সজনেগাছ কী ভাবে বড় করবেন টবেই? ছবি: সংগৃহীত।
গরমের আবহাওয়ায় যে সব গাছ ভাল হয়, তার মধ্যে একটি হল সজনে। এই গাছের ডাঁটা থেকে পাতা, ফুল— সবটাই খাওয়া হয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর সজনে এখন বিশ্বের দরবারে পরিচিত মোরিঙ্গা নামে।
এমনিতে এই গাছ বেশ বড় হয়। তবে স্বল্প পরিসরে, ছাদ-বাগানেই সজনে ফলানো যেতে পারে। মার্চ-এপ্রিলে এই গাছ বসানোর ভাল সময়। জেনে নিন পরিচর্যার নানা ধাপ। কী ভাবেই বা মাটি প্রস্তুত করবেন।
১। নার্সারি থেকে ভাল জাতের চারা কিনতে পারেন, আবার বীজ ছড়িয়েও চারা তৈরি হতে পারে। ডাল পুঁতেও গাছ করা যেতে পারে। এমন প্রজাতির চারা বেছে নিন যা টবে বসানোর জন্য আদর্শ। বীজ পুঁততে হলে ১০-১২ ঘণ্টা তা জলে ভিজিয়ে নিন। বীজ নরম হলে মাটি খুঁড়ে পুঁতে দিতে হবে। উপর থেকে জল দিয়ে হালকা রোদ আসে এমন স্থানে টব রাখুন।
২। ছাদ-বাগানের জন্য গাছ করতে হলে ৪০ শতাংশ মাটি, ২০ শতাংশ ভার্মিকম্পোস্ট, ২০ শতাংশ বালি, ২০ শতাংশ কোকোপিট মিশিয়ে নিন। ছোট চারা হলে ১০-১২ ইঞ্চির টবই যথেষ্ট। তবে গাছ বড় হলে ২০ লিটারের জলের ড্রাম বেছে নিতে পারেন। তার নীচে কয়েকটি ছিদ্র করে নিন।
৩। জল দেওয়ার সময়ে মাটির উপরিভাগ পরীক্ষা করে নিন। মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিতে হবে। মাটির গোড়া ভিজে থাকলে, শিকড় পচে যেতে পারে। যেহেতু এই গাছ তাপ সহনশীল, তাই চারা বড় হলে রাখতে হবে রোদে।
৪। গাছ বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ পেলে এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই ফলন হবে। টবের গাছকে আয়ত্তে রাখতে চাইলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এর ডালপালা ছাঁটা জরুরি। না হলে গাছ অতিরিক্ত লম্বা হয়ে যাবে।
৫। গাছ বড় হতে শুরু করলে গোড়ার মাটি খুঁড়ে দিন। সেখানে প্রয়োগ করুন মিশ্র জৈব সার। তিন ভাগ পাতা-পচা সারের সঙ্গে এক ভাগ নিম খোল, এক ভাগ সর্ষে খোল, হাড়ের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। কয়েক মাস অন্তর গাছের বৃদ্ধি কেমন হচ্ছে বুঝে সার প্রয়োগ জরুরি।
গাছ বেড়ে ওঠার সময়ে পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে কি না, পোকামাকড়ের আক্রমণ হচ্ছে কি না, নজর রাখুন। প্রয়োজনমতো কীটনাশক প্রয়োগ করতে হতে পারে।