—প্রতীকী চিত্র।
কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির দুনিয়ায় শোরগোল। উল্কার গতিতে সেখানে উত্থান ঘটেছে অ্যানথ্রোপিকের। ফলে চ্যাটজিপিটির বাজার টলমল! এই পরিস্থিতিতে গ্রাহক টানতে খরচ কমানোর চিন্তাভাবনা করছে এআই চ্যাটবটটির নির্মাণকারী সংস্থা ওপেনএআই। যদিও এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি সংশ্লিষ্ট মার্কিন টেক জায়ান্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অচিরেই চ্যাটজিপিটির সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানে বড় বদল আনবে ওপেনএআই। তখনই টোকেনের দাম কমাবে ওই মার্কিন টেক জায়ান্ট। এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক আলোচনা সেরে ফেলেছে সংস্থার পরিচালন পর্ষদ। যদিও মাসিক ভাড়া কতটা কমতে চলেছে, তা জানা যায়নি।
টোকেন হল এআই ব্যবহারের একটি পরিমাপের একক। এর মাধ্যমে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির সাহায্যে একজন ব্যবহারকারী একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কী কী তৈরি করছেন, তা বুঝতে পারে নির্মাণকারী সংস্থা। এর উপর ভিত্তি করেই গ্রাহকের থেকে টাকা নিয়ে থাকে তারা। তৈরি হয় প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশান প্ল্যান।
ওপেনএআইয়ের মতো কৃত্রিম মেধা সংস্থাগুলি সমস্ত ব্যবহারকারীদের সীমিত সংখ্যক টোকেন দিয়ে থাকে। সেই কোটা অতিক্রম করলে টাকা দিয়ে প্রযুক্তিটি ভাড়া নিতে হয় তাঁদের। তবে গ্রাহক ইচ্ছা করলে টোকেনের কোটা রিসেট হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমানে ওপেনএআইতে রয়েছে চারটি সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান। সেগুলি হল, ফ্রি, গো, প্লাস এবং প্রো। এর মধ্যে গো প্ল্যানটিই সবচেয়ে সস্তা। এর মাসিক খরচ ৩৯৯ টাকা থেকে শুরু। গত বছর (২০২৫ সাল) ভারতীয়দের এক বছরের জন্য বিনামূল্যের সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান চালু রেখেছিল চ্যাটজিপিটির নির্মাণকারী সংস্থা।
তবে ওপেনএআইয়ের বেশ কিছু দামি প্ল্যানও চালু রয়েছে। সেগুলি মূলত গবেষক বা প্রযুক্তি নির্মাণকারীরা ব্যবহার করে থাকেন। এর জন্য মাসে মাসে ১০,৬৯৯ টাকা পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হয় তাদের। এই সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান সস্তা হওয়ার সম্ভাবনা কম। শুধুমাত্র চ্যাটজিপিটির খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে মার্কিন টেক জায়ান্ট।
২০১৫ সালে চ্যাটজিপিটিকে বাজারে আনে ওপেনএআই। খুব অল্প দিনের মধ্যে আমজনতার মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এই এআই চ্যাটবট। ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরের শেষে মার্কিন টেক জায়ান্টটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৫,০০০ কোটি ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৮১.৪৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যানথ্রোপিক। এ বছরের মার্চের শেষে তাদের বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬,৫০০ কোটি ডলার।