ছবি : সংগৃহীত।
হাওয়ায় চুল উড়ে এসে ঝাপটা লাগল নাকে-মুখে। আর সুগন্ধের এক আবেশ ভরিয়ে দিল চারপাশ। ব্যাপারটা নাটকীয় হলেও বেশ রোম্যান্টিক। চুলের সুগন্ধি সেই রোম্যান্টিসিজ়মের সঙ্গী হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে।
এ কালে রাসায়নিক মুক্ত শ্যাম্পুর খোঁজে সুগন্ধি শ্যাম্পুর দিন গিয়েছে ঠিকই। কিন্তু বছর ২০-২৫ আগেও মহিলারা চুলের শ্যাম্পু বেছে নেওয়ার সময় গুরুত্ব দিতেন তার গন্ধে। তারও আগে জমিদার গিন্নিরা চুলে মাখতেন ফুলেল তেল। রানি, বেগমদের যত্ন আত্তির জন্য চুল শুকিয়ে নেওয়ার সময়ে সুগন্ধি ধুনোর ধোঁয়া দিয়ে দিতেন সখীরা। সাজিয়ে দিতেন জুঁইয়ের মালা দিয়ে।
সোজা কথায়, চুলে সুগন্ধির ব্যবহার নতুন নয়। তবে এখন তা এসেছে নতুন ঢঙে। জামা বা ত্বকের জন্য যেমন পারফিউম পাওয়া যায়, তেমনই আমজনতার জন্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে হেয়ার পারফিউম। যা বিশেষভাবে চুলের জন্য তৈরি সুগন্ধি। অন্য সুগন্ধিতে অ্যালকোহলের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। তাই তা চুলে ব্যবহার করলে চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। তুলনায় হেয়ার পারফিউমে অ্যালকোহলের পরিমাণ থাকে অনেক কম। শুধু তা-ই নয়, এটি যে ভাবে তৈরি করা হয়, তাতে চুলের কিছু উপকারও হতে পারে।
হেয়ার পারফিউম ব্যবহার করলে কী কী উপকার হতে পারে?
দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধ: চুলের গঠন এমন যে এটি ঘ্রাণ ধরে রাখতে পারে। তাই শরীরের পারফিউমের চেয়ে চুলের সুগন্ধ অনেক বেশি সময় স্থায়ী হয়। ঘাম বা দূষণের কারণে চুলে যে ভ্যাপসা গন্ধ হয়, তা দ্রুত দূর করতে পারে।
চুলের যত্ন : ভাল মানের হেয়ার পারফিউমে ভিটামিন ই, প্যান্থেনল এবং এসেনশিয়াল অয়েল থাকে, যা চুলকে উজ্জ্বল ও মসৃণ করে।
রোদ থেকে সুরক্ষা: অনেক হেয়ার পারফিউমে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চুলকে রক্ষা করার কৃত্রিম ক্ষমতা দেওয়া থাকে। সে ক্ষেত্রে এগুলি ব্যবহার করে বাইরে বেরোলে তা চুলকে রোদ এবং দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে পারে।
কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে কি?
হেয়ার পারফিউম মাত্রই চুলের ক্ষতি হবে— এমনটা নয়। তবে চুলের যত্নের ক্ষেত্রে সব সময়ই বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ কোনও রকম সমস্যা হলে, তা থেকে চুলের ক্ষতি হতেই পারে।
১। লেবেল পড়ে নিন সব সময়ে। তার পরে কিনুন। কারণ, যদি হেয়ার পারফিউমটিতে অ্যালকোহল বেশি থাকে এবং সেটি প্রতি দিন ব্যবহার করা হয়, তবে চুল তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।
২। যাঁদের মাথার ত্বক স্পর্শকাতর, তাঁরা ওই পারফিউম সরাসরি মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পে স্প্রে না করলেই ভাল। কারণ, তা থেকে চুলকানি বা র্যাশ হতে পারে। জ্বালাও করতে পারে।
৩। গুণমানে ভাল কি না যাচাই করে নিন। নিম্নমানের পারফিউম থেকে চুল চিটচিটে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ব্যবহারের নিয়ম
১। বোতলটিকে চুল থেকে অন্তত ৬-৮ ইঞ্চি দূরে রেখে স্প্রে করুন।
২। মাথার ত্বকে স্প্রে না করে চুলের মাঝের অংশ থেকে নীচের অংশ পর্যন্ত স্প্রে করুন।
৩। সরাসরি চুলে দিতে ভয় পেলে প্রথমে চিরুনিতে স্প্রে করে নিন, তারপর সেই চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান। এতে সুগন্ধ সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়বে।