—প্রতীকী ছবি।
এসি না কুলার, কলকাতার গরমে কোনটা বেশি কার্যকর? এ ব্যাপারে নানা মুনির নানা মত। তবে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তিলোত্তমা বা তার আশপাশের এলাকাগুলিতে কুলারের চেয়ে অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে এসি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের এই দুই যন্ত্রের মধ্যে কে এগিয়ে? আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
ঘর ঠান্ডা করতে গঙ্গাপারের শহরবাসীর কুলারের জায়গায় এসিকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, কলকাতার গরমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল আপেক্ষিক আর্দ্রতা। তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী হলেই প্যাচপেচে ঘামে ভিজে যায় শরীর। ফলে দ্রুত কাহিল হয়ে পড়ে তিলোত্তমার নাগরিক সমাজ।
গরমকালে কলকাতায় আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করে থাকে। এই আবহাওয়ায় ঘরের তাপমাত্রা নামাতে কুলার আদর্শ নয়। কারণ, মূলত বাষ্পীভবন পদ্ধতিতে কাজ করে সংশ্লিষ্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্র। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকলে যার পক্ষে পারদ নামানো অসম্ভব।
ঘরের তাপমাত্রা হ্রাসে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কুলার কাজ করে থাকে। যন্ত্রটির ভিতরে থাকে ভেজা প্যাড। এর মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কারণে ঠান্ডা হয়ে যায় গরম ও শুষ্ক বাতাস। কিন্তু সমস্যা হল, আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি হওয়ার কারণে কলকাতার বাতাসে থাকে প্রচুর জলীয় বাষ্প। ফলে ভেজা প্যাডের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় আরও বেশি আর্দ্রতা সঞ্চয় করে ফেলে সেই বায়ু।
আর তাই গঙ্গাপারের শহরে কুলার ব্যবহারে আরও বেড়ে যায় ঘরের আর্দ্রতা। ঠান্ডা লাগার বদলে তৈরি হয় চ্যাটচেটে অস্বস্তি। অন্য দিকে তাপমাত্রার পাশাপাশি ঘরের আপেক্ষিক আর্দ্রতাও কমিয়ে দেয় এসি। সেই কারণেই কলকাতাবাসী কুলারের বদলে এয়ার কন্ডিশনারকেই বেশি পছন্দ করে থাকেন।
দিল্লি, রাজস্থান বা বিদর্ভের মতো জায়গায় আবার দুর্দান্ত কাজ করে কুলার। পশ্চিমবাংলার পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও এই যন্ত্রটির বেশ চাহিদা রয়েছে। কারণ, এই সমস্ত এলাকার বাতাস বেশ শুষ্ক। ফলে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণও অনেকটাই কম।
তবে কলকাতায় কখনওই কুলার ভাল কাজ করবে না, একথা ভাবলে ভুল হবে। ঘরের জানলা খোলা থাকলে এবং ক্রস ভেন্টিলেশন বা আড়াআড়ি ভাবে বাতাস খেলে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া গেলে, কুলার কার্যকরী হতে পারে। খোলা বারান্দা বা খোলা ছাদেও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রটি গরম থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক।
কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে শুষ্ক গরম বাতাস বইতে দেখা যায়। আবহবিদেরা যার নাম দিয়েছেন ‘লু’। বিশেষজ্ঞদের কথায়, ওই সময় ঘরের তাপমাত্রা কমাতে তিলোত্তমাতেও দিব্যি ব্যবহার করা যেতে পারে কুলার। তা ছাড়া এসি কেনার সামর্থ্য না থাকলে আরও একটি ভাবে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রটিকে ব্যবহার করা যেতে পারে। কুলারের মধ্যে বরফ ব্যবহার করলে ঘর কিন্তু অনেকটাই ঠান্ডা হয়ে যাবে, বলছেন প্রযুক্তিবিদেরা।