তিনি দেশের অন্যতম ধনকুবের রিলায়্যান্স কর্তা মুকেশ অম্বানীর ঘরনি। শুধু তা-ই নয়, রিলায়্যান্স, ফাউন্ডেশনের কর্ণধার আর মুম্বই ইন্ডিয়ানস ক্রিকেট টিমের মালকিনও বটে। তিনি হলেন নীতা অম্বানী। ভারতের ফ্যাশনিস্তাদের মধ্যে সবার উপরে আসে তাঁরই নাম। অভিনেত্রী, মডেলদের সাজগোজও তাঁর কাছে হার মানে। ক্রিকেটের মাঠ হোক কিংবা কোনও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, ছেলের বিয়ে হোক অথবা রিলায়্যান্সের কোনও কর্পোরেট ইভেন্ট— নীতা যেখানেই যান, গ্ল্যামার দুনিয়ার নজর থাকে সেই দিকেই।
সব সময় চর্চায় থাকতে পছন্দ করেন মুকেশ-পত্নী। কখনও এমন শাড়ি পরেন, যা দেখে ফ্যাশন জগতে হইচই পড়ে যায়, কখনও আবার এমন ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়েন, যা দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। কয়েকশো কোটি টাকার গয়নার সম্ভার রয়েছে নীতার। তাঁর হাতে দেখা যায় এমন সব ব্যাগ, যা গোটা বিশ্বে আর কারও কাছে নেই। বিশ্বের সেরা ধনাঢ্যদের মধ্যে অন্যতম তাঁর স্বামী। তাঁর কাছে একাধিক বিলাসদ্রব্য থাকাটাই স্বাভাবিক। নজর থাকুক, নীতার কাছে থাকা সবচেয়ে বেশি মূল্যবান বিলাসদ্রব্যের তালিকায়।
হিরে-পান্নার নেকলেস: পান্নার গয়না নীতার বেশ পছন্দের। ছোট ছেলে অনন্ত অম্বানীর বিয়ের প্রাক্-বিবাহ অনুষ্ঠানে পান্না আর হিরে খচিত নেকলেস পরেছিলেন নীতা। এই হারের দাম আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা। হারটি বানাতে প্রায় ৩ বছর সময় লাগে। হারটির মূল আকর্ষণ ৮৬৩ ক্যারেটের বড় একটি পান্না। হারটি তৈরি করতে যে ৫২ ক্যারেটের হিরেগুলি ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলি নাকি মোগল আমলের।
শাহজানের বাজুবন্ধ: জিয়ো ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় নীতা হাতে পরেছিলেন এক মহামূল্যবান বাজুবন্ধ। নীতার অঙ্গের গয়নাটি আসলে পঞ্চম মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পাগড়ি বা মুকুটে থাকা ‘কলগি’। সোনা দিয়ে বাঁধানো ১৩.৭ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ১৯.৮ সেন্টিমিটার চওড়া ওই কলগিটিতে রয়েছে হিরে, চুনি এবং স্পাইনেলের কাজ। গয়নাটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
টিয়াপাখির আদলে তৈরি নেকলেস: সালটা ২০২৫। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক নৈশাহারের দিনেও নজর কেড়েছিল নীতার সাজ। নীতার পরনে কালো রঙের কাঞ্চিপুরম শাড়ির সঙ্গে টিয়াপাখির আদলে তৈরি একটি পেনডেন্ট। এই পেনডেন্ট আদতে ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। মহীশূরের রাজা এক সময় এই ধরনের গয়না পরতেন। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নকশা করা হয় নীতার গয়নাটি। চুনি, পান্না, হিরে, মুক্তো খচিত পেনডেন্টটির মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
প্যারাইবা টুরমালিন নেকলেস: নীতা অম্বানীর সংগ্রহে আছে নীল রঙের একটি প্যারাইবা টুরমালিন নেকলেস। ২০ ক্যারটের প্যারাইবা টুরমালিন পাথর দিয়ে হারটি নকশা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮০০টি ২০ ক্যারেটের হিরেও বসানো রয়েছে হারটিতে। হারটির মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
প্রাইভেট জেট: ৪৪তম জন্মদিনে মুকেশ নীতাকে একটি প্রাইভেট জেট উপহার দিয়েছিলেন। ‘এয়ারবাস এ৩১৯সিজে’ জেটটির অন্দরসজ্জা চোখধাঁধানো। অত্যন্ত বিলাসবহুল এই বিমানটির মূল্য প্রায় ২৩০ কোটি টাকা। এটিকে উড়ন্ত প্রাসাদের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। ১০-১২ জন একসঙ্গে এই বিমানে বিলাসিতার সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারেন।
রোলস-রয়েস ফ্যান্টম এইট: দুনিয়ার বিলাসবহুল গাড়ির তালিকায় প্রথম পাঁচের মধ্যে একটি হল রোলস রয়েস। সে গাড়ি ভারতীয় অর্বুদপতি মুকেশের স্ত্রীর গ্যারাজে থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে নীতার সংগ্রহে এটিই প্রথম রোলস রয়েস নয়। এর নীতার নতুন রোলস রয়েসটি গোলাপি রঙের, যা রোলস রয়েসের স্পেশ্যাল এডিশন মডেলের একটি। হলিউডের সিনেমায় বার্বিকে গোলাপি রোলস রয়েসে চড়তে দেখা গিয়েছিল। গোলাপি রঙের রোলস রয়েস খুব কম জনেরই আছে গোটা বিশ্বে। তার মধ্যে একটির মালকিন নীতা। তাঁর গাড়িটির রং রোজ় কোয়ার্ৎজ়। যা তাঁর অনুরোধেই ব্যবহার করেছে গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাটি। এই গাড়ির মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা।
বিয়ের শাড়ি: তা সে যত মূল্যবানই হোক, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জহুরির মতো সেরার সেরা জিনিসটি বাছাই করে এনে নিজের সংগ্রহে রাখতে পছন্দ করেন নীতা। শাড়ির ব্যাপারেও নীতা খুবই বিচক্ষণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শাড়ি রয়েছে তাঁর সম্ভারে। তবে নীতার সবচেয়ে প্রিয় তাঁর বিয়ের শাড়িটি। আসল সোনার তৈরি জরির নকশা রয়েছে শাড়ির গা জু়ড়ে। রয়েছে মূল্যবান পাথরের কাজ। সোনার এই চড়া দামের বাজারে নীতার বিয়ের শাড়িটির মূল্য হবে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
হার্মিস স্যাক বিজু বার্কিন ব্যাগ: নীতার হ্যান্ডব্যাগের আলমারিতে রয়েছে স্নেল, গোয়ার্ড ও জিমি চু সংস্থার ব্যাগ। যাঁদের মধ্যে অনেকগুলির দাম প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি। নীতার হাতে দেখা দিয়েছে হার্মিস বার্কিনের একটি রুপোলি ব্যাগ। ব্যাগটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ২৪০টিরও বেশ হিরে। ব্যাগ জুড়ে ১৮ ক্যারেট সাদা সোনার কারুকাজ করা রয়েছে। নীতার আবদারেই বার্কিন সংস্থা এই ব্যাগটি তৈরি করেছে। ব্যাগটির দাম ৩ লক্ষ ৬০ হাজার ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৯ লক্ষ টাকা)।
