Hair Loss Therapy

সুচ ফোটালেই চুল গজাবে টাকে? কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ‘মাইক্রোনিডলিং থেরাপি’, খরচ কত?

টাক নিয়ে জেরবার অনেকেই। কেউ খাচ্ছেন ওষুধ, কেউ পরছেন পরচুলা। তাতে অবশ্য পাকাপাকি সমাধান হচ্ছে না। মাথাভরা চুল পেতে হেয়ার ট্রান্সপ্লাস্ট থেরাপি করানোর ঝক্কি ও খরচ সামলানো সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আরও এক থেরাপি ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। সেটি হল ‘মাইক্রোনিডলিং থেরাপি’।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩২
Share:

মাথাভরা চুল হবে, মাইক্রোনিডলিং থেরাপির সুবিধা কী কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

একমাথা ঘন চুল ঝরে গিয়ে টাক পড়তে থাকলে, মনে দুঃখ তো হবেই। টাক ঢাকতে কখনও পরচুলা, আবার কখনও টুপি দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা চলতেই থাকে। চুল কমতে কমতে এক এক জায়গা কেশশূন্য হয়ে যাওয়াও কাঙ্ক্ষিত নয়। মাথাজোড়া টাক নিয়ে যাঁদের দুঃখের শেষ নেই, তাঁদের জন্য এক বিশেষ থেরাপি রয়েছে। এখানে চুল প্রতিস্থাপন করার ঝক্কি নেই। কেবল সুচ ফুটিয়েই চুলের গোড়ায় উদ্দীপনা তৈরি করা হয়। তাতেই নতুন চুল গজানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এই থেরাপির নাম ‘মাইক্রোনিডলিং’। খুব অচেনা কোনও চিকিৎসা নয়, ত্বকের জন্যও করা হয়। এখন টাকে চুল গজাতেও করা হচ্ছে।

Advertisement

মাইক্রোনিডলিং থেরাপি কী?

১ থেকে ১.৫ ন্যানোমিটারের পাতলা সুচ দিয়ে মাথার ত্বকে খুব সূক্ষ্ম ছিদ্র করা হয়। এমন ভাবে তা করা হয়, যাতে রক্তপাত না হয়। ত্বকের উপরের স্তরে আলতো করে চাপ দেওয়া হয় সুচ দিয়ে। এ ভাবে গোটা মাথা জুড়েই তা করা হয়। এতে চুলের গোড়ায় উদ্দীপনা তৈরি হয়, যাতে কোলাজেন তৈরি হতে শুরু করে। কোলাজেন এক ধরনের প্রোটিন, যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে চুলের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এটি বেশিমাত্রায় থাকলে তবেই চুল পড়া বন্ধ হবে, চুলের ঘনত্ব বাড়বে এবং টাক পড়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

Advertisement

অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়ায় যাঁদের মাথার সমস্ত চুল পড়ে গিয়েছে বা টাক পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তাঁরা করাতে পারেন মাইক্রোনিডলিং থেরাপি। প্রথমে সুচ দিয়ে সারা মাথায় ছোট ছোট ছিদ্র করা হবে, তার পর সেখান দিয়ে মিনোক্সিডিল ওষুধ বা হেয়ার গ্রোথ কোনও সিরাম লাগিয়ে দেওয়া হবে। অস্বস্তি কমাতে অনেক সময় অ্যানাস্থেটিক ক্রিমও মাথায় লাগিয়ে দেওয়া হয়।

সুবিধা-অসুবিধা

মাথার ত্বকে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ে, এতে নতুন চুল গজাতে শুরু করে।

মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি সরবরাহে সাহায্য করে।

মাইক্রোনিডলিং করালে মাথায় লাগানো সিরাম বা লোশন সাধারণের তুলনায় তা ৩-৪ গুণ বেশি কার্যকর হয়।

মাইক্রোনিডলিং থেরাপি নিরাপদ, তবে মাথার ত্বকে লালচে ভাব বা সংক্রমণ হতে পারে কিছু ক্ষেত্রে। কোন ক্লিনিকে করাচ্ছেন, তার উপরেও বিষয়টি নির্ভর করে। যাঁদের অ্যালার্জির ধাত আছে বা অ্যালার্জির কোনও ওষুধ খান, তাঁদের এমন থেরাপি করানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মাইক্রোনিডলিং থেরাপির প্রতি সেশনের খরচ হতে পারে ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে। তবে ক্লিনিক অনুযায়ী খরচ নির্ভর করে। ভাল ক্লিনিকে এর খরচ ৫০০০ হাজারের বেশিও হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement