সব্জি খেয়েই হবে রূপচর্চা। ছবি: সংগৃহীত।
বাঁধাকপির নাম শুনলেই মাথায় আসে মায়ের হাতের তৈরি বাঁধাকপির তরকারির কথা। যে তরকারি পাতে পড়লে অনেকেরই মুখের হাসি চলে যায়। তবে বাঁধাকপির সঙ্গে রূপচর্চার কোনও যোগ থাকতে পারে, সে কথা অবশ্য অনেকেরই মাথায় আসবে না। রন্ধনশিল্পের জগতে বাঁধাকপি নিয়ে রকমারি কাজ হচ্ছে। বাঁধাকপির ডাম্পলিং থেকে রোল, স্যালাড থেকে কিমচি! বাঁধাকপি দিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন পদ। তবে এই সব্জি এখন শুধু খাবারের জগতেই দাপট বৃদ্ধি করছে না, সেই সঙ্গে রূপচর্চার দুনিয়াতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
বিষয়টি কিন্তু বেশ মজাদার আর ভেবে দেখার মতো। বাঁধাকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। কিছু কিছু প্রজাতির বাঁধাকপিতে কমলালেবুর থেকেও বেশি মাত্রায় ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি তো শুধু শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে না, এই ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। কোলাজেন হল এমন এক প্রোটিন, যা ত্বকের টানটান ভাব ফিরিয়ে আনার আসল চাবিকাঠি। সেই সারসত্য যাঁরা জেনেছেন, তাঁরাই চোখ-কান বুঝে কোলাজেন বৃদ্ধিতে মন দিয়েছেন। কোলাজেন ক্রিম, কোলাজেন ফেসিয়াল, কোলাজেন ট্যাবলেট, কেউ কেউ কোলাজেন পাউডার জলে গুলেও খাচ্ছেন। অথচ এত কিছু না করে রোজ এক কাপ করে কাঁচা বাঁধাকপির স্যালাড বানিয়ে খেলেই প্রতিদিনের ভিটামিন সি-এর চাহিদার ৮৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। হিসাব করলে দেখা যাবে বেশির ভাগ দামি সিরামের চেয়ে ত্বকের জেল্লা ফেরাতে বাঁধাকপি অনেক বেশি কার্যকর। দামি প্রসাধনীর পিছনে হাজার হাজার টাকা খরচ না করে কেবল ভাতের সঙ্গে বাঁধাকপি খেলেই ত্বকের অনেক বেশি উপকার হবে।
ত্বক চিকিৎসকেরা বার বার বলেন, ত্বকের সমস্যা সমাধানের জন্য মুখে কী মাখছেন সেটা যেমন জরুরি তেমনই কী খাচ্ছেন সে দিকেও সমান ভাবে সচেতন থাকতে হবে। বাঁধাকপি দিয়ে তৈরি কিমচি ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এতে থাকে প্রোবায়োটিক। প্রোবায়োটিক হল পেটের ভিতরে থাকা ভাল ব্যাক্টেরিয়া, যা হজমে সাহায্য করে। প্রোবায়োটিকের জোগান ঠিক থাকলে পেটের সমস্যা কমে, হজম ভাল হয়। আর পেট পরিষ্কার থাকলে ত্বকেও তার প্রভাব পড়ে। ত্বকের প্রদাহ কমে, ব্রণ-র সমস্যা দূর হয়, ত্বকের জেল্লাও বাড়ে।
এ ছাড়াও বাঁধাকপিতে থাকে সালফোরাফেন আর ভরপুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা ত্বককে দূষণ আর অতিবেগনি রশ্মির ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
কী ভাবে খেলে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে?
ত্বকের সবচেয়ে বেশি লাভ হবে স্যালাডে কাঁচা বাঁধাকপি খেলে। এ ছাড়া কিমচি বানিয়ে খেলেও লাভ হবে। শসা, লেবুর সঙ্গে মিশিয়ে বাঁধাকপির রস বানিয়ে খেলেও উপকার পাবেন। রোজ খেতে হবে এমনটা নয়। তবে ত্বকে ইতিবাচক প্রভাব দেখার জন্য সপ্তাহে ৩-৪ দিন বাঁধাকপি রাখুন ডায়েটে।