Royal Food Restrictions

রাজবাড়ির রান্নাঘরে ভুলেও ঢোকে না ৭ খাবার! কেন এড়িয়ে চলেন ব্রিটেনের রাজা-রানি, পুত্র-কন্যারা?

যিনি কোনও দিন রাজা হবেন না তেমন সদস্যকেও ব্যক্তিগত জীবনে নানা কড়া নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। যত সুস্বাদুই হোক না কেন কিছু খাবার খেতে পারেন না তাঁরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ১০:০০
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

রাজবাড়ির আদবকায়দা বরাবরই অন্য রকম। হবে না-ই বা কেন, সেখানে রাজা-রাজড়ারা থাকেন। প্রজাদের সঙ্গে তাদের মিল না থাকাই দস্তুর। বাইরে থেকে সেই অমিলকে প্রজারা অনেক সময় বাঁকা নজরে দেখেন ঠিকই কিন্তু রাজবাড়ির সদস্যদেরও সমাজের প্রতি কিছু দায় থাকে। থাকে সেই দায় সামলানোর জন্য নিয়মনীতি। থাকে কিছু কিছু কৃচ্ছ্রসাধনও। যা বাহুল্যের মোড়কে ঢাকা পড়ে যায় হয়তো। কিন্তু তাই বলে নিয়ম মানার ক্ষেত্রে কোনও নড়চড় হওয়ার জো থাকে না।

Advertisement

খতিয়ে দেখলে বহু রাজ পরিবারেরই এমন কিছু কড়া বিধিনিষেধের কথা জানা যাবে। ব্রিটেনের রাজবাড়িও তার ব্যতিক্রম নয়। এক কালে দুনিয়ার বহু দেশকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা ওই রাজবাড়ির রাজা থেকে রানি হয়ে রাজপুত্র-রাজকন্যা, রাজবধূ, এমনকি, যিনি কোনও দিন রাজা হবেন না তেমন সদস্যকেও ব্যক্তিগত জীবনে নানা কড়া নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় পছন্দের পোশাক পরতে পারেন না তাঁরা, মহিলারা ব্যবহার করতে পারেন না প্রিয় প্রসাধনী। তার পাশাপাশি যত সুস্বাদুই হোক না কেন, কিছু খাবার খেতে পারেন না তাঁরা।

বিশেষ করে ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্যরা ৭টি খাবার থেকে শতহস্ত দূরে থাকেন। সেগুলি কী কী?

Advertisement

১। মশলাদার খাবার

রগরগে ঝোল, লালচে মশলায় কষানো খাবার দাবার, টক-ঝাল-মিষ্টির চড়া স্বাদ যা জিভে দিলেই মুহূর্তে মন চনমনে হয়ে যায়, তেমন খাবার খাওয়ার অনুমতি নেই রাজবাড়ির সদস্যদের। সচরাচর রাজার রান্নাঘরেও তেমন রান্না হয় না। কারণ, ওই ধরনের খাবার খেলে শরীর যদি কোনও ভাবে খারাপ হয় বা পেটের গোলমাল দেখা দেয়, আর বাইরে রাজার কোনও অনুষ্ঠান থাকে, তবে তাঁর সম্মান এবং ভাবমূর্তির দফা রফা।

২। চিংড়ি-কাঁকড়া এবং আরও কিছু সি-ফুড

খোলসে আপত্তি রাজবাড়ির। খোলস আছে এমন যে কোনও মাছজাতীয় খাবার বা সি-ফুড তাঁরা খান না। তালিকায় চিংড়ি-কাঁকড়া-ঝিনুক, স্কুইড, ক্রেফিশ, বেবি অক্টোপাসও রয়েছে। কেন খান না, তার উত্তর এক বার দিয়েছিলেন রাজবাড়ির এক প্রাক্তন বাটলার। তিনি বলেছিলেন, ‘‘ওই ধরনের খাবার থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়া হওয়ার সুযোগ থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই রাজার বাড়ির মেনুকার্ডে ওই ধরনের খাবার দেখতে পাবেন না।’’ তাই আর যাই হোক, চিংড়ির মালাইকারি, শ্রিম্প নুড‌্‌ল বা ডেভিল ক্র্যাবের মতো সুস্বাদু খাবারের স্বাদ কোনও দিন পাবেন না তাঁরা।

