Asha Bhosle's Bengal Connection

নতুন বৌ আসছেন, খবর পেয়েই গড়িয়াহাট থেকে আশার জন্য রুপোর সিঁদুর কৌটো কেনেন রাহুলের মণিদিদা

বাংলার বধূ ছিলেন আশা ভোসলে। রাহুল দেববর্মণের মৃত্যুর পরে এ দিকের পরিবারের সঙ্গে ধীরে ধীরে কমেছিল যোগাযোগ। কিন্তু শুরুর দিনগুলি কেমন ছিল?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩২
Share:

রাহুল দেববর্মণের সঙ্গে আশা ভোসলে। ছবি: সংগৃহীত।

জন্মসূত্রে না হলেও, কর্মসূত্রে তো বাঙালি বটেই। বলতেন, মহারাষ্ট্র তাঁর জন্মভূমি আর পশ্চিমবঙ্গ তাঁর কর্মভূমি। ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মাননাও দেওয়া হয়েছিল সঙ্গীতশিল্পীকে। তবে আশা ভোসলে তো শুধু কাজের জন্য বাঙালির আপন নন। তিনি বাঙালি বাড়ির বৌমাও যে ছিলেন! কথায় কথায় বলতেনও, ‘‘কলকাতা আমার শ্বশুরবাড়ি।’’

Advertisement

প্রথম যে বার কলকাতায় এলেন রাহুল দেববর্মণকে বিয়ে করে, সেই গল্প শোনা গেল তাঁর পরিবার থেকে। এসে উঠেছিলেন সোজা রাহুলের দাদু নির্মল দাশগুপ্তের বাড়িতে। নির্মলবাবুকে ‘মণিদাদু’ বলে ডাকতেন রাহুল। আশা-রাহুলের বিয়েতে তেমন অনুষ্ঠান কিছু হয়নি। মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। ফলে বৌমাকে সে ভাবে বরণ করাও হয়ে ওঠেনি শ্বশুরবা়ড়ির সকলের। নতুন বৌমা কলকাতায় আসছেন, খবর পেয়েই নির্মলবাবুর স্ত্রী, রাহুলের ‘মণিদিদা’ দৌড়েছিলেন গড়িয়াহাটে, আশার জন্য রুপোর সিঁদুর কৌটো কিনতে। আশা বাড়িতে আসার পরে সেই কৌটো থেকে সিঁদুর নিয়ে বৌমার সিঁথিতে পরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

শর্বরী দাশগুপ্ত ও অভিজিৎ দাশগুপ্ত।

রবিবার আশার মৃত্যুর খবর পেয়ে সে সব স্মৃতি ভাগ করে নিলেন নির্মলবাবুর পুত্র, সংবাদজগতের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তি অভিজিৎ দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘‘বয়সে তিনি অনেক বড়। কিন্তু সম্পর্কে আমি ওঁর মামাশ্বশুর। তিনি যে দিন প্রথম এলেন আমাদের বাড়িতে, সেই দিনটা খুব মনে আছে।’’ পাশ থেকে স্ত্রী শর্বরী দাশগুপ্ত যোগ করলেন, নতুন বৌ নিয়ে আসার আগে মেনু ঠিক করে দিয়েছিলেন রাহুল। পাবদা মাছ আর মোচার ঘণ্ট খেতে চেয়েছিলেন। সেই মতো সব ব্যবস্থা করা হয় সঙ্গে সঙ্গে। সে বার নির্মলবাবুর বা়ড়িতেই কয়েকটা দিন কাটান তাঁরা। শর্বরীর সঙ্গে গল্পও জমে যায় আশার। শর্বরী বলেন, ‘‘আমাদের বাড়িতে সিঁড়ির পাশে দেওয়ালে আগের প্রজন্মের সকলের ছবি আছে। তা দেখে আমাকে তিনি বলেছিলেন, তোমার খুব ভাগ্য যে, তোমার পরিবার এ রকম।’’

Advertisement

আশা ভোসলের সঙ্গে নির্মল দাশগুপ্ত। নজরুলগীতির ক্যাসেট প্রকাশের অনুষ্ঠানে।

তখন থেকেই আশার সেই বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া লেগে থাকত। তাঁরাও আশাদের মুম্বইয়ের বাড়িতে গিয়েছেন বেশ কয়েক বার, জানান অভিজিৎবাবু। রাহুলের ‘মণিদাদু’কে খুব পছন্দ হয়ে যায় আশার। ফলে কলকাতায় এসে যখন নজরুলীতির প্রথম অ্যালবাম বার করেন আশা, তখন বলেন, মণিদাদুই তা প্রকাশ করবেন। করেওছিলেন তিনি। মধ্য কলকাতার এক হোটেলে নির্মলবাবু হাতেই প্রকাশিত হয়েছিল আশার সেই অ্যালবাম।

রাহুলের মৃত্যুর পরেও কলকাতায় এসে ‘মণিদাদু’র বাড়িতে ঘুরে গিয়েছেন আশা। যদিও পরের দিকে বয়সের সঙ্গে কমতে থাকে তাঁর কলকাতায় আসা।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement