ছবি : সংগৃহীত।
শীতে নানা কারণে চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। কিন্তু সেই সমস্যার সমাধান করতে যে চুলের একটু বাড়তি যত্ন নেবেন তারও উপায় নেই। কারণ, চুলের যত্ন নিতে গেলে চুলে প্যাক লাগানো, সারা রাত তেল লাগিয়ে রেখে দেওয়া বা কেশত্থপাতার রস মাখার মতো যে সমস্ত টোটকা অব্যর্থ বলে পরিচিত, তা শীতকালে করতে গেলে মুশকিল। ঠান্ডা লেগে জ্বর-সর্দি-কাশি হয়ে কাহিল হয়ে যাবে শরীর। তা বলে শীতে চুলের যত্ন নেওয়া যাবে না। তা নয় মোটেই। শীতে চুলের যত্ন নিতে হবে বুদ্ধি খরচ করে। আর তা কার্যকরীও। তেমনই তিনটি উপায় জেনে নিন।
ঈষদুষ্ণ তেল মালিশ
শীতকালে চুলে পুষ্টি জোগাতে মাথার ত্বকে তেল মালিশ করতে পারেন। এটি চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। নারকেল তেল বা ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে সামান্য মেথি মিশিয়ে হালকা গরম করে নিন। তেল খুব বেশি গরম যেন না হয়। সে ক্ষেত্রে ঠান্ডা করে খুব অল্প গরম থাকা অবস্থায় ব্যবহার করুন। আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে ১০-১৫ মিনিট মাসাজ করুন। এতে আরামও হবে, মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালনও বাড়বে। তাতে চুল ঘন হবে।
আমলকি ও জবা ফুলের প্যাক
রোদে শুকানো আমলকি গুঁড়ো সামান্য গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এর সঙ্গে জবা ফুলের রস মেশাতে পারেন। অথবা আমলকি বেটে তার রস বার করে তার সঙ্গেও জবা ফুলের পাপড়ির রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। প্যাকটি মাথায় লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি চুল পড়া কমিয়ে চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে দারুণ কাজে লাগে।
খাদ্যাভ্যাস বদলান
বাইরে থেকে প্যাক লাগানোর বদলে অভ্যন্তরীণ পুষ্টিতে গুরুত্ব দিন। তাতে মাথায় প্যাক লাগিয়ে ঠান্ডা লাগার ভয়ও থাকবে না। প্রতি দিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই ডিম, বাদাম, পালং শাক এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার, যেমন— মাছ, আখরোট, তিসির বীজ ইত্যাদি রাখুন। আর অবশ্যই জল বেশি করে খান। শীতে জল কম খাওয়ার জন্যও চুল রুক্ষ হয়ে ঝরে যায়। পর্যাপ্ত জল পান করলে চুলের গোড়া মজবুত থাকে।
আর যা খেয়াল করবেন
১। শীতে স্নানের পর চুল বেশিক্ষণ ভেজা অবস্থায় রাখবেন না। নরম তোয়ালে দিয়ে জল মুছে প্রয়োজনে হালকা তাপে একটু দূর থেকে ব্লো-ড্রাই করুন।
২। চুলে সরাসরি খুব গরম জল দেবেন না, এতে চুল পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। ফলে চুল আরও পাতলা এবং রুক্ষ হয়ে যায়। শীতে চুল ধোয়ার জন্য শুধু জলের ঠান্ডা ভাবটি কাটিয়ে নেওয়ার মতো গরম করুন।