মেকআপের দুনিয়ায় জেলির জোর। ছবি: সংগৃহীত।
অভিনেত্রীদের ভ্যানিটি ব্যাগেই হোক বা সমাজমাধ্যমের পেজে, মেকআপের এক নতুন ফরম্যাট বেশ নজর কাড়ছে রূপসজ্জার জগতে। এক সময়ে রূপসজ্জার সামগ্রীর বেশির ভাগটাই হত ক্রিম-বেস্ড। তার পর ধীরে ধীরে বাজারে এল সিরাম বেস্ড প্রডাক্ট। তবে ইদানীং সাধারণ ক্রিম বা সিরামের বদলে বাজারে চাহিদা বাড়ছে জেলি-বেস্ড প্রডাক্টের। ছুঁলে মনে হবে নরম তুলতুল, দেখলেই মনে হবে, টপ করে মুখে পুরে দিই, ত্বকে ব্যবহার করলে ঠিক মাখনের মতো মিলিয়ে যাবে— ‘জেলি বিউটির’ কদর বেড়েছে বাজারে।
জেলি বিউটি নিছক একটি মেকআপ প্রসাধনী নয়। এটিকে রূপসজ্জার জগতের এক নতুন ‘সেন্সরি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বলা যেতে পারে। এই পুরো বিষয়টি নির্দিষ্ট প্রসাধনীটি হাতে নিলে ঠিক কেমন অনুভূতি হবে, তার উপরেই নির্ভর করছে। ময়েশ্চারাইজ়ার, মাস্ক, ক্লিনজ়ার, আই-প্যাচ, ব্লাশ— বাজারে এখন এই সব সামগ্রীই জেলির ধাঁচে। প্রথম দিকে কোরিয়ায় এই ধরনের প্রসাধনীগুলি বেশ জনপ্রিয় ছিল। তার পরেই ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের প্রসাধনীর ব্যবহার বেড়েছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূপচর্চার দুনিয়াতেও বেশ বদল এসেছে। এখন মানুষ মেকআপ করেন ঠিকই, তবে এমন ভাবেই মেকআপ করেন, যা দেখে ধরা যাবে না যে আদৌ তিনি মুখে কিছু মেখেছেন। মানুষ এমন প্রসাধনীই মুখে মাখছেন, যা মুখের সঙ্গে একেবারে মিশে যাবে এবং প্রাকৃতিক জেল্লা দেবে। ক্রিম বা সিরামের থেকে জেলি-বেস্ড প্রসাধনীগুলি অনেক বেশি এই প্রাকৃতিক জেল্লা আনতে পারে, তাই এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।
জেলি স্কিনকেয়ার এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কারণ, এটির ব্যবহার বেশ মজাদার, প্রয়োগ করা সহজ এবং ব্যবহারের পর ঝকঝকে দেখায়। এখন মানুষ এমন পণ্য চান, যা সহজেই ত্বকে মিলয়ে যায়। জেলি-বেস্ড প্রসাধনী তৈরির ক্ষেত্রে তাই হাইড্রেশনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে ত্বকে যে আদৌ কোনও প্রসাধনী প্রয়োগ করা হয়েছে, তা বোঝা যায় না।
আইশ্যাডোতেও পড়েছে জেলির ছোঁয়া। ছবি: সংগৃহীত।
নিজের মেকআপের সম্ভারে কোন কোন জেলি বেস্ড প্রসাধনী রাখতে পারেন?
১) হুডা বিউটি ফক্স ফিলার জেলি অয়েল: সাধারণ লিপবাম বা লিপস্টিকের বদলে এই প্রসাধনীটি রাখতে পারেন পছন্দের তালিকায়। এটি ব্যবহার করলে কোনও রকম জ্বালা, যন্ত্রণা ছাড়াই ঠোঁট স্বাভাবিকের তুলনায় ফোলা দেখাবে, একটা চকচকে ভাব আসবে।
২) গ্লো রেসিপি ওয়াটারমেলন গ্লো নিয়াসিনামাইড ডিউ বাম সানস্ক্রিন স্টিক: নিয়াসিনামাইড এবং হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ একটি সানস্ক্রিন সিরাম স্টিক, যা ত্বককে সুরক্ষা দেয়, আর্দ্র রাখে এবং তাৎক্ষণিক ভাবে উজ্জ্বল করে।
৩) মিল্ক মেকআপ কুলিং ওয়াটার জেলি টিন্ট: এই জেলি-বেস্ড টিন্ট ব্লাশ হিসাবে ব্যবহার করা যায়, যা ত্বকের সঙ্গে খুব ভাল ভাবে মিশে একটা প্রাকৃতিক লাল আভা তৈরি করে। এ ছাড়া ঠোঁটেও এটি ব্যবহার করতে পারেন।
৪) ম্যাক জেলি শাইন আই শ্যাডো: এই অ্যাই শ্যাডোটিও জেলি-বেস্ড। এটিকে চোখের উপর এক স্ট্রোকেই ব্যবহার করা যায়। যাঁরা চোখের মেকআপ করতে ততটাও পারদর্শী নন, তাঁরা এটি ব্যবহার করতে পারেন সহজে।
৫) বায়মা ক্রিমি জেলি ক্লিনজ়ার: এটি আলট্রা-হাইড্রেটিং জেলি ক্লিনজ়ার, যা ত্বকের সঙ্গে খুব সহজে মিশে গিয়ে ত্বকে জমে থাকা ধুলোময়লা পরিষ্কার করে দিতে পারে।