Aishwarya Rai vs Shweta Bachchan

বলিউডের ননদ-বৌদির লড়াই! সাজে প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বর্যাকে বহু বার টেক্কা দেন অমিতাভ-কন্যা

ঐশ্বর্যার মতো তারকারা সাধারণত প্রকাশ্যে এলে অধিকাংশ সময়ে সাজগোজের ব্যাপারে স্টাইলিস্টের পরামর্শ নেন। অনেকের নিজস্ব স্টাইলিস্ট থাকেও। কারণ জনমানসে তাঁদের ভাবমূর্তি, তাঁদের চেহারার প্রভাব পড়ে। শ্বেতার সেই চাপ নেই।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০২
Share:

শ্বেতা নন্দা বচ্চন এবং ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন। গ্রাফিক— আনন্দবাজার ডট কম।

এক জন মঞ্চে উঠলে অন্য জন মঞ্চ থেকে নেমে যান। এমনই সম্পর্ক বলিউডের তারকা ননদ-বৌদির জুটির। একজন অমিতাভের পুত্রবধূ প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী এবং বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন। অন্য জন অমিতাভ বচ্চনের কন্যা শ্বেতা বচ্চন নন্দ।

Advertisement

ঐশ্বর্যা পেশাগত কারণেই গ্ল্যামার জগতের সঙ্গে যুক্ত। সেই জন্যই আলোচনায় থাকেন। কিন্তু শ্বেতা বিনোদন দুনিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হয়েও তারকা। ননদ-বৌদির মধ্যে কে বেশি সুন্দরী, তা নিয়ে তর্ক চলতেই পারে। তবে ফ্যাশনে ঐশ্বর্যাকে বহুবার টক্কর দিয়েছেন ‘রায়বাঘিনী’ শ্বেতা।

বাবা-মা দু’জনেই গ্ল্যামার দুনিয়ার বড় তারকা। তাই ছোট থেকেই ফ্যাশনের প্রতি বাড়তি আগ্রহ ছিল শ্বেতার। তরুণী শ্বেতা বেশ কয়েক বার মডেলিংও করেছেন বলিউডের নামী পোশাকশিল্পীদের হয়ে।

Advertisement

তালিকায় যেমন আবু জানি-সন্দীপ খোসলার মতো খ্যাতনামী পোশাকশিল্পীদ্বয় রয়েছেন, তেমনই রয়েছে মণীশ মলহোত্রের মতো নামও। এঁদের জন্য মার্জার সরণিতেও হেঁটেছেন শ্বেতা।

মডেলের মতোই চেহারা তাঁর। উচ্চতায় প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরীর থেকেও বেশি। ঐশ্বর্যা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। শ্বেতার উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। তার উপর তাঁর রোগাটে গড়নের জন্য তাঁকে আরও লম্বা দেখায়।

ওই ধরনের চেহারার কদর রয়েছে ফ্যাশন দুনিয়ায়। তার কারণ, এমন চেহারায় যে কোনও পোশাক সুন্দর ভাবে মানিয়ে যায়।

তাছাড়া শ্বেতার মুখের আদলেও রয়েছে ধারালো ভাব। চোখ দু’টি বাবার মতো বড় বড়। লম্বা ঢেউ খেলানো চুল। সব মিলিয়ে তাঁকে ধ্রুপদী সুন্দরী বলে মন্তব্য করেছিলেন দুই পোশাকশিল্পী আবু এবং সন্দীপ।

এই দুই পোশাকশিল্পীই পোশাকে ধ্রুপদী শিল্প এবং ঐতিহ্যের ছোঁয়া রাখতে ভালবাসেন। সম্ভবত সে কারণেই নিজেদের পোশাকের মডেল হিসাবে শ্বেতাকেই পছন্দ করতেন তাঁরা।

বিয়ের পর দীর্ঘ দিন প্রচারের আলোর আড়ালে ছিলেন শ্বেতা। মেয়ে নব্যা নবেলী নন্দ বড় হওয়ার পর আবার তাঁর দেখা পেতে শুরু করেন বলিউড ভক্তেরা।

বিভিন্ন পার্টি, অনুষ্ঠানে নিয়মিত ভাবে হাজিরা দিতে শুরু করেন অমিতাভ-কন্যা। বাবার সঙ্গে মার্জার সরণিতেও হাঁটতে দেখা যায় তাঁকে।

তবে শ্বেতা কখনওই নিজের ফ্যাশনবোধ জাহির করেননি। তাঁর স্টাইল, পোশাক চয়ন— সব কিছু নীরবে বলে গিয়েছে তাঁর সাজগোজের নৈপুণ্যের কথা। অন্য দিকে, ভ্রাতৃবধূ ঐশ্বর্যা রেড কার্পেটে প্রথম দিকে মুগ্ধ করলেও পরের দিকে তাঁর ফ্যাশনবোধ সমালোচিতও হয়েছে। বিশেষ করে কান চলচ্চিত্রোৎসবে তাঁর কিছু পোশাক দেখে সমালোচকেরা বলতে বাধ্য হয়েছেন যে, ঐশ্বর্যা তাঁর ফ্যাশনের মান নিজেই টেনে নামিয়েছেন।

শ্বেতা যে প্রতিবারই সাজগোজে দারুণ নম্বর পেয়েছেন, তা নয়। কখনও সখনও তাঁর ফ্যাশন নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। কিন্তু তার পরেও পোশাক নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার ব্যাপারে পিছু হঠেননি শ্বেতা।

আর তাঁর সেই সাহস আর নিজেকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার ইচ্ছে নজর কেড়েছে ফ্যাশন বোদ্ধাদেরও। ইদানীংকালে ঐশ্বর্যার থেকেও তাঁকে বেশি দেখা গিয়েছে বিভিন্ন কোলাবরেশন এবং বিজ্ঞাপনে।

বিভিন্ন ফ্যাশন পত্রিকার ফটোশ্যুটেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। দেখা গিয়েছে পত্রিকার প্রচ্ছদে। ভ্রাতৃবধূ ঐশ্বর্যার ভক্তেরা তাঁকে একরকম খলনায়িকা বানিয়ে দিয়েছেন, তা সত্ত্বেও জোর করে কিছু প্রমাণ করার চেষ্টা করেননি শ্বেতা।

দুই সন্তান নব্যা নবেলী এবং অগস্ত্য নন্দকে নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। আর যখন সুযোগ পেয়েছেন, তখন সাজগোজে নিজের মতো করে মেলে ধরেছেন শিল্পবোধ।

ঐশ্বর্যার মতো তারকারা সাধারণত প্রকাশ্যে এলে অধিকাংশ সময়ে সাজগোজের ব্যাপারে স্টাইলিস্টের পরামর্শ নেন। অনেকের নিজস্ব স্টাইলিস্ট থাকেও। কারণ জনমানসে তাঁদের ভাবমূর্তি, তাঁদের চেহারার প্রভাব পড়ে। একটু এ দিক থেকে ও দিক হলেই সমালোচিত হতে হয়। শ্বেতার সেই চাপ নেই।

তিনি নিজের ইচ্ছেমতো সাজতে পারেন। সাজেনও। আর সেই সাজের তুলনা যখন হয় গ্ল্যামার দুনিয়ার খ্যাতনামী তারকা ঐশ্বর্যার সঙ্গে, তখন শ্বেতার স্টাইল এবং ফ্যাশনবোধকে নেহাত পিছিয়ে রাখা যায় না। বরং চাইলে একটু বেশি নম্বরও দেওয়া যায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement