—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
কফি হাউসের সেই আড্ডা হোক কিংবা ঝাঁ চকচকে কোনও কাফেতে খোশগল্প— সঙ্গে এক কাপ কফি হলে মন্দ হয় না! রূপচর্চাতেও ভীষণ ভাবে কাজে দেয় কফি। ত্বকের জেল্লা বাড়ানো থেকে চোখের তলার ফোলা ভাব কমানো, রূপচর্চায় কফি এখন ট্রেন্ডিং। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কফির বীজে আছে নানা গুণ, যা খাওয়া এবং রূপচর্চা, সবেতেই ভীষণ উপকারী।
কফি-বীজে বহু গুণ
কফির বীজে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট— বিশেষত পলিফেনল ও ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের কাজ হল ফ্রি-র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমানো। দূষণ, রোদ, মানসিক চাপ— নানা কারণে ত্বকে যে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়, তা সামাল দিতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সহায় হতে পারে। এর জন্য ত্বকে কোষের ক্ষতি কম হয়। ফোলা ভাবও কমায়। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ক্যাফেন। এই উপাদান ত্বকের উপরের স্তরে রক্তসঞ্চালন সাময়িক ভাবে বাড়াতে পারে। ফলে ত্বকে আসে সতেজ ভাব, দেখায় টানটান, উজ্জ্বল। চোখের নীচের ফোলা ভাব কমাতেও ক্যাফেনের ব্যবহার বেশ প্রচলিত। এ ছাড়াও, কফিতে মজুত ক্যাফিক অ্যাসিডেও বেশ কিছুটা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। এই অ্যাসিড আমাদের ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে।
অতিবেগুনি রশ্মির জন্য ত্বকের যে ক্ষতি হয়, তার জন্য কফি খুব কার্যকর। তবে মনে রাখা জরুরি, কফি কিন্তু সানস্ক্রিন বা গ্লুটাথিয়নের বিকল্প নয়।
ব্যবহার যে ভাবে
বাজারে এখন অসংখ্য প্রসাধনী, রূপচর্চার সামগ্রীতে কফি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফেসওয়াশ, স্ক্রাবার, আন্ডারআই ক্রিম, ময়শ্চারাইজ়ার, বডি বাটার— প্রায় সব কিছুরই ‘কফি স্পেশাল’ প্রডাক্ট মিলছে। এই সামগ্রীগুলির গন্ধ যেমন সুন্দর হয়, তেমনই কাজেও আসে। তবে কেনার সময়ে সেই ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা রয়েছে, তা যাচাই করে কিনুন। ডার্মাটোলজিক্যাল ব্র্যান্ডের পণ্যও কিনতে পারেন।
মৃত কোষ পরিষ্কারে
ত্বকের যত্নে একটি অত্যন্ত জরুরি ধাপ হল এক্সফোলিয়েশন অর্থাৎ মৃত কোষ পরিষ্কার করা। বাজারে এখন নানা ধরনের অত্যাধুনিক স্ক্রাব মেলে। তবে ঘরোয়া ভাবে এক্সফোলিয়েট করতে হলে কফি বেশ উপকারী। কফি-বীজের গুঁড়ো প্রাকৃতিক স্ক্রাবের মতো কাজ করে। এমন স্ক্রাব বানাতে এক কাপ কফি বীজের গুঁড়োর সঙ্গে আধ কাপ চিনি এবং আধ কাপ নারকেল তেল মিশিয়ে নিতে হবে। ইচ্ছে হলে এক চামচ লেবুর রস বা ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্টও মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এই স্ক্রাবটি গায়ে ভাল ভাবে মালিশ করে নিতে হবে। তার পর মিশ্রণটি হালকা হাতে ত্বকের উপরে মালিশ করলে ত্বকে জমে থাকা ধুলো-ময়লা ও মৃত কোষ পরিষ্কার হয়ে যাবে। মুখের জন্য এমনই একটি স্ক্রাব বানানো যায়। সে ক্ষেত্রে আধ চামচ কফি বীজের গুঁড়োর মধ্যে আধ চামচ ওটস্ আর আধ চামচ দুধ মিশিয়ে নিতে হবে। অল্প অ্যালোভেরা জেলও মেশানো যায়। স্ক্রাবটি মুখে ভাল ভাবে হালকা হাতে মালিশ করে নিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
সপ্তাহে এক থেকে তিন বার এই স্ক্রাব ব্যবহার করা যায় নিশ্চিন্তে। একটু বেশি করে বানিয়ে নিয়ে ফ্রিজেও রেখে দিতে পারেন। স্ক্রাবিংয়ের পরে অবশ্য ময়েশ্চরাইজ়ার লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন রূপচর্চা বিশেষজ্ঞেরা।
চোখের ফোলা ভাব দূর করতে
দীর্ঘ দিন ধরে রাতে জেগে থাকার অভ্যাস, কাজের অতিরিক্ত চাপ কিংবা অত্যধিক স্ক্রিন-টাইম, সাধারণত এই সকল কারণে চোখের তলায় কালি দেখা দেয়। বেশ কিছু কারণে চোখের তলায় ফোলা ভাবও তৈরি হয়। সময় থাকতে যত্ন না নিলে ডার্ক সার্কল বাড়তেই থাকে।
রূপ বিশেষজ্ঞ মৌসুমি জানাচ্ছেন, এই ক্ষেত্রেও কফি কাজে লাগানো যেতে পারে। আন্ডারআই ক্রিমের সঙ্গে কফি মেশালে সেটির মধ্যে থাকা ক্যাফেন রক্তনালিকে সাময়িক সংকুচিত করতে পারে। এর ফলে ফোলা ভাব কমে। বাজারে ‘কফি স্পেশাল’ আন্ডার আই-প্যাচ মিলবে। তা ছাড়া বাড়ি বসেই বানিয়ে নেওয়া যায় কফি আইপ্যাচ বা আন্ডার আইপ্যাক।
এই প্যাক বানাতে ১ চামচ কফি গুঁড়োর সঙ্গে ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল আর ১ চামচ ভিটামিন ই তেল ঘন ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি চোখের তলায় হালকা হাতে লাগিয়ে নিতে হবে। ২০-২৫ মিনিট রেখে ঈষদুষ্ণ গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
২ চামচ কফি গুঁড়োর সঙ্গে একটি ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিতে হবে ভাল করে। মাস্কটি মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট মতো রেখে মুছে বা ধুয়ে নিতে হবে।
আন্ডার আইপ্যাচ বাড়িতে বানাতে, প্রথমে কিছুটা ব্ল্যাক কফি বানিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। অল্প অল্প করে তুলো নিয়ে ওই কফিতে ডুবিয়ে নিয়ে সেগুলি চোখের নীচে কিংবা চোখের পাতায় রাখতে হবে ১৫ মিনিট মতো। পরে ঈষদুষ্ণ গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ট্যান তুলতে
ত্বকের ট্যান তুলতে নানা ধরনের প্রডাক্ট ব্যবহার করতে অভ্যস্ত আমরা। অনেকে বহু খরচ করে ট্যান রিমুভ ট্রিটমেন্টও করান। তবে কফি দিয়ে ঘরোয়া উপায়েও ট্যান তোলা যায়। রইল এমন কিছু মাস্কের হদিস—
দু’চামচ কফি গুঁড়োর মধ্যে দু’চামচ দই মিশিয়ে নিতে হবে। মুখে প্যাকটি ভাল ভাবে লাগিয়ে নিয়ে ১০ মিনিট মতো রেখে দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
১ চামচ কফির সঙ্গে ১ চামচ চাল গুঁড়ো, টোম্যাটোর রস আর অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে ১৫ মিনিট মতো লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিলেও উপকার মিলবে। এ ছাড়াও, গ্লিসারিন আর মধুর সঙ্গে কফি মিশিয়ে মাখলে ত্বকের আর্দ্রতা ও জেল্লা বাড়ে।
মনে রাখা জরুরি, এই ধরনের প্যাক বা স্ক্রাব ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চার জন্য আদর্শ। তবে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা, এবং যে কোনও প্যাক বা স্ক্রাব ব্যবহারের পরে ময়শ্চারাইজ়ার ব্যবহার করা আবশ্যিক।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে