Bizarre

কখনও ভেবে দেখেছেন, সেফটি পিনের নীচের অংশটি গোলাকার হয় কেন?

মহিলাদের ব্যাগে সেফটি পিনের উপস্থিতি যেন অনিবার্য। রাস্তাঘাটে কখন কাজে লেগে যায়, কে-ই বা বলতে পারে! খেয়াল করে দেখবেন, এই সেফটি পিনের একেবারে শেষ প্রান্তটি গোলাকার হয়। কী তার উপযোগিতা, জানেন?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৫
Share:

সেফটি পিনের নীচের ছিদ্রটির কাজ কী? ছবি: সংগৃহীত।

সেফটি পিন, মহিলাদের জীবনে এই জিনিসটির কোনও বিকল্প নেই। জামার সেলাই খুলে গেলে, কোনও কিছু আটকে রাখতে, চটি ছিঁড়ে গেলে, এমনকি পায়ে কাঁটা ফুটে গেলেও সবচেয়ে বেশি কাজে আসে সেফটি পিন। আগে মা-ঠাকুরমাদের হাতের দিকে তাকালেই চুড়িতে দেখা মিলত সেফটি পিনের। এখন ছবিটা বদলেছে কিছুটা। মহিলাদের ব্যাগে সযত্নে জায়গা করে নিয়েছে সেফটিফিন। রাস্তাঘাটে কখন কাজে লেগে যায়, কে-ই বা বলতে পারে! খেয়াল করে দেখবেন, এই সেফটি পিনের একেবারে শেষ প্রান্তটি গোলাকার হয়। কী তার উপযোগিতা, জানেন?

Advertisement

কারণ জানতে হলে একটু ইতিহাস জানতে হবে। পোশাক আটকানোর প্রাচীন এক যন্ত্রের নাম টগল পিন। ধারণা করা হয়, এটি প্যালেস্টাইনে নিয়ে গিয়েছিল প্রাচীন মিশরের প্রথম বৈদেশিক শাসক গোষ্ঠী হিকসসেরা। টগল পিনের একপ্রান্তে থাকত একটি ছোট লুপ বা ছিদ্র। লুপের মধ্যে দড়ি বা সুতো ঢুকিয়ে পিনের এক প্রান্ত পোশাকে বাঁধা হত আর অন্য প্রান্ত আটকে দেওয়া হত পোশাকের আরেক অংশ ভেদ করে। আরেক ধরনের প্রাচীন যন্ত্র হল ফিবুলা, যা দেখতে অনেকটা ব্রোচের মতো। গ্রিসের পেলোপনেসাস অঞ্চলে মাইসেনীয়রা খ্রিস্টপূর্ব ১৪–১৩ শতকের মধ্যে এটি তৈরি করেছিল। ব্যবহারে অনেকটা সেফটি পিনের মতো হওয়ায় ফিবুলাকে সেফটি পিনের পূর্বসূরি বলা হয়। তখন গ্রিক নারী-পুরুষ উভয়েই টিউনিক (ঢিলেঢালা পোশাক বিশেষ) আটকাতে ফিবুলা ব্যবহার করতেন।

আধুনিক সেফটি পিন তৈরি করেছিলেন আমেরিকার যন্ত্রপ্রকৌশলী ওয়াল্টার হান্ট। ১৮৪৯ সালে তাঁর তৈরি করা সেফটিপিনে এমন একটি কীলক (উপরের লুপ) ছিল, যা সুচালো মাথা ঢেকে রাখত এবং পিন খুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমাত। হান্টের নকশা করা সেফটি পিনের নীচের দিকে বাঁকানো অংশে ছিল একটি লুপ, যা স্প্রিংয়ের মতো কাজ করে পিনটিকে জায়গায় ধরে রাখে।

Advertisement

ব্যবহারিক দিক থেকেও সেফটি পিনের নীচের ছিদ্রটির ভূমিকা রয়েছে। সেফটি পিন দিয়ে কিছু আটকানোর সময়ে সেই চাপ আসলে ক্লিপের উপরে গিয়েই পড়ে। গোল ছিদ্রটিই সেই চাপকে ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। তার ফলে অতিরিক্ত চাপ পড়লেও পিনটি বেঁকে যায় না। স্রষ্টা ওয়াল্টার ঠিক এই ভাবেই সেফটি পিন তৈরি করেছিলেন। তার পর এতগুলি বছর কেটে গেলেও এই যন্ত্রটির নকশা বদলানোর কখনও প্রয়োজন পড়েনি। ওয়াল্টারের বুদ্ধিদীপ্ত নকশার কারণে এখনও সেফটি পিনের কদর কমেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement