কী ভাবে নতুন মায়েরা হয়ে উঠবেন ফ্যাশনিস্তা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শিশুর জন্মের পর থেকে নারীর শরীর-মনে একাধিক পরিবর্তন আসে। ইংরেজিতে এই সমস্যাকে বলে ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’। শিশুর জন্মের পরে চারপাশের অনেক কিছুই বদলে যায়। মায়েদের জীবন একেবারেই সন্তানকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। এত বদলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক ক্ষেত্রে ডেকে আনে অবসাদ। এই অবসাদের নেপথ্যে অন্যতম বড় কারণ হতে পারে পছন্দের পোশাকগুলি আর পরতে না পারা।
সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর প্রথম কয়েক দিনে ওজন সামান্য কমলেও, সপ্তাহখানেকের মধ্যে তা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় এসে দাঁড়ায়। প্রথম এক, দু’মাস সন্তানকে নিয়েই অনেকটা সময় কেটে যায় হবু মায়ের। তাই তখনও মনমেজাজ ভালই থাকে। কিন্তু তার পর থেকে একটু লাগাম ছাড়লেই ওজন বাড়তে থাকে ক্রমশ। অনেক সময় অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও যে পোশাকগুলি কেনা হয়, সেগুলিও গায়ে ঢোকে না। হতাশার পারদ আরও চড়তে শুরু করে। তবে এ সময়ে অবসাদে না ভুগে আলমারির ভোল বদলে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
দীপিকা পাড়ুকোন, সোনম কপূর, আলিয়া ভট্টের মতো অভিনেত্রীরাও সন্তানের জন্ম দেওয়ার কয়েক দিনের মাথাতেই ক্যামেরার সামনে আসেন। তবে তাঁদের সাজগোজে কিন্তু কোনও রকম খামতি ধরা পড়েনি ফ্যাশনিস্তাদের। বরং মা হওয়ার পর কী ভাবে আরও সুন্দর করে নিজেকে জনসমক্ষে তুলে ধরা যায়, সেটাই শিখিয়েছে নায়িকাদের সাজ। অবসাদ দূর করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে কী ভাবে সাজপোশাক করবেন নতুন মায়েরা, রইল হদিস।
নতুন মায়েরা দিনের বেলার জন্য কিনতে পারেন প্রিন্টেড ম্যাক্সি ড্রেস বা লং ফ্রক। ছবি: সংগৃহীত।
মা হওয়ার পর দিনের বেশির ভাগ সময় নতুন মায়েদের বাড়িতেই কাটে। তবে বাড়িতে অগোছালো ভাবে থাকেন অনেকেই। বাড়ির পোশাকগুলি সবার আগে বদলে ফেলুন। পুরনো ঢিলেঢালা, রং উঠে যাওয়া পোশাকগুলি বাতিল করে দিন। দিনের বেলার জন্য কিনতে পারেন প্রিন্টেড ম্যাক্সি ড্রেস বা লং ফ্রক। রাতের জন্য পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন উজ্জ্বল রঙের কিচু নাইট স্যুট। সুবিধার্থে সামনে বোতাম আছে, এমন নাইট স্যুটগুলিই বেছে নিন।
প্রসবের পর জিন্স পরতে অনেকেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না, সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন রঙের টামি টাকার লেগিন্স বা ট্রাউজ়ার অবশ্যই আলমারিতে রাখুন। এই প্রকার ট্রাউজ়ারগুলি পরলে যেমন শরীরে আরাম বোধ হয়, তেমনই পেটের ফোলাভাবকেও কায়দা করে আড়াল করা যায়।
‘মম জিন্স’ শরীরের সঙ্গে আঁটোসাঁটো হয়ে বসে থাকে না। ছবি: সংগৃহীত।
