Ram Kapoor’s high-tech Home Decor

গোটা বাড়ি নিয়ন্ত্রিত হয় চাবি ছাড়াই, মেজাজ অনুযায়ী বদলায় আলো, প্রযুক্তিনির্ভর অন্দরসজ্জা রাম-গৃহে!

রাম কপূরের মুম্বইয়ের বাড়ির গল্পটা অন্যান্য বাড়ির থেকে একটু হলেও আলাদা। এখানে শুধু দামি সাজসজ্জা নয়, প্রযুক্তি আর ব্যবহারিক বুদ্ধির মিশেলেই তৈরি হয়েছে অত্যাধুনিক, কিন্তু আরামদায়ক বাড়ি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩৯
Share:

রাম-গৃহে তাকলাগানো অন্দরসজ্জা। ছবি: ইউটিউব।

স্যাংচুয়ারি বা পরিবারের নিভৃতবাস— নিজের বাড়িকে এমনই আখ্যা দিতে চান হিন্দি সিরিয়ালের অভিনেতা রাম কপূর। স্ত্রী গৌতমী কপূর এবং দুই সন্তানের জন্য বাড়ি সাজিয়েছেন নিজে হাতে। অন্দরসজ্জার প্রস্তুতির সময়ে দেড় বছর কাউকে ঢুকতে দেননি রাম, যাতে বাড়ি প্রস্তুত হওয়ার পর পরিবারের বিস্ময়কে চাক্ষুষ করতে পারেন তিনি। নিন্দুকেরা প্রশ্ন করতেই পারেন, ‘‘একখানি বাড়িই তো, এত বিস্ময়ের কী রয়েছে?’’ রামের গৃহে প্রযুক্তির ছোঁয়া তাক লাগাতে পারে অনেককে।

Advertisement

বসার ঘর। ছবি: ইউটিউব

রামের মুম্বইয়ের বাড়ির গল্পটা অন্যান্য বাড়ির থেকে একটু হলেও আলাদা। এখানে শুধু দামি সাজসজ্জা নয়, প্রযুক্তি আর ব্যবহারিক বুদ্ধির মিশেলেই তৈরি হয়েছে অত্যাধুনিক, কিন্তু আরামদায়ক ঘর।

খাওয়ার ঘর (বাঁ দিক), বাইরের দরজা (ডান দিকে উপরে), ঘর থেকে সমুদ্রের দৃশ্য (ডান দিকে নীচে) ছবি: ইউটিউব

প্রযুক্তির শুরু দরজার বাইরে থেকেই। এই বাড়ির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হল প্রবেশপথ। এখানে সাধারণ তালা নেই, চাবিও নেই। ‘ফেস রিকগনিশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দরজা খুলে যায়। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের মুখ চিনে নিজে নিজেই দরজা খুলে যায়। আবার ঘরে ঢুকে পড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দরজা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়। বাইরে থেকেও মোবাইলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এই প্রযুক্তি।

Advertisement

বসার ঘর। ছবি: ইউটিউব

প্রথম দু’টি ঘর মূলত অতিথিদের জন্য। মিটিং, শুটিং, ফোটোশুট, চিত্রনাট্য পড়া ইত্যাদির জন্য বানানো হয়েছে বাইরের ঘর। সেখানে আবার হোম থিয়েটারও বানানো রয়েছে। স্মার্ট টেলিভিশনের বড় পর্দার নীচে ও পাশে দু’টি করে স্পিকার এবং দর্শকাসনের পিছনেও রয়েছে একই যন্ত্র। কেবল অতিথিরা নন, রাম-গৌতমী এবং তাঁদের সন্তানেরা সেই ঘরে বসে সিনেমা দেখেন। বিভিন্ন আমেজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন আলোকসজ্জা রয়েছে সে ঘরে। সিনেমা দেখার সময়ে টিমটিমে আলো, পপকর্ন খাওয়ার সময়ে আর একটু আলোকোজ্জ্বল, সিনেমা শেষ হওয়ার পর অন্য আর এক আলোয় ভরে ওঠে ঘর।

হোম থিয়েটার। ছবি: ইউটিউব

মস্ত এক জিম বানিয়েছেন রাম। বাড়ির মধ্যেই সমস্ত বন্দোবস্ত রয়েছে। ওজন ঝরানোর পর থেকে রাম ফিটনেস সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। তাই নিজেরই বাড়িতে সমস্ত রকম যন্ত্রপাতি নিয়ে একটি জিম বানিয়েছেন তিনি। যাতে যখন-তখন শরীরচর্চা করতে পারেন ঘরের সবাই।

বাড়ির জিম। ছবি: ইউটিউব

এতে শুধু নিরাপত্তাই নয়, বাড়তি সুবিধাও মিলছে। চাবি হারানোর চিন্তা নেই, সব কিছু স্মার্ট। পুরো বাড়ি যেন এক স্মার্ট সিস্টেম দিয়ে বাঁধা। এই বাড়ির প্রায় সব কিছুই অটোমেশন নির্ভর। স্মার্ট লাইটিং, মোটরচালিত পর্দা, মোশন সেন্সর রয়েছে সর্বত্রই। রাতে কেউ এ ঘর-ও ঘর করলে নিজে থেকে আলো জ্বলে ওঠে, ঘর থেকে বেরোলেই তা নিভে যায়। অটোমেশনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্দা খুলে যায়, বন্ধও হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রযুক্তি এখানে শুধু বিনোদন নয়, দৈনন্দিন জীবন সহজ করার জন্যও ব্যবহার করা হয়েছে।

সুরা রাখার তাক। ছবি: ইউটিউব

এই বাড়ির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য, উচ্চমানের প্রযুক্তি নির্ভর হওয়া সত্ত্বেও বাহুল্যবর্জিত সাজে সজ্জিত গোটা বাড়ি। বেইজ, বাদামি, তামাটে রঙের ব্যবহার, প্রাকৃতিক টেক্সচার, লুকোনো আলমারির ব্যবস্থা, মদের বোতলের গোছানো আলমারি— অর্থাৎ বাড়ি দেখতে ঝকঝকে, কিন্তু কোথাও অতিরিক্ত কিছু নেই। সব কিছুই ব্যবহারযোগ্য। আর মস্ত বসার ঘরের এক প্রান্তে রয়েছে গোলাকার এক জানালা, যা দিয়ে বিরাট আকাশ এবং আরব সাগর দৃশ্যমান। এই বাড়ির আসবাবপত্র আনা হয়েছে ইটালি থেকে এবং আলোকসজ্জার আমদানি হয়েছে জার্মানি থেকে। এমএফ হুসেনের আঁকা থেকে শুরু করে চক-পেনসিল স্কেচে সাজানো রাম-গৌতমীর বাড়ির দেওয়ালগুলি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement