আলিয়ার সাজের জিনিস থাক আপনার আলমারিতেও! গ্রাফিক— আনন্দবাজার ডট কম।
নতুন ফ্যাশনের জামা পছন্দ হল, কিনেও ফেললেন— এমনটা সারা বছরই হতে থাকে। সে সব ‘ট্রেন্ডি’ পোশাক-আশাকে এত দিনে আলমারি উপচেও পড়েছে হয়তো। ভিড় কমাতে কিছু বিলিয়ে দিচ্ছেন। কিছু পড়ে থাকছে কারণ,শখ করে কিনলেও পরার জায়গা পাচ্ছেন না। আবার প্রাণে ধরে দিতেও পারছেন না কাউকে। কিন্তু এ সবের মধ্যে আর এক ধরনের পোশাক থাকে, যা বছরের পর বছর মনের কাছের জিনিসটি হয়ে টিকে থাকে। সপ্তাহে বা ১৫ দিনে এক বার যার খোঁজ পড়বেই। বার বার পরেও তার প্রতি প্রেম কমে না। বরং পুরনো হলে আবার খুঁজে পেতে সেই রকমই পোশাক কিনে আনেন। না পেলে আক্ষেপের শেষ থাকে না। এই ধরনের পোশাককে বলা হয় ‘টাইমলেস’ বা সময়োত্তীর্ণ। যার আবেদন পুরনো হয় না কখনও।
ট্রেন্ড, ফ্যাশন— যা-ই বদলাক এই ধরনের পোশাক থেকে যায়। যাঁরা ভাল সাজতে ভালবাসেন, তাঁরা প্রত্যেকেরই নিজের আলমারিতে এমন কিছু ‘টাইমলেস ক্লাসিক’ পোশাক রাখেন। কোথাও যাওয়ার আগে যখন কী পরব ভেবে হা-পিত্যেশ করেন, তখন এই ধরনের পোশাক বাঁচিয়ে দিতে পারে আপনাকে। সাজগোজের ব্যপারে বলিউডের তারকাদের অনুসরণ করেন বহু সাধারণ ভারতীয়। আর বলি-শৌখিনীদের মধ্যে প্রথম সারির মুখ আলিয়া ভট্ট। তাঁর আলমারিতে থাকা এমন ‘টাইমলেস ক্লাসিক’ কী কী?
নানা ধরনের ডেনিম
ডেনিমের ক্লাসিক রঙের প্যান্ট, ড্রেস, জ্যাকেট, স্কার্ট, টপ— যে কোনও একটি বা একাধিক। ফোটোশুটের বাইরে আলিয়ার যে দৈনন্দিন পোশাক চয়ন, তার অনেকটা জুড়েই থাকে ডেনিম। যে কোনও একটিও যদি আলমারিতে থাকে, তবে তাকে নানা ভাবে স্টাইল করা যায়। বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হোক বা অফিসের ক্যাজ়ুয়াল পোশাক পরে আসার দিন, এমনকি, সাজতে পারলে ডেনিম জমকালো পার্টির পোশাকও হতে পারে।
সাদা শার্ট
সকালে অফিসে পরে গেলেন আবার সেই শার্টকেই খুলে জিন্সের সঙ্গে গলিয়ে নিয়ে কোমরে চওড়া বেল্ট বেঁধে নিলে হয়ে গেল পার্টিওয়্যার। চাইলে শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ়ের মতোও পরা যেতে পারে। ইচ্ছে হলে পরা যেতে পারে রাজস্থানী নকশা করা স্কার্টের সঙ্গেও। সাদা শার্টের মতো সময়োত্তীর্ণ পোশাক আর দু’টি নেই। কারণ, এটি যতটা ফরম্যাল লুক তৈরি করতে পারে, ঠিক ততটাই ক্যাজুয়াল পোশাকও হতে পারে। তাই আলমারিতে এক বা একাধিক কাটের সাদা শার্ট থাকা উচিত।
কালো জামা
ছবিতে আলিয়া যেমন কালো পোশাক পরেছেন, তা তাঁর শরীরের গড়নকে আরও উদ্ভাসিত করছে। ঠিক তেমনই আপনার চেহারায় যে কালো পোশাকটি সবচেয়ে সুন্দর মানাবে, সেই ধরনেরই পোশাক বানিয়ে নিন ভাল কাপড়ে। সেটি আলিয়ার মতো মিডি ড্রেস হতে পারে অথবা ম্যাক্সি ড্রেস, মিনি ড্রেস, কুর্তা-পাজামা, শালোয়ার কামিজ, পটিয়ালা-কুর্তি— যা খুশি হতে পারে। এই কালো পোশাকটি নানা ‘কী পরব’ ঘরানার বিপদের উদ্ধারকর্তা হতে পারে। কারণ, কালো পোশাককে ওড়না, স্কার্ফ, জ্যাকেট, গয়না দিয়ে প্রতি বার আলাদা বানিয়ে নেওয়া যায়।
সাদা শাড়ি
সাদা শাড়ি পরতে ভালবাসেন নায়িকা। যে কোনও অনুষ্ঠানেই তিনি শাড়ি পরলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাদা শাড়ি পরেই হাজির হন। ঢাকাই থেকে পিয়োর সিল্ক, সাটিন, অরগ্যাঞ্জা, জর্জেট, শিফন, চিকনকারি, মসলিন— আলিয়া সব ধরনের সাদা শাড়ি পরে ফেলেছেন। আলিয়ার থেকে সাদা শাড়িকে স্টাইল করার পাঠ নিতে পারেন। আর বঙ্গ যেখানে নানা ধরনের সিল্ক এবং তাঁতের খনি, সেখানে নানা ধরনের সাদা শাড়ি কিনতে খুব বেশি চিন্তাভাবনা করতে হবে না।
টি-শার্ট
এমন একটি টি শার্ট, সেটি যেমন ১০টা-৫টার অফিস করা যাবে, মিটিংয়ে প্রেজ়েন্টেশন দিতে অসুবিধা হবে না, তেমনই পার্টিতেও পরে যাওয়া যাবে। অর্থাৎ এমন পোশাক যা জমকালো না হয়েও নজর কাড়ার মতো। উপরের ছবিতে আলিয়ার সিক্যুইন্ড টি-শার্টটির রং উজ্জ্বল। আবার তাতে খানিক ঝিকমিকে ভাবও রয়েছে। এই ধরনের টি-শার্টের মজা হল এটিকে চাইলে অনুজ্জ্বল প্যান্ট, স্কার্ট ইত্যাদি দিয়ে সাধারণ পোশাকের মতো পরা যাবে। আবার চাইলে ঘড়ি, ব্যাগ, জুতো, প্যান্ট বদলে জমকালোও করে তোলা যায়।
আলিয়ার পছন্দের আরও এক
গাঢ় রঙের জ্যাকেট পরতেও ভালবাসেন আলিয়া। তাঁর আলমারিতেও নানা ধরনের কালো-নীল-গাঢ় বাদামি রঙের জ্যাকেট রয়েছে। বেশির ভাগই ‘ওভারসাইজ়ড’ অর্থাৎ চেহারার থেকে একটু বড় মাপের। মাঝেমধ্যেই নানা ধরনের ক্যাজ়ুয়াল পোশাকের উপর তাঁকে চাপিয়ে নিতে দেখা যায় ও ধরনের জ্যাকেট। এতে পোশাকে এক ধরনে খেলোয়ার-সুলভ স্মার্টনেস আসে। ক্যাজ়ুয়াল পোশাক পছন্দ হলে কয়েকটি এমন জ্যাকেটের সংগ্রহ বাড়িয়ে নিতে পারেন।