অনেকেই আবার জিন্স পরতে পছন্দ করেন। তাঁদের মন খারাপ করার কিছু নেই। একটু খুঁজলেই অনলাইন সাইটগুলি কিংবা শপিং মলগুলিতে পেয়ে যাবেন ‘মম জিন্স’, অর্থাৎ এমন জিন্স, যা পরে নতুন মায়েরা স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। এই ধরনের জিন্স শরীরের সঙ্গে আঁটোসাঁটো হয়ে বসে থাকে না। কোমরের দিকে ঢিলেঢালা এই জিন্সগুলি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্ট্রেচেব্ল হয়। বোতাম না থাকায় পেটের উপর তেমন চাপ পড়ে না। এ ধরনের জিন্সের নীচের দিকটিও হয় বেশ ঢিলেঢালা। গরমের সময় এমন ‘মম জিন্স’-এর সঙ্গে স্টাইল করতে পারেন একরঙা ফুলহাতার শার্ট, ভিতরে একটা ট্যাঙ্ক টপ আর বোতাম খুলে স্ট্রাইপ শার্ট দিয়ে পরলেও মন্দ লাগবে না।
নতুন মায়েদের ফ্যাশনে জ্যাকেটের গুরুত্ব অনেকটাই বেশি। ছবি: সংগৃহীত।
হবু মায়েদের কালেকশনে রাখতে পারেন রকমারি জ্যাকেট। ভিতরের পোশাক অতি সাধারণ হলেও উপরে একটি ভাল জ্যাকেট পরে নিলেই সাজ একেবারে বদলে যায়। তাই মরসুম অনুযায়ী হবু মায়েদের বেছে নিতে হবে জ্যাকেটের ধরন। লেয়ারিং করে কাপড়জামা পরলে খানিকটা রোগা দেখায়, এ বিষয় কোনও সন্দেহ নেই। তাই নতুন মায়েদের ফ্যাশনে জ্যাকেটের গুরুত্ব অনেকটাই বেশি।
নান রকম মেটারনিটি ড্রেস নতুন মায়েদের সংগ্রহে থাকলে পোশাক নিয়ে আর ভাবতে হবে না। ছবি: সংগৃহীত।
সাধারণ কুর্তি, ড্রেসের বদলে মেটারনিটি ড্রেস সাজিয়ে রাখুন আলমারিতে। বাইরে কোথাও বেরোনো হোক বা শিশুকে নিয়ে আশপাশে কোনও ট্রিপে যাওয়া, রকমারি প্রিন্টের মেটারনিটি পোশাক নতুন মায়েদের সংগ্রহে থাকলে পোশাক নিয়ে আর ভাবতে হবে না।
কয়েকটি সুন্দর দেখতে ডায়াপার ব্যাগেও বিনিয়োগ করতে পারেন হবু মায়েরা। ছবি: সংগৃহীত।
নতুন নতুন মা হওয়ার পর কোথাও বেরোলে আলমারিতে রাখা নামীদামি সংস্থার ব্যাগগুলি হাতছানি দিলেও সেগুলি নেওয়ার উপায় থাকে না। সদ্যোজাতকে সঙ্গে নিয়ে বেরোনোর সময় তার একাধিক জামা, ডায়াপার, গরম জলের ফ্লাস্ক, ওয়েট টিস্যু আর প্রয়োজন ফর্মুলা দুজের মতো একাধিক জিনিস সঙ্গে নিতে হয়। তাই ডায়াপার ব্যাগ কাঁধে তুলে নেওয়া ছাড়া গতি নেই। ডায়াপার ব্যাগ শুধু প্রয়োজনের সামগ্রী নয়, ফ্যাশনের অনুষঙ্গও হয়ে উঠতে পারে। সুন্দর করে সেজেগুজে একটা অতি সাধারণ ডায়াপার ব্যাগ কাঁধে নিলে গোটা সাজটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। তাই কয়েকটি সুন্দর দেখতে ডায়াপার ব্যাগেও বিনিয়োগ করতে পারেন হবু মায়েরা।
পুরনো অন্তর্বাসগুলি কিছু দিনের জন্য তুলে রাখুন, কিনে ফেলুন মেটারনিটি ইনারওয়্যার বা শুধুমাত্র নতুন মায়েদের জন্য বানানো অন্তর্বাসগুলি। সুন্দর করে সাজগোজ করে যা হোক গয়নাগাটি, জুতো, সানগ্লাস পরে নিলে হবে না। এই সময় আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে হলে নতুন করে কিছু ফ্যাশন অনুষঙ্গও কিনতে হবে।