‘স্লিপিং মাস্ক’ কী ভাবে মাখবেন মুখে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
সর্বদা ক্লান্তির ছাপ চোখেমুখে। দিন গড়াতেই নিষ্প্রভ হয়ে যায় ত্বক। এর জন্য কখনও দায়ী সূর্যের তাপ, কখনও বা পরিবেশগত ধুলোকণা, কখনও আবার জলশূন্যতা। ক্লিনজ়ার, ফেসওয়াশ, টোনার, সিরাম বা ক্রিম মেখেও ত্বকের জেল্লা ফিরে পাচ্ছেন না অনেকে। আর তখনই প্রসঙ্গ উঠছে সারারাতের ফেস মাস্ক নিয়ে। এগুলিকে বলা হচ্ছে ‘স্লিপিং মাস্ক’। রাতে শোওয়ার আগে জেলের মতো মাস্ক মুখে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। সকালে উঠে ত্বককে তুলনামূলক বেশি সতেজ, আর্দ্র ও উজ্জ্বল মনে হতে পারে। দিনভর থাকতে পারে তার রেশ।
ত্বকচর্চার খুঁটিনাটি। ছবি: সংগৃহীত
এই ধরনের মাস্ক কী ভাবে উপকার করে?
জলশূন্যতা দূর করা: শুষ্ক হয়ে যাওয়া ত্বকের জন্য সারা রাতের এই মাস্ক কার্যকরী হতে পারে। অনেক ‘স্লিপিং মাস্ক’-এ হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন, স্কোয়ালেন ও সিরামাইডের মতো উপাদান থাকে। এগুলি ত্বকের মধ্যে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে শুষ্ক ও টানটান ভাব কমে যেতে পারে।
বাইরের স্তরকে সুরক্ষা দেওয়া: অতিরিক্ত স্ক্রাব, রোদ বা দূষণের কারণে ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। কিছু ‘স্লিপিং মাস্ক’ সেই ক্ষতি সামলাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখে। ত্বকের বাইরের স্তরকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তাই ‘স্লিপিং মাস্ক’ উপযুক্ত।
সতেজ দেখানো: অনেক ফেস মাস্কে নিয়াসিনামাইড, ভিটামিন সমৃদ্ধ উপাদান, বিভিন্ন উপাদানের নির্যাস বা হালকা এক্সফোলিয়েটিং উপাদান থাকে, যা নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকে ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসতে পারে।
প্রদাহ কমানো: রোদে বেশি সময় থাকার পরে বা ত্বক বেশি স্পর্শকাতর হয়ে পড়লে মাস্কে থাকা অ্যালো ভেরা, প্যান্থেনল বা গ্রিন টি-র মতো উপাদান ত্বককে শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
আর্দ্রতা বাড়ানো: রাতে ক্রিম বা লোশন মেখে মাস্ক পরলে ত্বকের উপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি হয়। ফলে ত্বকের আর্দ্রতা সহজে বেরিয়ে যেতে পারে না এবং সক্রিয় উপাদানগুলি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার সুযোগ পায়। সাধারণ ময়েশ্চারাইজ়ারের তুলনায় এতে আর্দ্রতা ধরে রাখার উপাদান বেশি মাত্রায় থাকে।
কী ভাবে ব্যবহার করবেন?
· ত্বকচর্চার শেষ ধাপ হিসাবে ব্যবহার করতে হবে।
· খুব পাতলা একটি পরত হিসাবে মুখে মেখে নিতে হবে।
· ত্বক ব্রণপ্রবণ হলে আগে অল্প একটু নিয়ে কনুইয়ে মেখে পরখ করে দেখতে হবে।