ছবি : সংগৃহীত।
খাবার খেলেন, খাবারের দাম মেটালেন। এটুকু হলে তো হয়েই যেত। কিন্তু সাজানো গোছানো রেস্তরাঁয় বসে খাবার খেলে শুধু সেটুকুতে হয় না। খাবারের দামের সঙ্গে জোড়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের জিএসটি। তার পাশাপাশি কিছু রেস্তরাঁ তাদের কর্মীদের দেওয়া টেবিল পরিষেবার জন্যও কিছু বাড়তি দাম বা পরিষেবা মূল্য নেয়।
এই পরিষেবা মূল্য কিসের জন্য? রেস্তরাঁর টেবিলে খাবার সাজিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে থালায় পরিবেশন, প্রয়োজনে খালি গ্লাসে জল ভরে দেওয়া, ন্যাপকিন, কাঁটা-ছুরি-চামচ এনে দেওয়া এবং এ যুগে অতিথিদের ছবি তুলে দেওয়ার মতো কাজও করে দেন রেস্তরাঁর কর্মীরা। যে সমস্ত রেস্তরাঁয় পরিষেবা মূল্য নেওয়া হয়, তা নেওয়া হয় কর্মীদের ওই পরিষেবার জন্যই। কিন্তু যদি আপনি ওই পরিষেবা না নেন? নিজের খাবার নিজে পরিবেশন করলেন, জলও নিজেরাই ঢেলে নিলেন গ্লাসে, তবে কি রেস্তরাঁগুলি ওই পরিষেবা মূল্য নেবে না? নেবে এবং তা দিতে বাধ্যও করবে। অন্তত সেই সব রেস্তরাঁয়, যেখানে পরিষেবা মূল্য নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। যেমনটা সম্প্রতি হয়েছে মুম্বইয়ের এক রেস্তরাঁয়। কিন্তু রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ কি সত্যিই সেখানে খেতে আসা অতিথিদের পরিষেবা মূল্য দিতে বাধ্য করতে পারেন?
এ দেশের সরকারি নিয়ম কী বলছে?
দ্য সেন্ট্রাল কনজ়িউমার প্রোটেকশন অথরিটি (সিসিপিএ) বেশ স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছে যে—
১। কোনও রেস্তরাঁ অতিথিকে দেওয়া পরিষেবার দাম দিতে বাধ্য করতে পারে না।
২। কোনও রেস্তরাঁ তার বিশেষ পরিষেবার জন্য যদি সার্ভিস চার্জ নেয়, তবে তা কতটা নেওয়া হচ্ছে, সে কথা বিলে আলাদা করে উল্লেখ করতে হবে।
৩। একই সঙ্গে এ-ও জানিয়ে দিতে হবে যে, ওই পরিষেবা মূল্য দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অতিথি চাইলে দিতে পারেন, আবার না-ও দিতে পারেন।
৪। সার্ভিস চার্জ বা পরিষেবার মূল্য নিলে তা লুকোতে অন্য নাম ব্যবহার করা যাবে না।
৫। বিলে সার্ভিস চার্জ যেখানে লেখা হবে, তার নীচেই জিএসটির উল্লেখ থাকতে হবে।
সম্ভবত সেই জন্যই মুম্বইয়ের ওই রেস্তরাঁর পরিষেবামূল্য খাবারের দামের সঙ্গে মিলিয়ে ধরে নেওয়ায় এবং তা অতিথিদের দিতে বাধ্য করায় তাদের শাস্তি পেতে হয়েছে। সিসিপিএ এ-ও জানিয়েছে, বিলে বিভিন্ন নামে লুকনো পরিষেবা মূল্য নেওয়া হচ্ছে বলে তাদের কাছে প্রচুর অভিযোগও এসে পৌঁছেছে।