পায়ের দুর্গন্ধ দূর করুন। ছবি: সংগৃহীত।
জুতোর চাপে, ঘামে ও ধুলোয় ক্লান্ত হয়ে থাকে আপনার পা। চামড়া কুঁচকে যায়, ফেটে যায় বা দুর্গন্ধ বেরোতে থাকে। অথচ নিজেকে পরিষ্কার করার সময়ে পায়ের তলা সাফসুতরো রাখার কথা মাথা থেকে বেরিয়ে যায় অনেকের। আলস্যের কারণে মাসে এক বার পেডিকিয়োর করেই ক্ষান্ত থাকেন তাঁরা। ভাবেন, পা পরিষ্কার করার কাজ সারা। কিন্তু রোজের হাঁটাচলার ফলে রোজই পায়ের যত্ন নেওয়া উচিত। রোজ যদি পা এমনি জল দিয়েও ধোয়ার অভ্যাস থাকে, তা হলে সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার বিশেষ পদ্ধতিতে পা পরিষ্কার করতে হবে। পার্লারে খরচ না করে দু’টি ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করে পা ধুয়ে নিন।
বেকিং সোডা আর নুন দিয়ে পা পরিষ্কার করুন। তবে রান্নায় বা খাওয়ার পাতে ব্যবহার করার নুন নয়, সামুদ্রিক লবণ অর্থাৎ বড় দানার অপরিশোধিত নুন নিতে হবে। সঙ্গে থাকবে বেকিং সোডা। জেনে নিন, এই দুই উপকরণ কী ভাবে উপকার করে এবং কোন পদ্ধতিতে পা পরিষ্কার করবেন।
বেকিং সোডা আর নুন দিয়ে পা পরিষ্কার করুন। ছবি: সংগৃহীত।
১. পায়ের দুর্গন্ধ কমায়: বেকিং সোডা ও নুন, দু’টিই অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্যে ভরা। ফলে পায়ের ত্বকে থাকা জীবাণু নাশে সাহায্য করতে পারে। এই কারণে পায়ে তীব্র দুর্গন্ধ কমে।
২. মৃত ত্বক ও ময়লা দূর করে: নুনের খসখসে গঠন ও বেকিং সোডার ক্ষারীয় প্রকৃতি মিলে পায়ের মৃত ত্বক ও ময়লা আলতো ঘষে তুলে দেয়। রুক্ষ ত্বককে মসৃণ করতে পারে।
৩. ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাকের সঙ্গে মোকাবিলা করে: ছত্রাক বা ব্যাক্টেরিয়ার বাড়বৃদ্ধির কারণে অনেক সময়ে চুলকানি হয় পায়ে অথবা সংক্রমণও ঘটতে পারে। বেকিং সোডা ও নুন দিয়ে পা ধুলে সেই জীবাণুগুলির বৃদ্ধি কিছুটা কমে যায়।
৪. পায়ের ক্লান্তি দূর করে: দীর্ঘ ক্ষণ চলাফেরার পর পা অবসন্ন হয়ে আসে। হালকা গরম জলে যদি বেকিং সোডা ও নুন মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখা যায়, তা হলে পায়ের পেশিগুলি কিছুটা শিথিল হওয়ার সুযোগ পায়। এতে পায়ের ক্লান্তি দূর হয়।
৫. পায়ের ত্বক কোমল হয়: সোডা ও নুনের মিশ্রণে পা ডুবিয়ে রাখলে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয়, ময়লাও চলে যায়। ফলে পায়ের তলার ত্বক নরম হয়ে ওঠে।
কী ভাবে করবেন?
· একটি গামলায় হালকা উষ্ণ জল নিন।
· ১-২ চা চামচ বেকিং সোডা ও ১-২ চা চামচ নুন মিশিয়ে দিন।
· পা ডুবিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট।
· আলতো করে হাত বা ছোট ব্রাশ দিয়ে পায়ের ত্বক ঘষতে থাকুন।
· শেষে পরিষ্কার জল দিয়ে ভাল ভাবে পা ধুয়ে এবং শুকিয়ে নিন।