CIMA Art gallery Exhibition

জীবনের খণ্ড-বিখণ্ড চিত্র, নারীশক্তি ও তার প্রতিবাদের ভাষাকে ক্যানভাসে মূর্ত করলেন শিল্পী, তুলে ধরল সিমা

সিমা আর্ট গ্যালারিতে শুরু হল চিত্রশিল্পী জয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দ্য রেট্রোস্পেকটিভ (১৯৮২-২০২৫)’। শিল্পীর জীবনবোধ ও তাঁর শিল্পকর্মের দীর্ঘকালীন রূপান্তরের ছায়া এই প্রদর্শনীতে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ২২:৪২
Share:

শিল্পী জয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের শিল্পকর্মের প্রদর্শনী সিমা আর্ট গ্যালারিতে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

জীবন থেকে উঠে আসা খণ্ড-বিখণ্ড চিত্র। কোথাও অতীতের স্মৃতি রোমন্থন, কোথাও বর্তমান সময়ের অস্থিরতা। সুখস্মৃতির সঙ্গেই দুঃখ, আবেগের পাশে প্রতিবাদ, অসহায়তা থেকে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ রং-তুলিতে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। নারীজীবনের নানা অধ্যায়কে নিজের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন চিত্রশিল্পী জয়া গঙ্গোপাধ্যায়। শিল্পীর ভাবনা তাই বাস্তববোধেরও ঊর্ধ্বে উঠেছে। সময়ের চেয়ে যা অনেকটাই এগিয়ে। সেই ভাবনাকেই ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছে সিমা গ্যালারি। সেখানে কল্পনা, বাস্তব, বিস্ময়, বিশ্বাস, আশা-হতাশা— সব মিলেমিশে তৈরি হয়েছে অন্য রকম এক জগৎ।

Advertisement

সিমা আর্ট গ্যালারিতে চিত্রশিল্পী জয়া গঙ্গোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র।

সিমা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘দ্য রেট্রোস্পেকটিভ (১৯৮২-২০২৫)’। চিত্রশিল্পী জয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের নানা ছবিকে ঘিরেই এই প্রদর্শনী। শুক্রবার সন্ধ্যায় ছিল প্রদর্শনীর সূচনা। চলবে ১৩ জুন অবধি।

মানুষের অন্তর্জগতকে ক্যানভাসে মূর্ত করেন চিত্রশিল্পী জয়া। তাঁর শিল্পকর্ম জীবনের কথা বলে। লড়াইয়ের পথ দেখায়। সেখানে ভালবাসা, আবেগ এবং লড়াই— সমান্তরাল পথে চলে। জয়ার শিল্পকর্মের বেশির ভাগটাই জুড়ে রয়েছে নারীজীবনের নানা ভাঙাগড়ার আখ্যান। কখনও তা কোমল, সরল, অসহায়, আবার কখনও ঋজু, স্পষ্টবক্তা, প্রতিবাদী— আত্মনির্ভর স্বাধীন পথের অধিকারিণী।

Advertisement

নিজস্ব চিত্র।

চিত্রশিল্পী জয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবির প্রদর্শনী থেকে। নিজস্ব চিত্র।

শিল্পী তাঁর নিজের শিল্পকলাতেই বিবর্তন ঘটিয়েছেন এক আশ্চর্য উপায়ে। কখনও তিনি দেখিয়েছেন নারীর কোলে মাথা রেখে বিশ্রামরত পুরুষের ছবি। নারী সেখানে আশ্রয়দাত্রী। মাতৃস্বরূপা। কোথাও সে নিজেকে সাজাচ্ছে সুন্দর করে। সেখানেই তাঁর আত্মপ্রেমেরই প্রতিফলন। ধীরে ধীরে এ ছবিরই বিবর্তন ঘটেছে। তাঁর ক্যানভাসে শরীর আর আস্ত থাকেনি। সেখানে জায়গা করে নিয়েছে খণ্ডিত মানবদেহের রূপ, দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ধড়, ভেঙে যাওয়া শ্রোণিদেশ, একে অপরের সঙ্গে মিশে যাওয়া শরীর ও আকারহীন মুখমণ্ডল। শোষণ, নির্যাতনের এক প্রগাঢ় রূপ দেখা গিয়েছে সেখানে। এখানেই থেমে থাকেননি শিল্পী। সেই ছিন্নভিন্ন সত্তাগুলিকে জুড়ে প্রতিবাদের রবও তুলেছেন। তাঁর তুলিতে দেবী কালীর রূপ ও তৃতীয় নয়ন নারীর ক্ষমতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞারই নির্দেশক।

নিজস্ব চিত্র।

ছবিতে ফুটে ওঠা জীবনবোধ, ভাঙাগড়ার লড়াই তাঁর নিজের জীবন থেকেই নেওয়া— এমনই জানিয়েছেন শিল্পী। জয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘শিল্পের ভাবনা নিজের জীবন থেকেই উঠে এসেছে। সুখ-দুঃখ, লড়াইয়ের কথা কেউ আর পাঁচজনকে বলে শান্তি পায়, আমি তা-ই ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলি। আমার ছবিই হল আমার ভাষা। জীবনের নানা অধ্যায়কে বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়েছি।’’

নারী জীবনের নানা অধ্যায় ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী। নিজস্ব চিত্র।

সিমা আর্ট গ্যালারিতে শিল্পী জয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবির প্রদর্শনীতে গুণিজনেরা। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব চিত্র।

মানবচেতনা নিরন্তর বিবর্তিত ও সম্প্রসারিত হয়ে চলে। এ যেন দুই স্রোতের সমান্তরাল বয়ে চলা। এক স্রোত চায় নারীর প্রাপ্য সম্মান, অধিকার, ক্ষমতা। অপরটি চায়, নারীর মূক, প্রতিবাদহীন দাসত্ব। জন্মকাল থেকে পরিণত বয়ঃক্রম পর্যন্ত নারীর এই নিরন্তর লড়াই ও উত্তরণের পথটিই নিজের চেতনার রঙে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী। এখানেই তাঁর কাজ স্বাতন্ত্র্যের দাবি রখে।

নিজস্ব চিত্র।

এই প্রদর্শনীটি শিল্পীর প্রায় চার দশকের কঠোর পরিশ্রম ও নিরলস শিল্প সাধনার ফল, জানালেন সিমা আর্ট গ্যালারির অধিকর্তা রাখী সরকার। তিনি বলেন, ‘‘প্রদর্শনীটি দিল্লির ‘আর্ট ম্যাগনাম’ –এর সহযোগিতায় শুরু হয়েছিল। প্রথমে দিল্লিতে প্রদর্শিত হওয়ার পর এটি মুম্বই ঘুরে অবশেষে শিল্পীর নিজের শহর কলকাতায় পৌঁছেছে। এই প্রদর্শনীতে শিল্পীর কলেজ জীবন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁর কাজের শৈল্পিক রূপান্তর দেখা সম্ভব হবে। কলেজের দিনগুলিতে জয়া কেমন কাজ করতেন এবং সময়ের সঙ্গে তাঁর চিন্তাধারায় কী পরিবর্তন এসেছে, তা এখানে স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement