারাও। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে যাঁরা ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন, তাঁরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এর আগেও এই ধরনের ভিসার সুবিধা পেতেন বিদেশি পড়ুয়ারা। কিন্তু ২০১২ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মে এই ভিসা বাতিল করে দেন। আজ বরিস জনসন ক্যাবিনেটের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রীতি পটেল ফের এই ভিসা চালু করার কথা ঘোষণা করে বলেন, ‘‘বিদেশের উচ্চ মেধাসম্পন্ন পড়ুয়ারা ব্রিটেনে পড়াশোনার পরে আরও দু’বছর থেকে মূল্যবান কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।’’ ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার ডমিনিক অ্যাসকুইথের কথায়, ‘‘ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য এটা দারুণ সুখবর। ব্রিটেনে পড়াশোনা শেষ করার পরে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এ বার কাজেরও সুযোগ পাবেন তাঁরা।’’
২০১২ সালে টেরেসার সেই সিদ্ধান্তের প্রবল সমালোচনা করেছিলেন লন্ডনের তৎকালীন মেয়র, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘‘শ্রেষ্ঠ পড়ুয়াদের এ দেশে কাজের সুযোগ দিতেই হবে।’’ আজ নতুন ভিসা নীতি ঘোষিত হওয়ার পরে অর্থমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ টুইট করেন, ‘‘এত দিনে একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই অর্থহীন নিয়ম অনেক আগেই পাল্টে ফেলা উচিত ছিল।’’ প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, বরিস জনসনের ভাই জো জনসন তাঁর দাদার ক্যাবিনেট থেকে দিন কয়েক আগেই ইস্তফা দিয়েছেন। এই ভিসা ফিরিয়ে আনায় বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। জো-ও আজকে টুইট করেছেন— ‘‘অবশেষে সাফল্য!’’
টেরেসা মে-র ভিসা নীতি বদলের পরে উল্লেখযোগ্য ভাবে ব্রিটেনে আসা ভারতীয় পড়ুয়ার সংখ্যা কমে গিয়েছিল। প্রথম বছরেই সংখ্যাটা ৩০ শতাংশ কমে যায়। পাল্লা দিয়ে বাড়ে অস্ট্রেলিয়া বা সিঙ্গাপুরের মতো ‘নতুন দেশে’ যাওয়ার হিড়িক। বিদেশি পড়ুয়াদের কাছ থেকে বিপুল রোজগার করে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। বছরে দু’হাজার ৬০০ কোটি পাউন্ডের সেই  আয়ে বড়সড় ঘাটতি দেখা দেয়।
 তবে গত দু’বছরে ভারতীয় পড়ুয়ার সংখ্যাটা আবার বেড়েছে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ব্রিটেনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়তে গিয়েছিলেন প্রায় ২২ হাজার পড়ুয়া। তার আগের শিক্ষাবর্ষের থেকে যা ৪২ শতাংশ বেশি। এবং তিন বছর আগের থেকে প্রায় একশো শতাংশ বেশি। ব্রেক্সিটের পরে ইউরোপের বাইরে থেকে আসা বিদেশি পড়ুয়াদের বেশি করে আকৃষ্ট করতেই এই নতুন ভিসা নীতি বলে মনে করা হচ্ছে। 
 
নতুন স্কলারশিপ: মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য স্কলারশিপ চালু করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ মেঘনাদ দেশাই। সংবাদ সংস্থার খবর, লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স (এলএসই)-র পড়ুয়ারা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ব্রিটেনে মহাত্মা গাঁধী মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান-ও দেশাই। তিনি বুধবার জানান, এই ট্রাস্ট স্কলারশিপের জন্য এলএসই-কে এক লক্ষ পাউন্ড অনুদান দেবে।

Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper