রাগি দিয়ে নানা রাজ্যের কিছু রান্নার প্রণালী শেখালেন সঞ্জীব কপূর। ফাইল চিত্র।
আটা-ময়দা ছেড়ে যাঁরা ডায়েট শুরু করেছেন, তাঁদের পছন্দের খাবার হয়ে উঠেছে রাগি বা মিলেট। এ দেশে আসা রাষ্ট্রনায়কদের ভোজসভা হোক বা আম বাঙালির হেঁশেল— রাগি বিরাজ করছে সর্বত্রই। গুজরাত, রাজস্থান-সহ ভারতের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে জোয়ার, বাজরা, রাগি খাওয়ার যে চল এতদিন ছিল,তা এখন বাঙালির পাতেও দিব্যি শোভা পাচ্ছে। রাগি এখন ডায়েট-ফুড হিসাবেই বেশি পরিচিত। তবে রাগি মানেই কিন্তু খিচুড়ি বা উপমা নয়, রাগি দিয়ে আরও নানা স্বাদের খাবার তৈরি করা যায়। দেশের নানা রাজ্যে রাগি নিয়ে বিশেষ কিছু খাবারও তৈরি করা হয়। তেমনই কিছু স্বাস্থ্যকর রান্নার প্রণালী শিখিয়েছেন রন্ধনশিল্পী সঞ্জীব কপূর।
কর্নাটকের রাগি মুদ্দে
কর্নাটকের রাগি মুদ্দে
এটি কর্ণাটকের গ্রামীণ অঞ্চলের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, পুষ্টিকর এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার। একটি পাত্রে ২ কাপ জল ফুটিয়ে নিন। তাতে সামান্য নুন এবং ১ চামচ ঘি দিন। এ বার ১ কাপ রাগির আটা অল্প অল্প করে ফুটন্ত জলে ঢেলে কাঠের হাতা দিয়ে অনবরত নাড়তে থাকুন যাতে দলা না পাকিয়ে যায়। আঁচ কমিয়ে ঢাকা দিয়ে ৪-৫ মিনিট ভাপে রান্না হতে দিন। মিশ্রণটি মণ্ড পাকিয়ে এলে নামিয়ে গরম অবস্থাতেই গোল গোল বলের আকারে গড়ে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন চাটনি বা আচারের সঙ্গে।
তামিলনাড়ুর রাগির পকোড়া
তামিলনাড়ুর রাগির পকোড়া
মুচমুচে পকোড়ার মতো হয়। স্ন্যাক্স হিসাবে খাওয়া হয়। বানাতে চাইলে ১ কাপ রাগির আটা, ৩ চামচ চালের আটা, পেঁয়াজকুচি, কাঁচালঙ্কা, কারিপাতা, আদাকুচি, সামান্য হিং এবং নুন একসঙ্গে মেখে নিন। এ বার সামান্য জলের ছিটে দিয়ে একটি শক্ত ও শুকনো মিশ্রণ তৈরি করুন। কড়ায় তেল গরম করে মিশ্রণটি পকোড়ার আকারে গড়ে লালচে ও মুচমুচে করে ভেজে তুলুন।
ওড়িশার মাড়ুয়া চাকুলি পিঠে
ওড়িশার মাড়ুয়া চাকুলি পিঠে
ওড়িশায় এই খাবারটি খুবই পছন্দের। চাকুলি পিঠে দেখতে অনেকটা উত্তপম বা দোসার মতো। চালের বদলে রাগি দিয়েও তৈরি হয়। ১ কাপ বিউলির ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে নরম করে বেটে নিন। এই ডাল বাটার মধ্যে ১ কাপ রাগির আটা, স্বাদমতো নুন এবং জল মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করে নিন। ঢাকা দিয়ে ঘণ্টাখানেক রেখে দিন। এ বার তাওয়ায় সামান্য তেল দিয়ে ব্যাটারটি গোল করে ছড়িয়ে দিন। ঢাকা দিয়ে দু’পিঠ ভাল করে সেঁকে নিলেই নরম চাকুলি পিঠে তৈরি হবে। এটি আলুর তরকারি বা গুড় দিয়ে খাওয়া হয়।