ছবি: সংগৃহীত।
ভ্যাপসা গরমে শরীরের পাশাপাশি মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পও প্রচুর ঘামে। অনেকেই মনে করেন, চুল উঁচু করে খোঁপা বা পনিটেল বেঁধে রাখলেই মাথায় ঘাম বসে তৈরি হওয়া নানা সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু বাস্তবে এতে কেবল ঘাড়ের দিকের অস্বস্তি কমে, মাথার ত্বকের ঘাম বসা বন্ধ হয় না। বরং খুব শক্ত করে চুল বাঁধলে ঘাম ত্বকের গোড়ায় আটকে গিয়ে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তা হলে গরমে আর্দ্র আবহাওয়ায় মাথার ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে কী করবেন?
চুলের ধরণ অনুযায়ী শ্যাম্পু: গরমে বাইরে বের হলে ধুলোবালি ও ঘাম মিলে চুলের গোড়ায় আঠালো আস্তরণ তৈরি করে। তাই অন্তত একদিন অন্তর মৃদু বা মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার রাখা জরুরি।
স্নানের পর চুল শুকানো: ঘাম বা জল যেটাই হোক, চুলের গোড়া বেশিক্ষণ ভেজা থাকলে খুশকি এবং দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। স্নানের পর বা ঘামলে ফ্যানের হাওয়ায় দ্রুত চুল শুকিয়ে নিন।
অ্যালোভেরা জেল ও টোনার: সপ্তাহে একদিন অ্যালোভেরা জেল বা শসা-পুদিনার রস মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি স্ক্যাল্পকে ঠান্ডা রাখতে এবং অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
আলগা বাঁধন: চুল একদম টাইট করে না বেঁধে একটু ঢিলেঢালা ভাবে বাঁধুন। এতে মাথার ত্বকে বাতাস চলাচলের সুযোগ পায়। সুতির হেয়ারব্যান্ড বা স্ক্রাঞ্চি ব্যবহার করা ভালো।
ছাতা বা স্কার্ফের ব্যবহার: সরাসরি রোদে বের হলে মাথায় সরাসরি তাপ লাগলে ঘাম বেশি হয়। তাই হালকা রঙের সুতির স্কার্ফ বা ছাতা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
পর্যাপ্ত জল ও সুষম খাবার: শরীর ভেতর থেকে ঠান্ডা থাকলে ঘাম কম হয়। তাই প্রচুর জল পান করুন এবং তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
পরিশেষে, গরমে স্বস্তি পেতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক যত্নের কোনও বিকল্প নেই। নিয়মিত চুল ধোয়া ও শুকানোর অভ্যাস করলেই কেবল ঘাম বসার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।