হার্মিস নেইজ ফাউবুর্গ ব্যাগ: নীতার সম্ভারে বার্কিন সংস্থার একাধিক ব্যাগ রয়েছে। তার মধ্যে হার্মিস নেইজ ফাউবুর্গ অন্যতম। হোয়াইট ম্যাট এলিগেটর এই ব্যাগটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।
হিমালয়া বার্কিন হ্যান্ডব্যাগ: নীতার ব্যাগের সম্ভারে রয়েছে এটিও। ম্যাট সাদা রঙের নাইলোটিকাস কুমিরের চামড়া দিয়ে তৈরি করা হয় ব্যাগটি। ১৮-ক্যারেট সাদা সোনার হার্ডওয়্যারে ২৪০টিরও বেশি হিরে খচিত এই অত্যন্ত বিশেষ ও দুর্লভ ব্যাগটির মূল্য প্রায় ২.৬ কোটি টাকা।
অডেমাজ় পিগে রয়্যাল ওক ডায়মন্ড পেভ ঘড়ি: নীতার সংগ্রহে বিলাসবহুল ঘড়িগুলির মধ্যে অডেমাজ় পিগে রয়্যাল ওক ডায়মন্ড পেভ ইন হোয়াইট গোল্ড ঘড়িটি অন্যতম। ৩৩ মিলিমিটারের এই ঘড়িটির সাদা সোনা দিয়ে তৈরি ডায়ালটিতে বসানো রয়েছে ‘বাগেট’ আকৃতির অসংখ্য হিরে। এর কেস ও ব্রেসলেট জুড়ে বসানো হয়েছে ৩২.৯ ক্যারেটের ৪০০টিরও বেশি হিরে। এ ছাড়া ডায়ালের উপর বসানো হয়েছে ৪.৮৫ ক্যারেটের আরও ৭৬টি ব্যাগেট হিরে। ঘড়িটির মূল্য প্রায় ৫.৪ কোটি টাকা।
জ্যাকব অ্যান্ড কোং. ফ্লুর দে জ়ার্দিন পিঙ্ক স্যাফায়ারস ঘড়ি: ইতালিতে ছেলে অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে নীতা এই ঘড়িটি পরেছিলেন। ১৮-ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি ঘড়ির ডায়ালটি একটি বাগানের আদলে গড়া। ডায়ালের ভিতরে ঘূর্ণায়মান এই ‘বাগান’ হিরে ও গোলাপি নীলকান্তমণি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ঘড়িটির আনুমানিক দাম প্রায় ৩ কোটি টাকা।
পাটেক ফিলিপ অ্যাকোয়ানুলুচ ওট জোয়াইরি ঘড়ি: নীতার ঘড়ির সম্ভারে এই বিশেষ ঘড়িটিও রয়েছে। এটি সংস্থার লিমিটেড এডিশন। রোজ় গোল্ড দিয়ে তৈরি এই ঘড়িতেও বসানো রয়েছে অসংখ্য হিরে। ঘড়ির দাম প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা।
লিপস্টিক: নিজের প্রসাধনী নিয়েও বেশ খুঁতখুঁতে নীতা। বিভিন্ন বিলাসবহুল সংস্থার লিপস্টিক রয়েছে তার সম্ভারে। সেই সব লিপস্টিকের মধ্যে ৪০ লক্ষ টাকার লিপস্টিকও রয়েছে।
সোনার বোতল: নীতা যে বোতলে জল খান, তা যে-সে বোতল নয়, বিশ্বের সবচেয়ে দামি জলের বোতল। বোতলটির নাম অ্যাকোয়া দি ক্রিস্টালো ট্রিবিউটো। শিল্পী ফারন্যান্ডো অ্যালটামিরানো এই বোতলটির নকশা করেছেন। অ্যাকোয়া দি ক্রিস্টালো ট্রিবিউটো বোতলটির দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকা। ৭৫০ মিলিলিটারের এই বোতলটি ২৪ ক্যারাট সোনা দিয়ে তৈরি। বোতলটি তৈরি করতে প্রায় ৫ গ্রাম সোনার ব্যবহার করা হয়। সোনা থাকার কারণে এই বোতলের জলে ক্ষার যোগ হয়। দাবি করা হয় যে, এই বোতলের জল খেলে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া ত্বকের জেল্লাও বাড়ে।
জাপানি টি সেট: বাড়ি সাজাতেও ভালবাসেন মুকেশ-পত্নী। তাঁর হেঁশেলে বাসনপত্রের সম্ভার দেখার মতো। তার মধ্যে জাপানি একটি টি সেট বিশেষ ভাবে নজর কাড়ে। এই টি সেটটির মূল্য নাকি প্রায় দেড় কোটি টাকা।