গরমের জন্য কেমন বডি লোশন বেছে নেবেন? ছবি: সংগৃহীত।
শীত এলে হাত-পা রুক্ষ হয়ে যায় বলে তেল, বডি লোশন ব্যবহারের তাগিদ তৈরি হয়। শীত ফুরোলেই যে কে সেই! আলাদা করে হাতে-পায়ে লোশন মাখার ইচ্ছাও হয় না, তা যে মাখা দরকার তেমনটাও মনে হয় না।
তবে ত্বক নিয়ে চর্চাকারীরা মনে করাচ্ছেন, মরসুম বদল মানেই বডি লোশন বাদ নয়, বরং বদলে ফেলা দরকার লোশনটি। গরমের সময় বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকে বলে ত্বকে শীতের মতো টান ধরে না। কিন্তু এমন সময়েও ত্বকে আর্দ্রতার অভাব হতে পারে। তেল মাখা বা ময়েশ্চারের জোগান দেওয়া আর ত্বককে আর্দ্র রাখা এক নয়। ফলে এই সময় বেছে নেওয়া দরকার এমন লোশন, যা হবে হালকা, ত্বক সহজে শুষে নেবে, চটচটে মনে হবে না।
কোন উপাদান বডি লোশনে থাকা প্রয়োজন
ওয়াটার বেস্ড: গরমকালে ব্যবহারের জন্য লোশনটি ক্রিমের মতো না হয়ে ওয়াটার বেস্ড হওয়া ভাল। এই ধরনের লোশন বেশ পাতলা হয়। ত্বক তাড়াতাড়ি টেনে নেয়।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড: আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড। তৈলাক্ত, শুষ্ক, সংবেদনশীল— সমস্ত ধরনের ত্বকের জন্যই এটি উপযোগী। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক কোমল এবং মসৃণ থাকে। বিশেষত, গরমের সময়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকলে ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। ফলে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ বডি লোশন খুব কাজের হতে পারে।
গ্লিসারিন: এটিও জল ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে স্নানের পর ভিজে গায়ে গ্লিসারিন সমৃদ্ধ বডি লোশন মাখতে পারেন। এটি শীতের পাশাপাশি গরমেও উপযোগী।
অ্যালো ভেরা: অ্যালো ভেরায় রয়েছে প্রদাহনাশক উপাদান। ত্বকে লাগালে ঠান্ডা হয়ে যায়, আরাম হয়। এই মরসুমে অ্যালো ভেরা যুক্ত বডি লোশন মাখলেও ত্বক ভাল থাকবে।
শসা: শসার নির্যাসযুক্ত বডি লোশনও উপযোগী। শসায় জল বেশি থাকে। ত্বকের জন্য ভাল। বিশেষত, ত্বকের ধরন তৈলাক্ত হলে এই ধরনের বডি লোশন মাখা যায়।
সানস্ক্রিন: কিছু কিছু বডি লোশনে সানস্ক্রিনের সুরক্ষাও মেলে। গ্রীষ্মের বডি লোশনের ফর্মুলা আলাদা হয়। তাই বডি লোশন কেনার সময় সেটি শীতে, না বছরের অন্য সময় ব্যবহার উপযোগী, দেখে নেওয়া দরকার।
মাখার পন্থা: স্নান করার পর হালকা ভিজে থাকা অবস্থায় বডি লোশন মাখলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত ত্বক আর্দ্র থাকে। দীর্ঘ ক্ষণ এসি ঘরে থাকলে, রাতেও বডি লোশন মাখা প্রয়োজন।