কালার কারেক্টর ব্যবহারের খুঁটিনাটি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কখনও ভেবে দেখেছেন কেন কনসিলার এবং ফাউন্ডেশন নিখুঁত ভাবে ব্যবহার করেও মেকআপ মসৃণ হয় না? এর উত্তর হতে পারে কালার কারেক্টিং। কনসিলার চোখের তলার কালচে দাগ বা ব্রণের দাগ ঢাকতে ভাল কাজ করে, কিন্তু যাঁদের ত্বকে খুব বেশি পিগমেন্টেশন বা কালচে ছোপ রয়েছে, তাঁদের জন্য কনসিলার যথেষ্ট নয়। এখানেই প্রয়োজন পড়ে কালার কারেক্টর। রূপটানশিল্পীরা কমলা, সবুজ, বেগনি নানা রঙের কালার কারেক্টর ব্যবহার করেন। ব্যবহার জটিল মনে হলেও, আদতে কিন্তু বিষয়টা ততটাও কঠিন নয়। কালার কারেক্টর সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মেকআপের পর ত্বকে একটি মসৃণ ভাব আসে, ঠিক নায়িকাদের মতো।
কালার কারেকশন পদ্ধতিটি কালার থিওরির উপর ভিত্তি করে তৈরি, যার মূল ধারণাটি হল বিপরীত রঙের ব্যবহার, যা একে অপরকে প্রশমিত করে। যদি কনসিলার ঠিকমতো কাজ না করে, সে ক্ষেত্রে ত্বকের কালচে ভাব ঠিক মতো ঢাকা যায় না, ত্বক অমসৃণ দেখায়। সঠিক কারেক্টরের সামান্য ছোঁয়া ত্বকের রঙে সামঞ্জস্য আনে। কালার কারেক্টর বিভিন্ন শেডে পাওয়া যায়—সবুজ, কমলা, বেগনি, হলুদ, পিচ—যার প্রতিটিই বিভিন্ন আন্ডারটোন, ত্বকের রং এবং বিভিন্ন ধরনের বিবর্ণতা ঢাকার জন্য তৈরি। তবে কখন কোন রংটা বেছে নেবেন, সেটা জানা ভীষণ জরুরি।
সবুজ: ত্বকে প্রদাহ, জ্বালাভাব বা ব্রণ-র কারণে যে লালচে ভাব ফুটে ওঠে তা দূর করার জন্য সবুজ রং বেশ কাজের। ফর্সা কিংবা শ্যামবর্ণা হলে এই রঙের কালার কারেক্টার ব্যবহার করতে পারেন।
কমলা আর হলদে: রাত জাগার ফলে চোখের তলায় কালচে ছোপ পড়লে তা দূর করার জন্য কমলা রঙের কারেক্টর ব্যবহার করতে পারেন। যদি চোখের নীচের কালি নীল বা বেগনি রঙের দিকে হয়, তবে সেই অংশের ত্বকের রং স্বাভাবিক করতে হলুদ রঙের কারেক্টর ব্যবহার করতে হবে।
বাদামি: এই রঙের কালার কারেক্টরটি কনটুরিংয়ের কাজ করে। ত্বকে তীক্ষ্ণ ভাব আনতে এই শেডটি ব্যবহার করা হয়। যাদের মুখে ফোলা ভাব বেশি, তাঁরা এই কালার কারেক্টরটি ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।
বেগনি: খুব ফর্সা হলে বেগনি রংটি আদর্শ। এটি ত্বকের নিস্তেজ ভাব দূর করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। ত্বকে একটু বাড়তি উজ্জ্বলতা চাইলে এই কালার কারেক্টরটি পছন্দের তালিকায় রাখতেই পারেন।
পিচ: পিচ বা গোলাপি রঙের কারেক্টর কুল টোন বা যাঁদের ত্বকে সাদাটে ভাব বেশি, তাঁদের দাগছোপ দূর করার জন্য পিচ রঙের কালার কারেক্টর বেশ কাজের। চোখের নীচের নীলচে কালো দাগ ও অন্যান্য বিবর্ণতা দূর করতে সাহায্য করে।
ঠিক কখন ব্যবহার করবেন?
মেকআপের আগে ত্বক ভাল করে ধুয়ে নিয়ে ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করে নিতে হবে। তার পর প্রয়োজনীয় স্থানে কালার কারেক্টর ব্যবহার করতে হবে। তবে পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকুন, অতিরিক্ত ব্যবহার করলেই কিন্তু মেকআপ বিগড়ে যাবে। কনসিল ব্যবহার করে নিয়ে তার পর কনসিলার আর ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে হবে।