Skin Care Mistake

প্রাকৃতিক উপাদান মানেই কি ত্বক-বান্ধব? পিসিওএস থাকলে রূপচর্চায় কোন সতর্কতা জরুরি?

পিসিওএস-এর মতো অসুখ এখন ঘরে ঘরে। এতে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় বলে ত্বকে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। সেই লক্ষণগুলিকে অনেকে ত্বকের সাধারণ উপসর্গ ভেবে গুলিয়ে ফেলেন। ঘরোয়া উপকরণে ত্বকের যত্ন নেওয়া শুরু করেন। হিতে-বিপরীত হতে পারে এতেই।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৩
Share:

ঘরোয়া উপকরণে রূপচর্চা করতে গেলে কি হিতে বিপরীত হতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।

ত্বকের পরিচর্যায় স্ক্রাব, সিরাম মাখার চল যেমন জনপ্রিয়, তেমনই অনেকে ভরসা রাখেন প্রাকৃতিক উপকরণেও। নিম-হলুদ, হলুদ-চন্দন, অ্যালো ভেরা-মধুর ব্যবহার হয়ে আসছে বহু দিন ধরেই। যখন প্রসাধনীর এত রমরমা ছিল না, আলাদা করে কেউ ফেসওয়াশ, স্ক্রাবের নাম শোনেননি, তখন মুখ পরিষ্কারের ভরসাই ছিল বেসন, হলুদ, চালের গুঁড়ো। প্রাকৃতিক উপকরণগুলি মেখে ত্বক উজ্জ্বল দেখাত বলেই, অনেকে তা ব্যবহার করতেন।

Advertisement

কিন্ত প্রাকৃতিক উপকরণ মানেই কি তা ত্বক-বান্ধব? পিসিওএস-এর মতো সমস্যা থাকলে ঘরোয়া টোটকাই বিপদের কারণ হতে পারে। কোন উপকরণের ব্যবহার নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি?

প্রথমে জানা প্রয়োজন পিসিওএস থেকে কোন ধরনের ত্বকের সমস্যা হতে পারে। পিসিওএস কে বলা হয় ‘পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম’। পিসিওএস হলে ডিম্বাশয়ে একাধিক ছোট সিস্টের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক চক্র, ব্রণ এবং স্থূলতার মতো বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পিসিওএস-হলে শরীরে অ্যান্ড্রোজেনের মতো পুরুষ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ব্রণ, তৈলাক্ত ত্বক, মুখে ফুস্কুড়ি, কালচে ভাব, লোমের আধিক্যের মতো একাধিক ত্বকের সমস্যাও দেখা দেয়। সেই সমস্যার সমাধানে না জেনে, না বুঝে টোটকা ব্যবহারে হিতে-বিপরীত হতে পারে, সাবধান করছেন ত্বকের চিকিৎসকেরা।

Advertisement

পাতিলেবুর রস: তৈলাক্ত ত্বক, ব্রণের সমস্যায় অনেকেই মুখে পাতিলেবুর রস মেখে ফেলেন। তা ছাড়া, সমাজমাধ্যমে নিজের মতো করে অনেকেই এমন ফেসপ্যাকও বানাতে শেখান। তবে পাতিলেবুতে থাকে অ্যাসিড জাতীয় উপাদান। সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে তা থেকে মুখে জ্বালা দিতে পারে। প্রদাহ বেড়ে গিয়ে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই ত্বকে সরাসরি এগুলি না লাগিয়ে বরং রূপচর্চা শিল্পী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। হরমোনের ভারসাম্যের অভাবে ত্বক তৈলাক্ত হয়ে গেলে, তা শুধু এটা-ওটা মেখে ঠিক করা সম্ভব নয়। বর হরমোনের ভারসাম্য ফেরানোটাই লক্ষ্য হওয়া দরকার।

নারকেল তেল: নারকেল তেলে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। শুধু চুলের পরিচর্যায় নয়, ত্বকের যত্নেও নারকেল তেলের ব্যবহার হয়ে আসছে। নারকেল তেল ক্ষতিকর নয় ঠিকই, কিন্তু ব্যবহারের ভুল তা থেকেই বাড়তে পারে সমস্যা। হরমোনের ওঠা-পড়া জন্য ত্বকে সমস্যা হলে, সরাসরি নারকেল তেলের ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। এমনিতে এই তেল রুক্ষ ত্বকের উপযোগী। তবে যাঁদের ত্বকের ধরন স্পর্শকাতর বা ব্রণ, ফুস্কুড়ি হওয়ার প্রবণতা রয়েছে তাঁদের এই তেল মুখে না মাখাই ভাল। কারণ, নারকেল তেল ত্বকের উন্মুক্ত ছিদ্রগুলিকে আটকে দেয়। ফলে তা থেকে ত্বকের সমস্যা হতে পারে।

এসেনশিয়াল অয়েল: আধুনিক রূপচর্চার অঙ্গ এসেনশিয়াল অয়েল। ল্যাভেন্ডার অয়েল, পিপারমেন্ট অয়েল, টি-ট্রি অয়েল, রোজ়মেরি অয়েল— এক একরকম এসেনশিয়াল অয়েলের এক একরকম উপযোগিতা রয়েছে। তবে এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি মাখা যায় না। বিশেষত তা যদি অন্য কোনও কেরিয়াল অয়েল বা অন্য কোনও প্যাকের সঙ্গে মিশিয়ে না মাখা হয়, তাতে ত্বকে প্রদাহ, অ্যালার্জি হতে পারে।তাই কোনও কিছু না ভেবে দুম করে মাখার চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অ্যালো ভেরা জেল: বাজারচলতি অ্যালো ভেরা জেল ব্যবহার করা একরকম, সরাসরি গাছের পাতা কেটে অ্যালো ভেরার শাঁস মাখা আর এক ব্যাপার। সরাসরি পাতা থেকে যে শাঁস পাওয়া যায়, তা থেকে ত্বকে অ্যালার্জি হয়। অনেকেরই তা সহ্য হয় না। বাজারচলতি জেল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি হয়। এতে ঝুঁকি কম থাকে।

পিসিওএস-এর মতো অসুখের ফলে ত্বকে যে ধরনের সমস্যা হয়, তা সবসময় টোটকায় সারে না। সে কারণেই, এটা-ওটা না মেখে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল। বাহ্যিক যত্নে ত্বকে সাময়িক জেল্লা ফিরলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়। হরমোনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য শরীরচর্চা, খাওয়া-দাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ জরুরি। সেগুলির দিকে নজর দেওয়া দরকার।

প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। ত্বকের যত্ন করতে গিয়ে ভুলভ্রান্তি হয় অনেক সময়েই। তাই অভিজ্ঞ পেশাদার ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement