ঘর সাজানোর সহজ পন্থা। ছবি: সংগৃহীত।
ঘর অগোছালো হয়ে গিয়েছে? বা একঘেয়ে লাগছে? অমনি কাঠের মিস্ত্রি বা রঙের মিস্ত্রির হাঁক পড়ে গেল বাড়িতে। কিংবা বড়সড় বদলের জন্য উঠেপড়ে লেগে পড়লেন। শুরু হল কেনাকাটা। কিন্তু সব সময়ে বড়সড় খরচ করে নতুন জিনিস কিনলেই যে ঘর সুন্দর হয়ে যাবে, তার মানে নেই। খুব সহজ একটি পদ্ধতিতেই ঘরের চেহারা একেবারে বদলে যেতে পারে। তার জন্য জানতে হবে ‘৫-৫-৫’ নিয়ম।
এই পদ্ধতির মূল কথা হল, ঘরকে নতুন করে সাজাতে বা গোছাতে বড় পরিবর্তন নয়, ছোট ছোট বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্তই যথেষ্ট। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।
ঘরকে নতুন করে সাজাতে বা গোছাতে কোন নিয়ম মানবেন? ছবি: সংগৃহীত
কী এই ‘৫-৫-৫’ পদ্ধতি?
প্রথম ধাপ— ৫টি জিনিস বাছাই করুন: ঘরের এমন পাঁচটি জিনিস বেছে নিন, যেগুলি আপনার প্রিয় বা ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। এই তালিকায় থাকতে পারে প্রিয় শো-পিস, বই, গাছ বা স্মৃতিবিজড়িত কোনও জিনিস। এই বাছাইয়ের ধাপ আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে, আপনি আসলে কী রাখতে চান।
দ্বিতীয় ধাপ— ৫টি জিনিস ফেলে দিন: এর পর ঘর থেকে পাঁচটি অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন। যেগুলি আর ব্যবহার করেন না বা শুধু জায়গা দখল করে আছে, সেগুলি বাদ দিন। এতে ঘর অনেকটাই ফাঁকা হবে।
তৃতীয় ধাপ— ৫টি জিনিস এনে রাখুন: সব শেষে, ঘরে নতুন করে পাঁচটি ছোট জিনিস যোগ করুন। এগুলিতে থাকতে পারে কুশন কভার, নতুন গাছ, ছোট ল্যাম্প, ছবি বা কোনও শো-পিস। খুব বড় কিছু না হলেও, এই ছোট পরিবর্তনই ঘরে নতুনত্ব আনে।
ঘর সাজানোর নয়া পদ্ধতি। ছবি: সংগৃহীত
কেন এই পদ্ধতি কার্যকর?
এই নিয়মের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি সহজ। অতিরিক্ত চাপ নিয়ে ঘর গোছানোর দরকার পড়ে না। একসঙ্গে পুরো ঘর বদলানোরও দরকার নেই, ছোট ছোট ধাপে পরিবর্তন করলেই হয়। চট করে অগোছালো ভাব কমে যায় এই পদ্ধতিতে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিলে জায়গা বাড়ে, আর প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি আরও ভাল ভাবে চোখে পড়ে। একটি ছুটির দিনেই অনেকটা কাজ এগিয়ে নিতে পারবেন। এতে খরচও কম হয়, আবার ঘরটিকেও সতেজ লাগে।
এই পদ্ধতির ফলে নিজের ঘরের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ তৈরি হতে পারে আপনার। আপনি বুঝতে পারেন, কোন জিনিসগুলি সত্যিই আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আর কোনগুলি শুধু জমে রয়েছে দিনের পর দিন। এই পদ্ধতিতে রান্নাঘর, শোয়ার ঘর, স্নানঘর বা বসার ঘর, সবই গুছিয়ে ফেলতে পারবেন।