৩। পেঁয়াজ

রান্না করা পেঁয়াজে সমস্যা নেই তবু। কিন্তু কাঁচা পেঁয়াজ মুখে তোলা বারণ। তার কারণ, কাঁচা পেঁয়াজের গন্ধ মুখে লেগে থাকে দীর্ঘ ক্ষণ। মুখ ধুয়েও তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। রাজা-রানি কথা বলছেন, আর তাঁর মুখ থেকে পেঁয়াজের গন্ধ পাচ্ছেন বিশেষ অতিথি— ভাবুন তো ব্যাপারটা কেমন হবে? তাই একান্তে খেলেও কোনও সামাজিক বা পারিবারিক অনুষ্ঠান থাকলে ভুলেও কাঁচা পেঁয়াজ চেখে দেখেন না রাজা-রানি, রাজপুত্র-রাজকন্যা-রাজবধূরা।

৪। রসুন

রসুন না খাওয়ার কারণও কিছুটা পেঁয়াজের মতোই। তার তীব্র গন্ধ। তবে রান্নার এই মশলাটি না খাওয়ার আক্ষেপ রানি ক্যামিলা নিজে করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার মাস্টারশেফের একটি পর্বে অতিথি হিসাবে হাজির হয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, রাজবাড়িতে রসুন একেবারেই ব্রাত্য। কারণ ঘনিষ্ঠ হয়ে কথাবার্তা বলার সময় রসুনের গন্ধ উল্টো দিকের মানুষটির অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

৪। বিশেষ ধরনের মাংস

ইউরোপে মাংসের বড় টুকরো স্টেকে খানিক কাঁচা ভাব রেখে দেওয়ার চল আছে। পুরোটা রান্না না করা সেই মাংসের জনপ্রিয়তাও বিপুল। কিন্তু রানি এলিজাবেথের ব্যক্তিগত হেঁশেলের এক প্রাক্তন রাঁধুনি ড্যারেন ম্যাকগ্রাডি বলেছিলেন, ‘‘রানি নিজে কখনও কাঁচা অবস্থায় থাকা মাংস খাননি। তাঁর জন্য তৈরি করা মাংসের টুকরো ভাল ভাবে রান্না করতে হত। তবেই তিনি তা মুখে দিতেন। রাজবাড়ির বাকিরাও সেই নিয়ম মানতেন। কারণ, কাঁচা মাংস থেকে ব্যাক্টেরিয়া জনিত পেটের সমস্যার ঝুঁকি থেকে যায়। রাজবাড়ির কেউই তা চাননি।’’

৫। পাস্তা

মশলার নয় গন্ধ চড়া, কাঁচা মাংস থেকে পেট খারাপ হবে, কিন্তু পাস্তায় আপত্তি কিসের? রানি শর্করা বেশি থাকা ভারী খাবার পছন্দ করতেন না, জানাচ্ছে ব্রিটেনের এক সংবাদপত্র। আর তাই পাস্তার পাশাপাশি ভাত এবং আলুও ছিল রাজকীয় নৈশভোজে ব্রাত্য।

৭। ফয় গ্রাঁ

ফয় গ্রাঁ আসলে রাজহাঁসের কলজে থেকে তৈরি এক ধরনের খাবার। যা ব্রিটেনে জনপ্রিয়। তবে রাজবাড়িতে তা ঢোকা নিষেধ। কারণ নাকি রাজা চার্লস নিজেই। ওই খাবার বানানোর নিষ্ঠুর পদ্ধতিটি পছন্দ ছিল না তাঁর। ২০০৮ সালে যখন তিনি যুবরাজ, সেই সময়েই একটি চিঠি দিয়ে এই ঘোষণা করা হয় রাজ পরিবারের তরফে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement