ফুট পিলিং মাস্ক কি সত্যিই কাজের? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শীতের একটি বড় সমস্যা হল গোড়ালি ফাটা। সমস্যা বড় হলেও অনেকেই তা অবহেলা করেন। এমনিতে পা সব সময় ব্রাত্যই থাকে। কোনও মরসুমেই ঠিকমতো যত্ন নেওয়া হয় না। পর্যাপ্ত যত্নের অভাবে গোড়ালি ফাটতে শুরু করে। সেই সঙ্গে পায়ের ত্বক শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। শীতকালে শুধু ত্বকের যত্ন নিলে চলবে না, পায়েরও খেয়াল রাখতে হবে। শীতকাল মানেই উৎসবের মরসুম। বিয়েবাড়ি, পার্টি লেগেই আছে। জমকালো সাজের সঙ্গে ফাটা গোড়ালি, শুষ্ক পা একেবারে মানাবে না। এখন সমাজমাধ্যম খুললেই ‘ফুট পিলিং মাস্ক’-এর রমরমা চোখে পড়ছে। আদৌ কি এই মাস্ক কার্যকর?
পায়ে পরে নিতে হচ্ছে মাস্ক যা একটা বড় মোজার মতো দেখতে। ঘণ্টা দেড়েক সেই মোজা পরে থাকার পর খুলে দিতে হয়। মাস্কটি ব্যবহারের পর ৫-৭ দিন পরে পায়ের মৃত কোষগুলি ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। গোটা বিষয়টি প্রায় দু’ সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে। ব্যাপারটা ঠিক সাপের খোলস ছাড়ানোর মতো। ফুট পিল হল এক ধরনের রাসায়নিক এক্সফোলিয়েশন, যেখানে এক্সফোলিয়েটিং উপাদান দিয়ে তৈরি জেলির মতো একটি মিশ্রণ যা একবার ব্যবহার করা হয়। সাধারণত এতে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড বা ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে। মিশ্রণটি পায়ের পাতায় লাগালে সেখানে নতুন কোষ তৈরি হয়। ব্যবহারের কয়েক দিনের মধ্যেই পুরনো, মৃত ত্বক ঝরে গিয়ে নিচের নতুন ত্বক বেরিয়ে আসে, পায়ের কড়া দূর হয়। পায়ের যত্ন নিতে বেশ কাজের এই ফুট পিলিং মাস্ক।
পায়ে পরে নিতে হচ্ছে মাস্ক যা একটা বড় মোজার মতো দেখতে। ছবি: সংগৃহীত।
কত দিন অন্তর ব্যবহার করা উচিত?
দেড় থেকে দু’মাস অন্তর অন্তর এই পিলিং মাস্কটি ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু শীতকালেই নয়, সারা বছর ধরেই এই মাস্কটি ব্যবহার করা ভাল।
এই মাস্ক ব্যবহার করা কি নিরাপদ?
ডায়াবেটিক ফুট হলে, ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটলে, গোড়ালিতে গভীর কড়া পড়ে থাকলে কিংবা এগজ়িমা, সোরিওসিসের মতো সমস্যা থাকলে ফুট পিলিং মাস্ক কোনও কাজই করবে না। এই সব সমস্যা থাকলে মাস্কটি ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।